ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আর দু’তিন সপ্তাহেই শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার স্থানীয় সময় বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সামরিক শক্তির উপর বিধ্বংসী আঘাত হেনেছে। খুব শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ হবে। ইরান আর দু’তিন সপ্তাহের বেশি লড়াই চালিয়ে নিয়ে যেতে অক্ষম।
ট্রাম্প বলেন, “আজ রাতে ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। সে দেশের বিমান বাহিনীও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ইরানের অধিকাংশ নেতাই এখন মৃত। ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’-এর কমান্ড এবং কন্ট্রোল ব্যবস্থা এই মুহূর্তে ধূলিসাৎ করা হচ্ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণের ক্ষমতাও এখন আর তত শক্তিশালী নেই। ইরানের অস্ত্র কারখানা ও রকেট লঞ্চারগুলি টুকরো টুকরো করে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, “মার্কিন অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের নৌবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করা এবং ওদের পরমাণু বোমা তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া।” ট্রাম্প জানান, সামরিক শক্তি হিসাবে আমেরিকা অপ্রতিরোধ্য। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ আমেরিকার শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি প্রকৃত বিনিয়োগ।’’
জাতির উদ্দেশ্যে তাঁর ভাষণে ইরানের পাশাপাশি ভেনেজ়ুয়েলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত গ্রেফতার করার অভিযানের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, “মাদুরোর গ্রেফতার অভিযান বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।” আমেরিকা ও ভেনেজ়ুয়েলার তেল উৎপাদন নিয়েও বার্তা দেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়ে দেন, আমেরিকার বিদেশ থেকে তেল কেনার প্রয়োজন নেই।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের উপর ইজ়রায়েল ও আমেরিকা বিমান হামলা (যার পোশাকি নাম যথাক্রমে ‘অপারেশন লায়নস রোর’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’) চালিয়েছিল। মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ বোমায় মৃত্যু হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, ৮৬ বছরের খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষনেতার। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের কোনও ‘চাপিয়ে দেওয়া শর্ত’ মানা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ইরানের নতুন নেতৃত্ব। ফলে ট্রাম্পের তরফে ইরানের দেওয়া ‘যুদ্ধবিরতির অনুরোধের’ দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই।