(বাঁ দিকে) আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে) — ফাইল চিত্র।
সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাত জনের। সেই আবহেই এ বার ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তা হলে চুপ করে বসে থাকবে না আমেরিকাও।
শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে যাঁরা শান্তিপূর্ণ ভাবে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাঁদের উপর যদি এ ভাবে হামলা চালানো হয়, তা হলে আমেরিকা তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘যদি ইরান নিরীহ বিক্ষোভকারীদের নির্মম ভাবে গুলি করে হত্যা করে, যেটা তাদের রীতি, তা হলে আমেরিকা তাদের বাঁচাতে আসবে। আমরা তৈরি রয়েছি। প্রয়োজনে আমরা যেতেও প্রস্তুত।’’
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মূল্যবৃদ্ধি, খরা, নারী অধিকার, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা সম্পর্কিত একের পর এক বিক্ষোভ কড়া হাতে দমন করেছে ইরান সরকার। অনেক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুও হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন অনেকে। তবে সপ্তাহখানেক আগে মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ইরানে। রাজধানী তেহরান-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি বেশ অশান্ত। রবিবার থেকে এখনও পর্যন্ত নিরাপত্তাবাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। লোর্ডেগান, কুহদাশত এবং ইসফাহান-সহ একাধিক জায়গা থেকে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর খবর এসেছে। নিহতদের মধ্যে এক নিরাপত্তাকর্মীও রয়েছেন। আহত অন্তত ২০ জন। বিক্ষোভ দমাতে ধরপাকড়ও শুরু হয়েছে। অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত জুন মাসে ইরান-ইজ়রায়েল সংঘর্ষে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছিল আমেরিকা। ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায় আমেরিকার সামরিক বাহিনী। সেই হামলার পর থেকে চাপে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক পরিকাঠামো। পাশাপাশি, পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের জেরে গত বছর থেকে ইরানের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে, ডিসেম্বরে ইরানে মুদ্রাস্ফীতি ৪২.৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। দ্রুত অবমূল্যায়ন হয়েছে ইরানের মুদ্রা রিয়াল-এরও। ১ ডলারের দাম এখন প্রায় ১৪ লক্ষ রিয়ালে এসে দাঁড়িয়েছে, গত বছর যা ছিল ৮ লক্ষ রিয়ালের কাছাকাছি। তার প্রতিবাদেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার দেশে। সেই আবহে এ বার ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিল আমেরিকা।