(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প। মারিয়া কোরিনা মাচাদো (ডান দিকে) — ফাইল চিত্র।
ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আমেরিকা বন্দি করার পর থেকেই আরও একবার আলোচনা শুরু হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটির বিরোধী দলনেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নিয়ে। ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ‘ট্রাম্প-পন্থী’ এই নেত্রী। অনেকের ধারণা ছিল, মাদুরো সরকারের পর ভেনেজ়ুয়েলার ক্ষমতার রাশ যেতে চলেছে তাঁরই হাতে। কিন্তু তেমনটা হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিজের দেশেই মাচাদোর পক্ষে যথেষ্ট জনসমর্থন নেই। এ বার মাচাদোও জানালেন, অক্টোবরের পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয়নি তাঁর। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার যে মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই পাওয়া উচিত ছিল, সে কথা আরও এক বার উল্লেখ করতে ভোলেননি ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী নেত্রী।
ভেনেজ়ুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলির আবহে এই প্রথম প্রকাশ্যে সাক্ষাৎকার দিলেন মাচাদো। সোমবার ফক্স নিউজ়কে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে মাচাদো বলেন, ‘‘আমি গত ১০ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, যে দিন নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তার পর থেকে ওঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ হয়নি।’’ ভেনেজ়ুয়েলায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আত্মগোপন করে থাকার পর গত মাসে নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন মাচাদো। এই মুহূর্তে তিনি রয়েছেন নরওয়ের অসলোতে। ফক্স নিউজ়কে মাচাদো জানিয়েছেন, শীঘ্রই দেশে ফিরবেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি।’’ পাশাপাশি, মার্কিন পদক্ষেপকে ‘মানবতা, স্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদার জন্য একটি বিশাল পদক্ষেপ’ হিসাবে স্বাগত জানিয়েছেন ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী নেত্রী।
মাচাদো বলেন, ‘‘যখন আমি জানতে পারি যে আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, তখনই আমি এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেটি উৎসর্গ করেছিলাম। কারণ, আমি বিশ্বাস করি যে তিনি এটির যোগ্য। অনেকেই বলছেন, গত ৩ জানুয়ারি ট্রাম্প যা করেছেন (কারাকাসে ঢুকে হামলা এবং মাদুরোকে বন্দি করা), তা অর্জন করা অসম্ভব।’’ মাচাদোর কথায়, তিনি এখনও বিশ্বাস করেন যে ট্রাম্পই নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য। সঙ্গে ৩ জানুয়ারি দিনটি শুধু ভেনেজ়ুয়েলার জন্যই নয়, বরং মানবতার জন্যও একটি মাইলফলক হিসাবে ইতিহাসে লেখা থাকবে বলে দাবি করেছেন মাচাদো। তিনি বলেন, ‘‘ন্যায়বিচারের কাছে স্বৈরাচারের পরাজয় হয়েছে!’’
ঘটনাচক্রে, অতীতে ভেনেজ়ুয়েলা নিয়ে ট্রাম্পের সমস্ত পদক্ষেপকে সমর্থন করে এসেছেন মাচাদো। ভেনেজ়ুয়েলায় কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটাতে সামরিক হস্তক্ষেপেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে, মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজ়ুয়েলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ বলে ভাবা হচ্ছিল তাঁকেই। তবে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাচাদোকে ক্ষমতায় বসানোর কথা ভাবছে না আমেরিকা। কারণ, নিজের দেশেই মাচাদোর যথেষ্ট জনসমর্থন বা সম্মান নেই। পরিবর্তে ভেনেজ়ুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেস সোমবার অন্তর্বর্তিকালীন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছেন।