কার্টুন দুনিয়ায় ‘হ্যালো কিটি’ ভীষণই জনপ্রিয় একটি চরিত্র। ছোট্ট সাদা লেজহীন এই মিষ্টি জাপানি মেয়ে বিড়ালটি অচিরেই ছোট-বড় সকলের মনেই স্থান করে নিয়েছে। আর যে দেশ এই বিড়াল চরিত্রের স্রষ্টা, সে দেশেই রয়েছে বিড়ালের রাজত্ব। তা আবার বিড়াল-প্রেমীদের জন্য স্বর্গও বটে!
জাপানের দক্ষিণ উপকূলে এক প্রত্যন্ত ও ছোট্ট দ্বীপ, আওশিমা— যা ‘বিড়াল দ্বীপ’ নামেই বেশি বিখ্যাত। যেখানে মানুষের থেকেও বিড়ালের সংখ্যা বেশি।
প্রায় ৩৮০ বছর আগে আওশিমা দ্বীপের পত্তন হয়েছিল। সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে থাকে জনবসতি। ১৯৪৫ সালে দেখা যায়, সব মিলিয়ে ৯০০ মানুষ বাস করেন ওই ছোট্ট দ্বীপে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অবসরপ্রাপ্ত, বয়স্ক লোকজন কাজের খোঁজে শহরের জনস্রোতে মিশে যেতে পারেননি। ফলে তাঁরা ওই দ্বীপেই রয়ে গিয়েছিলেন। সঙ্গে অবশ্য ছিল বিশাল মার্জার-বাহিনী।
এক দশক আগেও মাছ ধরেই জীবিকা অর্জন করতেন এই দ্বীপের বাসিন্দারা। মত্স্যজীবীদের মাছ ধরার নৌকায় ইঁদুরের আক্রমণ কমাতেই ওই সময় নিয়ে আসা হয়েছিল বিড়াল সেনাদের। তবে সেখানে থাকতে থাকতে বংশবৃদ্ধি করে রীতিমতো ফুলে ফেঁপে ওঠে বিড়ালের পরিবার।
এখনও অনেক পিছিয়ে আওশিমা। বিলাসব্যসনের কোনও রকম উপকরণই যে নেই সেখানে! পর্যটনের জন্যও উপযুক্ত নয় এই দ্বীপ। কারণ গাড়ি, রেস্তোরাঁ, শপিং মল, কিয়স্ক— এই সব কিছু সেখানে নেই। তবে এ সব না থাকলেও বিড়াল প্রেমীদের কোনও অভিযোগই নেই। তাঁরা দিব্যি আসেন এবং ঘুরে দেখে যান এই বিড়াল অধ্যুষিত দ্বীপ।
বিড়ালদেরও কোনও অসুবিধা নেই। নিজেদের রাজত্বে খেয়েপড়ে দিব্যি সুখেই আছে তারা। মণ্ডা-মিঠাই নয়। সাধারণ খাবার খেয়েই দিব্যি সাধারণ ভাবেই জীবন যাপন করছে তারা। সমগ্র দ্বীপেই তারা নির্ভয়ে বিচরণ করে। মানুষের থেকে বিড়াল সংখ্যায় বেশি হওয়ায় খাবার পেতেও সমস্যা হয় তাদের। ফলে ওই বিশাল বিড়াল বাহিনী মাঝে মাঝেই হিংস্র হয়ে ওঠে। বিড়াল সেনার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। এক জন জানালেন, এক বার এক বয়স্ক মহিলার বাগান খুঁড়ে গর্ত তৈরি করেছিল এক দল বিড়াল। সাধের বাগানের দুরবস্থা দেখেই রেগে গিয়ে তাদের মেরে তাড়ান ওই বৃদ্ধা।
বহু পর্যটক ঘুরে গিয়েছেন এই বিড়ালের রাজত্বে। সময়ের সঙ্গেই তাল মিলিয়ে বেড়েছে ভ্রমণপিপাসুর সংখ্যা। জলপথে মাঝে মধ্যেই পর্যটকদের আওশিমা দ্বীপে ঘোরাতে নিয়ে আসেন জাহাজের এক ক্যাপ্টেন। তিনি বলেন, “বিড়ালবাহিনী ছাড়া ওই দ্বীপে দেখার মতো কিছুই নেই। ফলে বিড়াল দেখানোর জন্য প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আমি পর্যটকদের নিয়ে এখানে আসি।”
২৭ বছর বয়সি বিড়াল-প্রেমী পর্যটক মাকিকো ইয়ামাসামি বলেন, “এখানে প্রচুর বিড়াল। এক সঙ্গে এত বিড়াল দেখার জন্যই বার বার এখানে বেড়াতে আসি।
পর্যটকরা এখানে বিড়াল দেখতে আসার ফলে আশার আলো দেখছেন বছর পঁয়ষট্টির স্থানীয় বাসিন্দা হিদেনরি কামিমোতো। পেশায় মত্স্যজীবী ওই বৃদ্ধ জানালেন, বিড়ালের টানে বহু পর্যটক এই দ্বীপে ঘুরতে আসছেন। এটা যথেষ্ট ভাল একটা দিক।
আর বিড়াল-প্রেমীরা এক বারের জন্য হলেও ঘুরে আসতেই পারেন এই ‘বিড়াল দ্বীপ’-এ!