পুজোর আগেই অশান্ত মন? শান্ত করে বাগে আনবেন কী ভাবে
অশান্ত মন শান্ত করার উপায় আছে অনেক। সুস্থ থাকতে হলে সেগুলি মেনে চলার অভ্যাস করতে হবে।
পেশা থেকে সংসার - সর্বত্রই ছুটন্ত জীবনযাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে হাঁফিয়ে উঠছেন অনেকেই। বাড়ছে ক্লান্তি, স্ট্রেস। মন থাকছে অশান্ত। কিন্তু মন শান্ত না থাকলে পুজোর আমেজ পুরোপুরি উপভোগ করবেন কী ভাবে? কেমন ভাবেই বা খুঁজে পাবেন আগামীতে নিজেকে ভাল রাখার চাবিকাঠি? রইল তারই সুলুক সন্ধান!
গভীর শ্বাস নিন ও মন শান্ত করুন: আপনার কি মাঝেমধ্যেই আচমকা দুশ্চিন্তা বাড়ে? এমনটা হলে চোখ বন্ধ করে কয়েক বার গভীর শ্বাস নিন। নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস টেনে কিছু ক্ষণ ধরে রাখুন, তার পরে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এই সহজ পদ্ধতিটি আপনার হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক করে এবং মনকে তাৎক্ষণিক আরাম দেয়।
মনোসংযোগ ও মেডিটেশন করুন: দিনে মাত্র ১০-১৫ মিনিট সময় বার করে মেডিটেশন বা মনোসংযোগ চর্চা করুন। মেডিটেশন মানে শুধু ধ্যান করা নয়। বরং বর্তমান মুহূর্তের উপরে মনোযোগ দেওয়া। এতে মনের অস্থিরতা কমে এবং মানসিক স্থিরতা আসে।
শরীরচর্চায় স্ট্রেসে রাশ টানুন: নিয়মিত শরীরচর্চা করলে মন ভাল থাকে। কারণ এতে এন্ডোরফিন নামে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়। যা মনমেজাজ ভাল করতে সাহায্য করে। হাঁটুন, দৌড়ন বা যোগব্যায়াম করুন - যে কোনও শারীরিক কার্যকলাপই স্ট্রেস কমাতে কার্যকর।
শখ পূরণে মন শান্ত হয়: কাজ এবং সংসারের বাইরে নিজের জন্য সময় রাখুন। যে কাজটি করতে আপনার ভাল লাগে, যেমন - গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা বা রান্না করা - সেই কাজটি প্রতিদিন কিছুটা সময় ধরে করুন। শখ পূরণে মন হালকা হয় এবং মানসিক চাপ কমে।
আরও পড়ুন:
ডিজিটাল ডিটক্স করুন ও নিজেকে সময় দিন: সারা ক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে ডুবে থাকলে মনের উপর চাপ বাড়ে। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে মোবাইল এবং অন্যান্য ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। এই সময়টুকু নিজেকে দিন, নিজের পছন্দের অন্য কোনও কাজ করুন।
প্রকৃতির কোলে মন ভাল থাকে: যদি সম্ভব হয়, প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটান। পার্কে বা খোলা জায়গায় হাঁটতে যান, সবুজ গাছের দিকে তাকিয়ে থাকুন। প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ মনের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং স্ট্রেস দূর করে।
কাজের চাপ কমান এবং 'না' বলতে শিখুন: যদি মনে হয় আপনি অতিরিক্ত কাজের চাপের মধ্যে আছেন, তা হলে সব দায়িত্ব নিজে না নিয়ে কিছু কাজ অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিন। প্রয়োজনে 'না' বলতে শিখুন। নিজের উপর অতিরিক্ত চাপ কমালে মন শান্ত থাকবে।
মনের কথা ভাগ করে নিন: আপনার দুশ্চিন্তা বা সমস্যার কথা বিশ্বস্ত কোনও বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগ করে নিন। মনের মধ্যে কোনও কষ্ট চেপে রাখলে তা আরও বাড়ে। মন খুলে কথা বললে অনেক সময়ে মন হালকা হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
পর্যাপ্ত ঘুমই সুস্থ মনের চাবিকাঠি: শরীর ও মন সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোনোর চেষ্টা করুন। কম ঘুমোলে মেজাজ খিটখিটে হয় এবং স্ট্রেস বাড়ে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করুন।
খাদ্যতালিকায় বদল আনুন: অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও চিনিযুক্ত খাবার মনের অস্থিরতা বাড়ায়। এর বদলে স্বাস্থ্যকর খাবার, যেমন - ফল, সবজি ও বাদাম বেশি করে খান। ভিটামিন ও মিনারেলযুক্ত খাবার আপনার মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ)।