প্রেজেন্টস্
Knowledge Partner
Fashion Partner
Wedding Partner
Banking Partner
Comfort Partner

চন্দননগরে ‘কলকাতা’! ত্রিধারা থেকে তেলেঙ্গাবাগান, বেহালা থেকে মুদিয়ালি—জগদ্ধাত্রী পুজোয় শহর ঢুকেছে শহরে

কলকাতার বিখ্যাত পুজোগুলোর ছোঁয়া এ বার চন্দননগরের মণ্ডপে। কোথাও পাহাড়ের কোলে দেবী, কোথাও অচলায়তনের বার্তা, জগদ্ধাত্রী পুজোয় জমজমাট শহর।

আনন্দ উৎসব ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৪২
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

দুর্গাপুজো শেষ মানেই বাঙালির মন ভার, এমনটা ভাবলে ভুল হবে। কারণ, উৎসবের রেশ আরও খানিকটা টেনে নিয়ে আসে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো। আর এ বারে তো থিমের চমকে সেই আলোর শহর যেন এক টুকরো কলকাতা। মহানগরীর নামীদামি কয়েকটি পুজোর সেই মনকাড়া মণ্ডপ সজ্জা ফের দেখার সুযোগ মিলছে এই জগদ্ধাত্রী উৎসবে। উৎসবপ্রেমী বাঙালির জন্য এর চেয়ে আনন্দের খবর আর কী হতে পারে!

চন্দননগরের সার্কাস মাঠ সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজো এ বার পা রেখেছে ৫৫তম বর্ষে। এ বারের আকর্ষণ কী? পাহাড়ের শান্ত স্নিগ্ধ মেজাজ! মণ্ডপে ঢুকলেই প্রথমে সিদ্ধিদাতা গণেশ, তার পাশে দেবাদিদেব মহাদেবের বিশাল মূর্তি। আর একে বারে শেষে, গর্ভগৃহে রাজরানি রূপে অধিষ্ঠাত্রী দেবী জগদ্ধাত্রী—সুবর্ণ অলঙ্কার আর লাল বেনারসি শাড়িতে সত্যিই এক রাজকীয় পরিবেশ। প্রতিমার উচ্চতাও নজর কাড়ার মতো। এই আধ‍্যাত্মিক মণ্ডপ জীবন্ত করে তুলেছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী শ্রী গৌরাঙ্গ কুইল্যা। আর এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অঘোরীদের লাইভ পারফর্মেন্স, যা দর্শকদের মনে এক অন্য উন্মাদনা যোগ করছে। পাহাড়ের কোলে দেবী আর অঘোরীদের নাচে চন্দননগরের সার্কাস মাঠের পুজো যেন বিনোদনের রসবোধ আর ছন্দ নিয়েই মেতে উঠেছে।

কলকাতার তেলেঙ্গাবাগান এর থিম যাঁরা দেখতে পারেননি, তাঁদের জন্য সুখবর! এ বার লালবাগান পাদ্রী পাড়ার পুজো মণ্ডপে সেই 'অচলায়তন' ফিরে এসেছে। মূলত কুসংস্কারের অচলায়তন ভাঙার বার্তা নিয়ে এই মণ্ডপ। বিড়াল রাস্তা কাটলে দাঁড়িয়ে পড়া বা মাঙ্গলিক হলে শিবের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার মতো বিভিন্ন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছে এই সজ্জা। চমক আছে এখানেও—একটি অচল ছবি রাখা, যা স্ক্যান করলেই নড়াচড়া করবে বা সচল হয়ে উঠবে! প্লাইউড, কাঠ, বাঁশ, সিমেন্ট, ইট ব্যবহার করে তৈরি এই মণ্ডপে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে লাল শাড়ি পরে সিংহের উপর অধিষ্ঠাত্রী দেবী। সঙ্গে রয়েছে ডাকের সাজ। কুসংস্কার ভেঙে আলোর উৎসব দেখতে এই মণ্ডপে একবার ঢুঁ মারা চাই।

এ ছাড়াও, বাঙালির আবেগের 'সোনার কেল্লা'! দুর্গাপুজোয় বেহালা নতুন দলের সেই মণ্ডপ এবার মাথা তুলেছে চন্দননগরের উত্তরাঞ্চল সন্তান সঙ্ঘে। রাজস্থানের দুর্গের আদলে গড়া মণ্ডপ সেজে উঠেছে প্রদীপের আলোয়। গোলাপি শাড়িতে হলুদ বরণ দেবী অধিষ্ঠিত সিংহের পিঠে। তবে আসল চমক হলো আবহ সঙ্গীত! সুদূর রাজস্থান থেকে আসা শিল্পীরা দেবীর সামনে বসে শোনাচ্ছেন রাজস্থানি লোকগীতি। সেই মেঠো সুরে সত্যিই মনে হবে যেন মরুভূমির দেশে চলে যাওয়া গেছে।

পাশাপাশি, কলকাতার মুদিয়ালি ক্লাবের দুর্গাপুজোর থিমও জায়গা করে নিয়েছে চন্দননগরে। মানকুন্ডু সর্বজনীন-এ দেখা মিলছে সেই 'ঐতিহ্যের অগ্নিস্নান'।

তা হলে, দুর্গাপুজোয় কোনও মণ্ডপ দেখা বাকি থেকে গেলেও মন খারাপ করার কোনও কারণ নেই। চন্দননগরে পা রাখলেই আপনি একই সঙ্গে পেয়ে যাচ্ছেন কলকাতার সেরা কিছু থিমের স্বাদ, একই উৎসবে দুই শহরের মেজাজ!

এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।

Jagadhatri Puja 2025
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy