Advertisement
E-Paper

পদ্মের ‘তারকা প্রচারক’ তালিকায় বদল, উপরে উঠলেন রাজ্যনেতারা, জুড়ল ছয় নতুন বাঙালি নামও

বিজেপির সংশোধিত তালিকাটিতে বাঙালি নামের সংখ্যা বেড়েছে। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নাম তালিকায় অনেকটাই উপরের দিকে উঠে এসেছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ২২:২৮
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিজেপির ‘তারকা প্রচারক’ তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে কটাক্ষ করেছিল তৃণমূল। গোটা তালিকায় ৩০ শতাংশেরও কম সংখ্যক নেতার পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ‘প্রকৃত যোগ’ রয়েছে বলে দাবি করেছিল রাজ্যের শাসক দল। ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই নিজেদের সে তালিকা বদলে ফেলল বিজেপি। রবিবারের তালিকায় থাকা ৪০টি নামের মধ্যে থেকে ছয় নাম সরে গেল সোমবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত তালিকা থেকে। এল নতুন ছ’টি নাম। চাপে পড়ে বিজেপি তালিকা বদলাতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করল তৃণমূল।

বিজেপির সংশোধিত তালিকায় বাঙালি নামের সংখ্যা বেড়েছে। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নাম-তালিকায় অনেকটাই উপরের দিকে উঠে এসেছে। রবিবার যে তালিকা বিজেপি প্রকাশ করেছিল, তাতে আট এবং নয় নম্বরে ছিল মিঠুন চক্রবর্তী ও লিয়েন্ডার পেজ়ের নাম। আর রাজ্য বিজেপির সভাপতি, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা-সহ প্রথম সারির নেতৃবর্গের নামের তালিকা শুরু হয়েছিল ৩২ নম্বর থেকে। সোমবার যে সংশোধিত তালিকা বিজেপি প্রকাশ করেছে, তাতে আগের মতোই শুরুতে নরেন্দ্র মোদী, নিতিন নবীন, রাজনাথ সিংহ, অমিত শাহ, নিতিন গডকড়ীদের নামই রয়েছে। মিঠুনের নামও আগের মতোই আট নম্বরেই রয়েছে। কিন্তু এই তালিকায় লিয়েন্ডারকে আর রাখা হয়নি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তকেও তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। আর শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদারেরা ৩২ ও পরবর্তী ক্রম থেকে এক লাফে উঠে এসেছেন ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ নম্বরে।

লিয়েন্ডার এবং রেখা ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের এই ‘তারকা প্রচারক’ তালিকা থেকে বিজেপি বাদ দিয়েছে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, অভিনেত্রী-সাংসদ কঙ্গণা রণৌত, বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরির নাম। রাজ্য বিজেপির তিন সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র খাঁ, জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নাম তালিকায় জোড়া হয়েছে। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জয়ন্ত রায় ও মনোজ টিগ্গার নাম আগেও ছিল। এ বার তাঁদের পাশাপাশি যোগ হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ, মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক পালের নামও।

Advertisement

রবিবার সমাজমাধ্যমে তৃণমূল দাবি করেছিল, বিজেপির ‘তারকা প্রচারকদের’ মধ্যে ৩০ শতাংশেরও কম সংখ্যক নেতার পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে প্রকৃত যোগ রয়েছে। তৃণমূল লিখেছিল, “বিজেপির ‘বি’ হল আসলে ‘বহিরাগত’র প্রতীক”। বিজেপি-কে বিঁধে তৃণমূল আরও লিখেছিল, “নিজেদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চালাতে ওদের বাইরে থেকে লোক আমদানি করতে হয়। শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুরদের করুণ দশাটা দেখুন। অন্য রাজ্য থেকে প্যারাশুটে করে উড়ে আসা নেতাদের নীচে এদের জায়গা হয়েছে।”

সোমবার বিজেপির তালিকা বদলে যাওয়ায় তৃণমূল প্রত্যাশিত ভাবেই ফের কটাক্ষ করেছে। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘প্রথম দিন যে তারকা প্রচারক তালিকা বিজেপি প্রকাশ করেছিল, দ্বিতীয় দিনে তা বদলে দিয়ে বিজেপি প্রমাণ করল যে, প্রথমে তালিকাটা বাঙালি-বিরোধীই ছিল। বিজেপি যে নিজেদের তারকা প্রচারক তালিকাতেও বাঙালিদের কোণঠাসা করেছে, তৃণমূল সে বিষয়টি তুলে ধরায় শোরগোল শুরু হয়। চাপে পড়ে বিজেপি আজ তালিকা বদলাতে বাধ্য হল।’’ অরূপ বলেন, ‘‘বিজেপি দাবি করে যে তারা শ্যামাপ্রসাদের পার্টি। কিন্তু তা সত্ত্বেও যে বাঙালির বিরোধিতা করা তাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, সে কথা আরও এক বার স্পষ্ট হল।’’

BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy