Advertisement

রাজনীতিতে মমতা অপ্রাসঙ্গিক! ধর্ম-সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে গুন্ডাদমন করব: সিইও-সাক্ষাৎ শেষে ভবানীপুরের ‘অধিকারী’

বুধবার সন্ধ্যায় সিইও মনোজকুমার অগ্রবাল, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এনকে মিশ্রের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে তৃণমূলকে নিশানা করার সঙ্গে সঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ২০:৪২
After met with CEO Manoj Agarwal Suvendu Adhikari says Mamata Banejee is irrelevant in politics

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে অপ্রাসঙ্গিক। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন কি দেবেন না, এ নিয়ে তিনি ভাবিত নন। বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন দফতর থেকে বেরিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশপাশি, ভোট-পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের বিজয়ী প্রার্থী জানান, একটি ঘটনাও বরদাস্ত করা হবে না। বিজেপি ধর্ম-সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে গুন্ডাদমন করবে।

হিংসামুক্ত, স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু ভোট করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাতে সিইও দফতরে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। সন্ধ্যায় কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে প্রবেশ করেন ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভার ‘অধিকারী’ শুভেন্দু। ঢোকার আগে তিনি বলেন, ‘‘যে ভাবে শান্তিতে দু’দফায় ভোট এবং গণনা হয়েছে, তাতে আমরা ধন্যবাদ জানাতে এসেছি।’’

সিইও মনোজকুমার অগ্রবাল, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এনকে মিশ্রের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, রাজ্যে যে ভাবে হিংসামুক্ত ভাবে নির্বাচন হয়েছে, তার জন্য ধন্যবাদ প্রাপ্য কমিশনের। তিনি সে জন্যই সিইওর সঙ্গে দেখা করলেন। উদাহরণ হিসাবে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আগে ভবানীপুরের যাঁরা ভোট দিতে ভয় পেতেন, তাঁরা অনেকে এ বার ভোট দিয়েছেন। ৪৫টি বড় হাউজ়িং ছিল। ২০টিতে ইনসাইড হাউজ়িং পোলিং বুথ এ বারই প্রথম হয়েছে। ভোটারদের অনেকেই আমার কাছে বলেছেন, এ বারই তাঁরা প্রথম বার নিজেদের ভোট নিজেরা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।’’ শুভেন্দুর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ছিল ‘ইন্সিডেন্ট ফ্রি’। এ জন্য কমিশনকে সাধুবাদ জানালেন।

তার পরেই মমতার ইস্তফা না-দেওয়া প্রসঙ্গ উঠতেই ভবানীপুরের বিজয়ী প্রার্থী মন্তব্য করেন, ‘‘আমি কোনও মন্তব্যই করব না। সংবিধানে লেখা আছে। মাননীয় রাজ্যপাল, লোকভবন এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করবেন বলে আশা করি।’’ শুভেন্দুর সংযোজন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উনি (মমতা) এখন অপ্রাসঙ্গিক। ওঁর জন্য বেশি বাক্য খরচের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’’

শুভেন্দু জানিয়েছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর যে পরিমাণ হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তার সঙ্গে তুলনা করলে এ বার নগন্য ঘটনা ঘটেছে। তার পরেও তিনি জানাচ্ছেন, এ সব বরদাস্ত করা হবে না। ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে বিজেপি নেতার মন্তব্য, ‘‘আমি ডিফেন্ড করছি না। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের সময় যা হয়েছিল... তার পরেও আমি বলেছি, ওই পাপীদের পার্টি অফিসে কেউ হাত দেবেন না। এটা আমাদের স্ট্যান্ড। এ কথা আপনারা ২০২১ সালের ভোটের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকে শোনেননি।’’

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে পঞ্চায়েত নির্বাচনের শেষে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসে গিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা। ভোটে ‘ব্যাপক হিংসার প্রতিবাদ’ করতে গিয়ে তৎকালীন সিইও রাজীব সিন্‌হার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে কমিশনের কেউ দেখা করেননি বলে অভিযোগ। কমিশনের দফতরে তালা ঝোলানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। বুধবার সেই সিইও দফতর থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘২০২১ সালে ১২ হাজার এফআইআর হয়েছিল। ৫৭ জন মারা গিয়েছিলেন। আজ দুপুরে রাজ্য পুলিশের ডিজি ফোন করেছিলাম। জানলাম পঞ্চাশটা এফআইআর-ও হয়নি। ভবানী ভবনে গত বিধানসভা ভোট-পরবর্তী হিংসার ফাইল পড়ে আছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরের নেতৃত্বে কমিশন কমিটি করে দিয়েছিল। ১০০ শতাংশ এফআরটি করে দিয়েছেন। সেই ফাইলগুলো খোলাব।’’

শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, কোন গ্রামে কী ঘটনা ঘটেছিল, তা পুঙ্খনাপুঙ্খ ভাবে জানাতে হবে পুলিশকে। সকলকে শান্ত থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘চোর-ডাকাতদের আইন অনুযায়ী শাস্তি হবে। অপেক্ষা করুন। এখনও কিছু গুন্ডা বাইরে রয়ে গিয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার তৈরি হওয়ার পরে দলমত নির্বিশেষে, ধর্ম-সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে গুন্ডাদমন হবে।’’

উল্লেখ্য, বুধবারই রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, এখন যাঁরা রাজ্যনৈতিক হিংসা ঘটাচ্ছেন, তাঁরা প্রত্যেকে বিজেপি ‘সেজেছেন’। তার পরেও বিজেপির যদি কোনও নেতা উস্কানিতে প্ররোচনা দেন, হিংসায় প্রশ্রয় দেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শমীকের কথায়, ‘‘বিজেপির যত বড় নেতাই হোন, কেউ এ রকম করলে তাঁকে আমরা অ্যারেস্ট করাব। ছবি দিন, নাম দিন। আমি কথা দিচ্ছি ব্যবস্থা নেব। নইলে আমি সভাপতির পদ থেকে চলে যাব।’’

Suvendu Adhikari CEO Manoj Agarwal Mamata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy