Advertisement
E-Paper

মানিকতলায় ভোটের প্রচারে সৌজন্য, বিজেপি প্রার্থী তাপসের সঙ্গে সাক্ষাৎ তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থীর মা সুপ্তির

সকালে কাঁকুড়গাছির বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে বেরিয়েছিলেন তাপস রায়। জনসংযোগ করছিলেন। সে সময় সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডে। সুপ্তি খবর পান, ওই এলাকায় প্রচার করছেন বিজেপি প্রার্থী। শোনামাত্রই তাপসকে ডেকে পাঠান তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ১২:৪৭
সৌজন্য। রবিবার মানিকতলায় বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের সঙ্গে হঠাৎ দেখা তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থীর মা সুপ্তি পাণ্ডের।

সৌজন্য। রবিবার মানিকতলায় বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের সঙ্গে হঠাৎ দেখা তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থীর মা সুপ্তি পাণ্ডের। ছবি: সংগৃহীত।

রবিবার সকালে উত্তর কলকাতার মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের কাঁকুড়গাছিতে ভোটের প্রচারে গিয়ে এক ব্যতিক্রমী সৌজন্যের ছবি তুলে ধরলেন বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় এবং মানিকতলার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডে। রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে আচমকাই তাপসের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়ার মা সুপ্তি পাণ্ডের।মুহূর্তেই তৈরি হয় এক মানবিক পরিবেশ, যা রাজনৈতিক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সৌজন্যের বার্তা দেয়।

প্রসঙ্গত, প্রয়াত রাজনীতিক সাধন পাণ্ডের সঙ্গে তাপসের যোগাযোগ ছিল সেই ’৭০-এর দশক থেকে। দু’জনেই প্রথমে কংগ্রেস এবং পরে তৃণমূলে একসঙ্গে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মানিকতলার বিধায়ক সাধন প্রয়াত হন। পরে ওই আসনের উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে জয়ী হন স্ত্রী সুপ্তি। আর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তাপস তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালেই কাঁকুড়গাছির বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে বেরিয়েছিলেন তাপস। জনসংযোগ, ঘরোয়া বৈঠক করছিলেন। সে সময় ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন বিদায়ী বিধায়ক। সুপ্তি খবর পান ওই এলাকায় প্রচার করছেন বিজেপি প্রার্থী। শোনা মাত্রই তাপসকে ডেকে পাঠান তিনি। সুপ্তির ডাক পেয়েই ছুটে আসেন বিজেপি প্রার্থী। সৌজন্য বিনিময়ের পাশাপাশি শুভেচ্ছা জানান একে অপরকে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, সুপ্তি প্রকাশ্যে তাপসের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন এবং তাঁর প্রচারে সহযোগিতার বার্তাও দেন। যদিও রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা, তবু ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জায়গা থেকে এই আচরণ নজর কেড়েছে স্থানীয়দের। মানিকতলায় ভোটের প্রচারে তাঁর দলের তরফে তাপস কোনও বাধা পেলে যেন তাঁকে জানান, সেই বিষয়েও বিজেপি প্রার্থীকে আশ্বস্ত করেন বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক।

তাপস বলেন, ‘‘সাধন পাণ্ডে আমার দাদার মতো ছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা ছিলাম বন্ধুর মতো। সুপ্তিবৌদির সঙ্গে আমার সম্পর্ক ৪০ বছরের বেশি। এমনও দিন গিয়েছে সুপ্তিবৌদি বাপের বাড়ি গিয়েছেন, সাধনদা আমায় সুপ্তিবৌদিকে আনতে পাঠিয়েছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘গণতন্ত্রে মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের সৌজন্য রাজনীতিকে আরও সুস্থ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।’’ অন্য দিকে, সুপ্তি বলেন, ‘‘ভোটের লড়াই নিজের জায়গায় থাকলেও মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ও সৌজন্য বজায় থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে, তবে তাপসের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না।’’ এই ঘটনাকে ঘিরে মানিকতলার রাজনৈতিক মহলেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

এমন সৌজন্যের পর মানিকতলার বাসিন্দাদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান সময়ে যখন রাজনৈতিক সংঘাত প্রায়ই তীব্র হয়ে ওঠে, তখন এই ধরনের ঘটনা এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। ভোটের উত্তেজনার মাঝেও এমন সৌজন্যমূলক মুহূর্ত প্রমাণ করে দেয়, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মানবিকতা এখনও জীবিত। মানিকতলার এই ছবি তাই রাজনীতির অন্য এক মুখ তুলে ধরল— যেখানে মতের ভিন্নতা থাকলেও সম্পর্কের উষ্ণতা অটুট থাকে।

Tapas Roy Supti Pandey
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy