Advertisement

নবান্ন অভিযান

প্রার্থী কারা, কী কী নথি লাগবে, বুথের বাইরে তালিকা টাঙাবে কমিশন! ১০০ মিটার দূরেই বন্ধ করে দিতে হবে মোবাইল ফোন

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতে ভোট হচ্ছে। মোট বুথের সংখ্যা ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৮০৭। প্রত্যেক বুথেই ভোটারদের জন্য ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ১১:৫৮
পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল।

পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ভোটারদের সুবিধার্থে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করছে নির্বাচন কমিশন। বুথের বাইরেই চার ধরনের পোস্টার টাঙিয়ে দেবে তারা। সেখানে প্রার্থীদের নাম-সহ একাধিক খুঁটিনাটি তথ্য থাকবে। ভোটারদের বোঝার সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় চিহ্নিত করা থাকবে। বুথের কাছে থাকবে ভোটার সহায়তা কেন্দ্রও। সেখানে বুথ স্তরের আধিকারিকদের (বিএলও) থাকতে বলা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে কোনও মোবাইল ফোন সক্রিয় রাখা যাবে না। হয় তা সুইচ অফ করে দিতে হবে, অথবা নিস্তব্ধ (সাইলেন্ট) করে রাখতে হবে। ফোন জমা রেখে বুথে ঢুকতে পারবেন ভোটারেরা।

রবিবার সকালে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে একাধিক নিয়মকানুনের কথা জানিয়েছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতে ভোট হচ্ছে। বলা হয়েছে, এই চার রাজ্য এবং এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৮০৭টি বুথে ভোটারদের জন্য ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (সিইও) সেই নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। এই ন্যূনতম পরিষেবার মধ্যে রয়েছে পানীয় জল, শৌচাগার এবং তাতে পর্যাপ্ত জল, ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলোর মতো কয়েকটি বন্দোবস্ত। ভোট দিতে দাঁড়ানোর জন্য ছায়ার আশ্রয়, প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য উপযুক্ত র‌্যাম্প, বিচ্ছিন্ন ভোটকক্ষ এবং উপযুক্ত চিহ্নিতকরণ নিশ্চিত করতে বলেছে কমিশন।

কমিশন জানিয়েছে, প্রতি বুথের বাইরে চার ধরনের পোস্টার টাঙানো হবে। বুথের তথ্য, প্রার্থীদের নাম সেই পোস্টারে থাকবে। পাশাপাশি ভোট দেওয়ার সময় কী করতে হবে এবং কী করা যাবে না তার তালিকা থাকবে ওই পোস্টারে। ভোটার কার্ড ছাড়া আর কী নথি দেখিয়ে ভোট দেওয়া যাবে, তা-ও লেখা থাকবে। পোস্টারে ব্যাখ্যা করা থাকবে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াও। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি বুথের কাছে ভোটার সহযোগিতাকেন্দ্র তৈরি করা হবে। সেখানে বিএলও-রা দায়িত্বে থাকবেন। ভোটারদের বুথ চিনিয়ে দেওয়া, ক্রম নম্বর অনুযায়ী কক্ষ চিনিয়ে দেওয়ার কাজ তাঁরা করবেন। এগুলি এমন জায়গায় থাকবে, যাতে ভোটারেরা সহজে দেখতে পান।

মোবাইল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না, আগেই জানিয়েছিল কমিশন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুথের বাইরে মোবাইল জমা রাখার ব্যবস্থা থাকবে। সুইচ অফ করে ফোন সেখানে জমা দিতে পারবেন ভোটারেরা। ভোট দেওয়ার পর আবার ফোন সংগ্রহ করে নিতে হবে। এই সকল নিয়ম কঠোর ভাবে মানতে বলেছে কমিশন। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Election Commission Voter List
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy