WBState_Assembly_Elections_Lead0_03-05-26

খাবারের বরাতে ভোটে টেক্কা অষ্টমীর শহরকে

গত বুধবার, ভোটের দিন কার্যত কার্ফুর চেহারা নিয়েছিল কলকাতার রাস্তা। পুলিশ, নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সংবাদমাধ্যম ছাড়া দিনভর শুধু ছুটে বেড়াতে দেখা গিয়েছে, সংস্থার দেওয়া টি-শার্ট পরা গিগকর্মীদের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ০৬:৪৫

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ভোজ ছাড়া উৎসব-যাপন হয় নাকি? ফি-বছর দুর্গাপুজোয় তাই খাবারের বরাত দেওয়ার নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হয় কলকাতায়। সেই ধারাই দেখা গেল ‘ভোট-উৎসব’-এও। এমনকি, পুজোর উৎসব-যাপনকেও খাবারের বরাত দেওয়ার নিরিখে পিছনে ফেলে দিল ভোট-উৎসব। ই-কমার্স সংস্থাগুলি সূত্রের খবর, গত দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে কলকাতা থেকে অ্যাপের মাধ্যমে যত সংখ্যক খাবারের বরাত দেওয়া হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি বরাত দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন, কলকাতায়। সব চেয়ে বেশি বরাত দেওয়া হয়েছে বিরিয়ানি। তার পরেই রয়েছে রোল। তবে, অষ্টমীতে সমস্ত বরাত মিলিয়ে যে আয় ই-কমার্স সংস্থাগুলির হয়েছিল, তা ছাপিয়ে যেতে পারেনি ভোটের দিনের আয়।

গত বুধবার, ভোটের দিন কার্যত কার্ফুর চেহারা নিয়েছিল কলকাতার রাস্তা। পুলিশ, নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সংবাদমাধ্যম ছাড়া দিনভর শুধু ছুটে বেড়াতে দেখা গিয়েছে, সংস্থার দেওয়া টি-শার্ট পরা গিগকর্মীদের। রেস্তরাঁ বা ক্যাফের জন্য পরিচিত তল্লাটও ছিল জনশূন্য। অন্যান্য নির্বাচনেও কমবেশি এমন চেহারা দেখা গেলেও দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কিন্তু এ বার আর তা হয়নি। এর সঙ্গেই জুড়েছে বিকেলের পর থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি।

ই-কমার্স সংস্থা সুইগি-র পূর্বাঞ্চলীয় কর্তা রাজীব সোনকর বলেন, ‘‘এমন নির্বাচন আগে দেখা যায়নি। নির্বাচনের দিন এমন অর্ডারও আগে আসেনি। দুর্গাপুজোর অষ্টমীর থেকেও অর্ডার বেশি হয়েছে।’’ এই সংস্থাই গত বছরের উৎসবের মরসুম শেষে জানায়, অষ্টমীতে সারা দেশে তারা প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২.২ লক্ষ অর্ডার সরবরাহ করেছে। কলকাতার ক্ষেত্রে দুর্গাপুজোর চার দিন প্রতি মিনিটে গড়ে ৬০টি করে অর্ডার সরবরাহ করেছে তারা। সংস্থার দাবি, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিন সেখানে সুইগি-তে অর্ডার এসেছে প্রতি মিনিটে গড়ে ৭০টি। আর এক ই-কমার্স সংস্থা জ়্যোমাটো সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দুর্গাপুজোর অষ্টমীর চেয়েও কলকাতায় ভোটের দিন অর্ডার দু’শতাংশ বেশি হয়েছে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ। সংস্থার বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশের সময়ে ব্যাপারটি আলাদা করে রাখার পরিকল্পনা চলছে।

তবে, ভোট থাকায় বহু গিগকর্মী কাজ করেননি। বহু জায়গায় রাস্তা বন্ধ থেকেছে। সব ই-কমার্স সংস্থাই জানাচ্ছে, এতে বেশ কিছু অর্ডার নেওয়াও সম্ভব হয়নি। নয়তো আয়ের অঙ্ক আরও বাড়ত। কসবা অঞ্চলের সরবরাহ কর্মী রতন সরকারের আবার দাবি, ‘‘যাঁরা কাজ করেছেন, এক দিনের টাকা এক বেলায় পেয়েছেন। ৩০-৪০ টাকা উপরি আয়ের ব্যাপারও ছিল প্রতি অর্ডারে।’’

জ়্যোমাটো কর্তা রাকেশ মিশ্র বললেন, ‘‘দোকান বন্ধ। বাড়ির রাঁধুনি ভোট দিতে গিয়েছেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই এই অর্ডার। বৃষ্টির জেরে অর্ডার আরও বেড়েছে। তবে পুজোর সময়ে যে পরিমাণ খাবার একসঙ্গে অর্ডার দেওয়া হয়, তা হয়নি। দামি খাবারের বদলে ‘কমফর্ট ফুড’ বা হালকা খাবারেরই চাহিদা বেশি ছিল। এগিয়ে থেকেছে বিরিয়ানি, রোল। তবে মোট আয়ের হিসাবে অষ্টমীই এগিয়ে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Food Delivery Election

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy