বৈশাখী পূর্ণিমা দিনটি বুদ্ধজয়ন্তী হিসেবে পরিচিত। এই তিথিতে বুদ্ধদেব জন্মগ্রহণ করেন, এই তিথিতেই তাঁর গৃহত্যাগ এবং বোধিলাভ করে বুদ্ধত্ব অর্জন। ১৩৪২ বঙ্গাব্দে এমন এক বৈশাখী পূর্ণিমায় কলকাতার মহাবোধি সোসাইটি হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমন্ত্রিত ছিলেন। বুদ্ধ-জন্মোৎসব উপলক্ষে দীর্ঘ ভাষণও দিয়েছিলেন। নিরাকার ব্রহ্মের উপাসক, মূর্তিপূজার বিরোধী রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ে ছিলেন ভগবান বুদ্ধ। সেই বৈশাখী পূর্ণিমায় (১৮ মে, ১৯৩৫) কলকাতায় বুদ্ধদেবের জন্মোৎসব উপলক্ষে সভাপতির আসন গ্রহণ করে রবীন্দ্রনাথ বলেন— “আমি যাঁকে অন্তরের মধ্যে সৰ্ব্বশ্রেষ্ঠ মানব বলে উপলব্ধি করি আজ এই বৈশাখী পূর্ণিমায় তাঁর জন্মোৎসবে আমার প্ৰণাম নিবেদন করতে এসেছি। এ কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানের উপকরণগত অলঙ্কার নয়, একান্তে নিভৃতে যা তাঁকে বার-বার সমর্পণ করেছি। সেই অর্ঘ্যই আজ এখানে উৎসর্গ করি।… একদিন বুদ্ধগয়াতে গিয়েছিলাম মন্দিরদর্শনে, সেদিন এই কথা আমার মনে জেগেছিল— যাঁর চরণস্পর্শে বসুন্ধরা একদিন পবিত্র হয়েছিল তিনি যেদিন সশরীরে এই গয়াতে ভ্রমণ করছিলেন, সেদিন কেন আমি জন্মাই নি, সমস্ত শরীর মন দিয়ে প্রত্যক্ষ তার পুণ্যপ্রভাব অনুভবকরি নি?”
১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথের জাপান-সফর কালে কবি ত্রিপিটকের একটি বুদ্ধবাণী সিল্কের কাপড়ের উপরে লিখে জাপানি দার্শনিক তাকাসুকুকে উপহার দেন। সেই বাণীটি ছিল— ‘অক্কোধেন জিনে কোধং’— অর্থাৎ অক্রোধ দ্বারা ক্রোধকে জয় করা যায়। রবীন্দ্রনাথ বুদ্ধবাণীর চর্চা করতেন বলেই এক জন দার্শনিককে মহাদার্শনিকের মহাবাণী উপহার দিতে পেরেছিলেন।
রবীন্দ্রজীবনীকার কৃষ্ণ কৃপালনী লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ বলেছেন যে, “জীবনে একবার মাত্র একটি মূর্তির সামনে আমার প্রণত হওয়ার প্রেরণা জেগেছিল, সেটা বুদ্ধগয়ায়, যখন আমি বুদ্ধমূর্তি দর্শন করি।”
রবীন্দ্রনাথ সেই যুগের শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়ের রথীন্দ্রনাথ প্রমুখ ছাত্রদের জন্য বৌদ্ধশাস্ত্র অধ্যয়নের ব্যবস্থা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের ভাষ্যে ‘ধম্মপদ’ এবং অশ্বঘোষের ‘বুদ্ধচরিত’ বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছিল। এই অনুবাদ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক সংশোধিত হয়ে প্রকাশিত হওয়ার কথাও হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ নিজে ধম্মপদের পদ্যানুবাদ শুরু করেছিলেন। তাঁর এ কাজ সমাপ্ত হয়নি। ধম্মপদের ওই অসমাপ্ত অনুবাদ ‘বিশ্বভারতী’ পত্রিকায়, শ্রাবণ-আশ্বিন ১৩৫৫ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
গৌতম বুদ্ধ কিংবা বৌদ্ধ সাহিত্য সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের চিন্তাধারা প্রথম কবে তাঁর মননে বা সাহিত্যে আসে, তার দিনক্ষণ-তারিখ বলা না যেতে পারলেও এটুকু বলা যায়, সময়টা ছিল ইংরেজির ১৮৯০ সাল, ১২৯৭ বঙ্গাব্দ। রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, লন্ডনে থাকার সময় প্রিমরোজ় হিল-এ তারক পালিতের বাসায় আবিল ঘুমের মধ্যে তিনি স্বপ্ন দেখেন— “যেন আমার সামনে একটা নাটকের অভিনয় হচ্ছে। বিষয়টা একটা বিদ্রোহের চক্রান্ত। দুই বন্ধুর মধ্যে এক বন্ধু কর্তব্যবোধে সেটা ফাঁস করে দিয়েছেন রাজার কাছে। বিদ্রোহী বন্দী হয়ে এলেন রাজার সামনে। মৃত্যুর পূর্বে তাঁর শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করবার জন্যে তাঁর বন্ধুকে যেই তাঁর কাছে এনে দেওয়া হল দুই হাতের শিকল তাঁর মাথায় মেরে বন্ধুকে দিলেন ভূমিসাৎ করে।”
এই স্বপ্নবৃত্তান্ত ‘মালিনী’ নাটকের পরিণামদৃশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু মূল কাহিনিটি রবীন্দ্রনাথ সংগ্রহ করেছেন বৌদ্ধ সাহিত্য ‘মহাবস্ত্বাবদান’-এর অন্তর্গত ‘মালিন্যবস্তু’ থেকে। এ ছাড়া একটি চিঠি থেকে বৌদ্ধ সাহিত্যের প্রতি রবীন্দ্রনাথের অনুরাগের একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। ইন্দিরাদেবীকে (৩ মার্চ, ১৮৯৩) ওড়িশা থেকে তিনি লিখছেন, “এই জন্যে মফস্বলে যখন যাই তখন অনেকগুলো বই সঙ্গে নিতে হয়, তার সবগুলোই যে প্রতিবার পড়ি তা নয়, কিন্তু কখন কোন-টা দরকার বোধ হবে আগে থাকতে জানবার যো নেই তাই সমস্ত সরঞ্জাম হাতে রাখতে হয়।… সেই জন্যে আমার সঙ্গে “নেপালীজ বুদ্ধিষ্টিক্ লিটারেচর” থেকে আরম্ভ করে শেক্সপীয়র পর্য্যন্ত কত রকমেরই যে বই আছে তার আর ঠিকানা নেই।” এর থেকে বোঝা যায়, অন্তত ‘দ্য স্যান্সক্রিট বুদ্ধিস্টিক লিটারেচার অব নেপাল’ বইটি প্রায়শই তার সঙ্গী হত। রবীন্দ্রনাথ তাঁর সাহিত্যে বৌদ্ধ-আখ্যান থেকে উপাদান সংগ্রহ করে কবিতা সৃষ্টি করা শুরু করেছিলেন ১৮৯৯ সাল নাগাদ। প্রিয়নাথ সেনকে তারিখহীন একটি চিঠিতে তিনি লিখেছেন: “আমার স্কন্ধে কবিতার পুরাতন জ্বর হঠাৎ চাপিয়াছে তাই বিনোদিনী উপেক্ষিতা।”
এই জ্বরের সূত্রপাত ১৮ আশ্বিন ১৩০৬ (৪ অক্টোবর ১৮৯৯)। এই দিন তিনি রাজেন্দ্রলাল মিত্র সঙ্কলিত ‘দ্য স্যান্সক্রিট বুদ্ধিস্টিক লিটারেচার অব নেপাল’ (১৮৮২)-এর অন্তর্গত ‘অবদানশতক’-এর ৫৪ সংখ্যক কাহিনি অবলম্বনে ‘পূজারিণী’ কবিতাটি রচনা করেন। অবশ্য এর কিছু দিন আগে তিনি জগদীশচন্দ্র বসুকে লিখেছিলেন, “কতকগুলি পৌরাণিক গল্প আমার মস্তিষ্কের মধ্যে আশ্রয় লইয়াছে— যেমন করিয়া হোক তাহাদের একটা গতি করিতে হইবে— তাহারা আমার কন্যাদায়ের মত— পাব্লিকের সহিত তাহাদের পরিণয় সাধন করিতে না পারিলে তাহারা অরক্ষণীয়া হইয়া উঠিবে— কিন্তু ইহাদের সম্বন্ধেও বাল্যবিবাহটা ভাল নয়— উপযুক্ত বয়স পর্য্যন্ত ইহাদের কলরব ও উপদ্রব আমাকে সহ্য করিতেই হইবে।”
‘বুদ্ধদেব’ গ্রন্থে কবি লিখছেন, “ভারতবর্ষে বুদ্ধদেব মানবকে বড় করিয়াছিলেন। তিনি জাতি মানেন নাই, যাগ-যজ্ঞের অবলম্বন হইতে মানুষকে মুক্তি দিয়াছিলেন, দেবতাকে মানুষের লক্ষ্য হইতে অপসৃত করিয়াছিলেন।… এমনি করিয়া শ্রদ্ধার দ্বারা, ভক্তির দ্বারা মানুষের অন্তরের জ্ঞান, শক্তি ও উদ্যমকে তিনি মহীয়ান করিয়া তুলিলেন। মানুষ যে দান দৈবাধীন হীনপদার্থ নহে, তাহা তিনি ঘোষণা করিলেন।”
বুদ্ধ সম্পর্কে কবিগুরুর প্রথম রচনা ‘বুদ্ধদেব-প্রসঙ্গ’, রচনাকাল ১৩১০। তার অল্প সময়ের ব্যবধানে কবি ‘ব্রহ্মবিহার’ প্রবন্ধতে লিখেছেন, “ব্রহ্মবিহারের এই সাধনার পথে বুদ্ধদেব মানুষকে প্রবর্তিত করবার জন্যে বিশেষরূপে উপদেশ দিয়েছেন।… পাণং ন হানে, প্রাণীকে হত্যা করবে না, এই কথাটি শীল। ন চদিন্নমাদিয়ে, যা তোমাকে দেওয়া হয় নি তা নেবে না, এই একটি শীল। মুসা না ভাসে, মিথ্যা কথা বলবে না, এই একটি শীল। ন চ মজ্জপো সিয়া, মদ খাবে না, এই একটি শীল। এমনি করে যথাসাধ্য একটি একটি করে শীল সঞ্চয় করতে হবে।”
‘কথা ও কাহিনী’ কাব্যের প্রায় পুরোটাই বুদ্ধ প্রসঙ্গ। ‘শ্রেষ্ঠভিক্ষা’, ‘পূজারিণী’, ‘অভিসার’, ‘পরিশোধ’, ‘সামান্য ক্ষতি’, ‘মূল্যপ্রাপ্তি’ প্রভৃতি কবিতায় এবং অগুনতি প্রবন্ধে বৌদ্ধ-আখ্যানের প্রভাব রয়েছে। বেশ কিছু নাটক, যেমন ‘মালিনী’, ‘রাজা’, ‘অচলায়তন’, ‘গুরু’, ‘অরূপরতন’, ‘নটীর পূজা’ ইত্যাদিতে আমরা বৌদ্ধ-আখ্যানের উল্লেখ দেখতে পাই। ‘মূল্যপ্রাপ্তি’ কবিতায় বাণী দিয়ে, কী সুগভীর অনুভূতি দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বুদ্ধদেবের ছবি আঁকছেন—
“যেথা রয়েছেন বসে, বুদ্ধদেব উজলি কানন/ বসেছেন পদ্মাসনে প্রসন্ন প্রশান্ত মনে/ নিরঞ্জন আনন্দমুরতি/ দৃষ্টি হতে শান্তি ঝরে স্ফুরিছে অধর-’পরে/ করুণার সুধাহাস্যজ্যোতি।”
২২ আশ্বিন ১৩১১ (৮ অক্টোবর, ১৯০৪) মহালয়ার বিকালে রবীন্দ্রনাথ সদলবলে বুদ্ধগয়া রওনা হন। সঙ্গে সপত্নী আচার্য জগদীশচন্দ্র, ভগিনী নিবেদিতা, ইতিহাসবিদ যদুনাথ সরকার, আনন্দমোহন বসুর দুই কন্যা, রথীন্দ্রনাথ, সন্তোষ মজুমদার প্রমুখ। গিরিডি থেকে একটি তারিখহীন চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ মোহিতচন্দ্রকে লিখছেন, “বুধগয়াতে থাকবার সময় যদিও অনেক অনিয়ম সহ্য করতে হয়েছিল তবু সেখানকার বৌদ্ধমন্দির দেখে একথা মনে হয়েছে যে না দেখলে জীবন অসম্পূর্ণ থাকত।”
আশ্বিনে বুদ্ধগয়া ভ্রমণের পর রবীন্দ্রনাথের রচিত উল্লেখযোগ্য কবিতা বা গানগুলি, ‘দুখের কথা তোমায় বলিব না’, ‘নয়ন তোমারে পায়না দেখিতে’, ‘তুমি ধন্য ধন্য হে ধন্য তব প্রেম’।
১৩৩৪ বঙ্গাব্দে কবি গিয়েছিলেন যবদ্বীপে, লিখলেন ‘বোরোবুদুর’ কবিতাটি এই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর (১৯২৭)। এই দীর্ঘ কবিতার শেষে তিনি তাঁর অভিব্যক্তি জানিয়েছেন এ ভাবে— “সেদিন প্রভাতে সূর্য এইমতো উঠেছে অম্বরে/ অরণ্যের বন্দনমর্মরে;/ নীলিম বাষ্পের স্পর্শ লভি/ শৈলশ্রেণী দেখা দেয় যেন ধরণীর স্বপ্নচ্ছবি।/ নারিকেল-বনপ্রান্তে নরপতি বসিল একাকী/ ধ্যানমগ্ন-আঁখি।”
তার পর, সারনাথে মহাবোধি সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা অনাগারিক ধর্মপালের উপস্থিতিতে মূলগন্ধকুটি বিহারের দ্বারোদ্ঘাটন উপলক্ষে, ২৪ অক্টোবর ১৯৩১-এ দার্জিলিং-এ বসে ‘বুদ্ধদেবের প্রতি’ প্রশস্তিমূলক কবিতাটি কবি লেখেন:
“ওই নামে একদিন ধন্য হল দেশে দেশান্তরে/ তব জন্মভূমি।/ সেই নাম আরবার এ দেশের নগর প্রান্তরে/ দান করো তুমি।/ বোধিদ্রুমতলে তব সেদিনের মহাজাগরণ/ আবার সার্থক হোক, মুক্ত হোক মোহ-আবরণ...”
সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের সমাজ-সংস্কৃতি ও সভ্যতায় রবীন্দ্রনাথ বিশেষ ভাবে মুগ্ধ ছিলেন। কিন্তু জাপান যখন আগ্রাসী ভূমিকায় ঝাঁপিয়ে পড়ল চিনের উপর, রবীন্দ্রনাথ তখন চরম মর্মাহত হলেন। এই সময়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় এই সচিত্র খবর, ‘জাপানে একদল সৈনিক যুদ্ধযাত্রার পূর্বে ভগবান বুদ্ধের মূর্তির সামনে যুদ্ধ-জয়ের প্রার্থনা করছে।’ এই সংবাদ পাঠ করে রবীন্দ্রনাথ ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত হন। গৌতম বুদ্ধকে নিয়ে এই ভণ্ডামিকে বিদ্রুপ করে কবি লিখলেন বিখ্যাত ব্যঙ্গ-কবিতা ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি’—
“যুদ্ধের দামামা উঠলো বেজে।/ ওদের ঘাড় হল বাঁকা, চোখ হল রাঙা,/ কিড়মিড় করতে লাগলো দাঁত।/ মানুষের কাঁচা মাংসে যমের ভোজ ভরতি করতে/ বেরোল দলে দলে।”
চিনের উপর জাপানি আগ্রাসনে রবীন্দ্রনাথ বিচলিত হয়েছেন; কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন তখন, যখন গৌতম বুদ্ধকে ব্যবহার করেছে যুদ্ধবিদরা। একই পটভূমিতে রবীন্দ্রনাথ লিখলেন আর একটি কবিতা, নাম ‘বুদ্ধভক্তি’— “হিংসার উষ্মায় দারুণ অধীর/ সিদ্ধির বর চায় করুণানিধির—/ ওরা তাই সুধায় চলে/ বুদ্ধের মন্দিরতলে।”
রবীন্দ্রনাথের দুঃখ, নোগুচির মতো কবিও ফ্যাসিস্টদের এই অপকৌশলের কাছে আত্মসমর্পণ করেন, ফ্যাসিবাদের সমর্থনে ধারণ করেন লেখনী। নোগুচির বিরুদ্ধে রবীন্দ্র-ক্ষোভের অতি প্রাসঙ্গিক অংশ এখানে স্মরণীয়, “আপনার চিঠিটি পেয়ে আমি যৎপরোনাস্তি বিস্মিত হইয়াছি; আপনার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের ফলে আমি যা লাভ করেছি… জাপানের অন্তরাত্মা বলতে আমি যা বুঝি তার সঙ্গে এই চিঠির বক্তব্যকে আমি মেলাতে পারছি না। জঙ্গী মনোভাবের উৎকট আতিশয্য সৃষ্টিশীল শিল্পীকেও অসহায়ভাবে গ্রাস করে ফেলে এইটেই সবচেয়ে মনখারাপকরা বিষয়...”
জাপানি আগ্রাসন ও লোক-দেখানো বুদ্ধ-ভক্তিকে ব্যঙ্গ করে কবি আবার লিখেছেন, “জাপানেতে যুদ্ধের দামামা/ বাজাইছে বুদ্ধের ভক্ত,/ কালীঘাটে রেগে বলে শ্যামা মা/ আমি তবে কোথা পাব রক্ত?”
অবশেষে ১৯৪০, রবিবার, ২২ বৈশাখ। মৈত্রেয়ী দেবী তাঁর স্মৃতিকথায় লিখছেন, “সকাল দশটার সময় স্নান করে কালো জামা কালো রং-এর জুতো পরে বাইরে বেরিয়ে এসে বসলেন। কাঠের বুদ্ধমূর্তির সামনে বসে একজন বৌদ্ধ বৃদ্ধ স্তোত্র পাঠ করল। উনি ঈশোপনিষদ থেকে অনেকটা পড়লেন। সেইদিন (৫ মে) দুপুর বেলা ‘জন্মদিন’ বলে তিনটে কবিতা লিখেছিলেন।” তার একটিতে ছিল, “কাল প্রাতে মোর জন্মদিনে/ এ শৈল-আতিথ্যবাসে/ বুদ্ধের নেপালী ভক্ত এসেছিল মোর বার্তা শুনে।/ ভূতলে আসন পাতি/ বুদ্ধের বন্দনামন্ত্র শুনাইল আমার কল্যাণে— গ্রহণ করিনু সেই বাণী।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)