E-Paper

ফিরলেন দিলীপ, ফের আস্থা শীতলে

পশ্চিম মেদিনীপুরের তিনটি আসন বাদ থাকলেও ঝাড়গ্রামের সবক’টি আসনেই বিজেপি প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে প্রথম তালিকাতেই। গত বারের জেতা দুই কেন্দ্র খড়্গপুর সদর ও ঘাটাল নিয়ে কৌতূহল ছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:২৪
দেওয়াল লেখায় হাত লাগালেন ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাট। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে।

দেওয়াল লেখায় হাত লাগালেন ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাট। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে। — নিজস্ব চিত্র।

তৃণমূলের আগেই ১৪৪টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি। প্রত্যাশিত ভাবে ‘পছন্দের আসন’ পেলেন প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। খড়্গপুর সদরের জেতা আসনে ছিটকে গেলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তবে দলের একাংশের ক্ষোভ সত্ত্বেও ঘাটালে বিধায়ক শীতল কপাটেই আস্থা রেখেছে বিজেপি।

পশ্চিম মেদিনীপুরের তিনটি আসন বাদ থাকলেও ঝাড়গ্রামের সবক’টি আসনেই বিজেপি প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে প্রথম তালিকাতেই। গত বারের জেতা দুই কেন্দ্র খড়্গপুর সদর ও ঘাটাল নিয়ে কৌতূহল ছিল। ঘাটালের বর্তমান বিধায়ক শীতল কপাটকে প্রার্থী না করার দাবিতে রাজ্য কমিটির কাছে দরবার করেছিল বিজেপিরই একাংশ। শেষমেশ অবশ্য শীতলই ফের প্রার্থী হয়েছে। তবে খড়্গপুর সদরের বর্তমান বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে দল আর সুযোগ দেয়নি। শুভেন্দু অধিকারীর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত হিরণকে সরিয়ে প্রার্থী হওয়ায় এই আসন ধরে রাখা এখন দিলীপের ‘প্রেস্টিজ ফাইট’।

প্রার্থী হয়েই পুরনো মেজাজে ফিরেছেন দিলীপ। তিনি বলেন, “যারা মাফিয়া নিয়ে রাজনীতি করে, তাদের বিরুদ্ধে যা বলার সেটা দিলীপ ঘোষ বলতে পারেন। তাই দিলীপ ঘোষকে খড়্গপুরের মানুষ ভোট দিয়েছে, আগামী দিনেও দেবে। তৃণমূল খড়্গপুরে বিরোধীই থাকবে। যে ভাষা ওরা বোঝে, সেই ভাষায় ওদের বুঝিয়ে দেব।”

দিলীপের বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী ঠিক না হলেও দলের জেলা নেতা দেবাশিস চৌধুরী বলছেন, “আমাদের লড়ে আসনটা জিততে হবে। পাঁচ বছর বিজেপি বিধায়ক আসেননি কেন, গ্যাসের দাম বাড়ল কেন, বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ল কেন— সেই জবাব বিজেপি প্রার্থীকে দিতে হবে।” খড়্গপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল কো-অর্ডিনেটর প্রদীপ সরকারের মতে, ‘‘শহরবাসী বিজেপিকে জিতিয়ে হিরণ-দিলীপ লড়াই দেখেছে। দিলীপের ‘মেরে দাও-কেটে দাও’ বচন শুনেছে। এর বিরুদ্ধে ও দিদির উন্নয়নের পক্ষেই মানুষ ভোট দেবেন।’’

জেলা সদর মেদিনীপুর, গড়বেতা ও পিংলার প্রার্থী এ দিন ঘোষণা করেনি বিজেপি। কেন প্রথম তালিকায় মেদিনীপুর নেই, সে ক্ষেত্রে হিরণ মেদিনীপুরে প্রার্থী হবেন কি না, চর্চা রয়েছে। জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ রায় বলেন, “দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশিত হবে। অপেক্ষা করুন।” শালবনিতে পদ্ম-প্রার্থী পিড়াকাটার বিমান মাহাতো দলে শুভেন্দু অধিকারীর ‘ঘনিষ্ঠ’। দাসপুরের প্রার্থী তপন দত্তও তৃণমূল থেকে শুভেন্দুর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। চন্দ্রকোনার প্রার্থী সুকান্ত দলুই সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ, প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি।

এই সাংগঠনিক জেলায় তৃণমূলের সহ-সভাপতি পদ ছেড়ে সম্প্রতি বিজেপিতে আসা অমল পাণ্ডা সবংয়ে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি মন্ত্রী তথা সবংয়ের দীর্ঘ দিনের বিধায়ক মানস ভুঁইয়ার একদা ‘ভোট মাস্টার’। ডেবরা আসনে ঘাটাল জেলা সভাপতি তন্ময় দাসকে প্রার্থী করা হবে বলে জল্পনা বাড়ছিল। অবশ্য ডেবরায় প্রার্থী হয়েছেন জেলা নেতা, পেশায় স্কুল শিক্ষক শুভাশিস ওম। জেলা সভাপতি তন্ময় বলেন, “সবাই ভাল প্রার্থী। সবাই জিতবেন।”

ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে প্রার্থী বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য ও সঙ্ঘের প্রাক্তন পদাধিকারী লক্ষ্মীকান্ত সাউ। গোপীবল্লভপুরে প্রার্থী হয়েছেন সম্প্রতি বিজেপিতে আসা কুর্মি নেতা রাজেশ মাহাতো। বিনপুর (জনজাতি সংরক্ষিত) কেন্দ্রে দলের ভরসা প্রণত টুডু। প্রাক্তন সরকারি চিকিৎসক প্রণত গত লোকসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে দ্বিতীয় হন। নয়াগ্রামে (জনজাতি সংরক্ষিত) প্রার্থী দলের রাজ্য কমিটির সদস্য অমিয় কিস্কু। তিনি খড়গপুরের খাজরা হাই স্কুলের শিক্ষক। বিজেপির ঝাড়গ্রাম জেলা সহ-সভাপতি দেবাশিস কুণ্ডু বলেন, “যোগ্যদেরই প্রার্থী করা হয়েছে। জয়ের ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Dilip Ghosh BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy