ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্যের আধার কার্ড জুড়ে কয়েক দফায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বালুরঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করে সাইকেল ব্যবসায়ী সুজিত সরকার ওই প্রতারণার বিচার চেয়েছেন। তাঁর স্ত্রী তপতীদেবীও পুরো ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে আইনি লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন। কী ভাবে অন্যের আধার যুক্ত করে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বৃদ্ধ দম্পতির শেষ সম্বলের টাকা তুলে নেওয়া হল, এই প্রশ্নে এখন ওই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কাঠগড়ায়। কর্তৃপক্ষ অবশ্য প্রতারণার কথা স্বীকার করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে সুজিতবাবুদের আশ্বাস দিয়েছেন।

দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম এলাকার বাসিন্দা সুজিতবাবু কয়েক দিন আগে স্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন দফায় দফায় কখনও ৫ হাজার টাকা কখনও ১০ হাজার টাকা করে মোট ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। অথচ তিনি ওই অ্যাকাউন্টে তাঁর আধার নম্বর লিঙ্ক তো দূরের বিষয় আজ অবধি মোবাইল নম্বরও ব্যাঙ্ক থেকে অ্যাক্টিভেট করেননি। ফলে তাঁর ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কী করে অন্যের আধার নম্বর যুক্ত হয়ে টাকা গায়েব হল, তা দেখে আকাশ থেকে পড়েন সুজিতবাবু।

ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার একটি গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র থেকে আধার লিঙ্কের মাধ্যমে ৪৯ বছর বয়সী পেড্ডা রেড্ডি পল্লীসিরামি রেড্ডি নামে এক ব্যক্তি দফায় দফায় ওই টাকা তুলে নিয়েছেন।

এ দিন বালুরঘাট থানা চত্বরে দাঁড়িয়ে সুজিতবাবু বলেন, ‘‘২ অগস্ট নিজের ব্যাঙ্ক পাশবই আপডেট করে দেখি অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা রয়েছে।’’ এর পর গচ্ছিত টাকা খরচের প্রয়োজন না হওয়ায় তিনি আর ব্যাঙ্কে যাননি। ৪ ডিসেম্বর পাশবই প্রিন্ট করতে গিয়ে সুজিতবাবুর মাথায় হাত পড়ে। দেখেন, অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক দফায় ওই টাকা কেউ তুলে নিয়েছে। বৃদ্ধ বয়সে সঞ্চিত সম্বলের ওই টাকা খুইয়ে ভেঙে পড়েছেন সুজিতবাবুরা।

তবে টাকা উদ্ধারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক ম্যানেজার অতুল পাসেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘সুজিতবাবুর অভিযোগ পাওয়ার পরে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট অন্ধপ্রদেশের ওই ব্যাঙ্কে পাঠানো হয়েছে। সুজিতবাবু আজ অবধি নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার লিঙ্ক করাননি।’’

ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ মেনে নিলেও কী করে অন্যের আধার নম্বর জুড়ে ভিনরাজ্য থেকে ওই প্রতারক টাকা তুলে নিতে সক্ষম হল, তার সদুত্তর এখনও মেলেনি।