এ বার ইলিশের দেখা মিলল মানসাই নদীতে। বুধবার মাথাভাঙার মানসাই নদী থেকে বেশ কিছু ইলিশ মাছ ধরা পড়ে।

গত দু’দিন মিলিয়ে ওই ইলিশের পরিমাণ দুই কুইন্ট্যালের উপরে। মাথাভাঙার বাজারে ওই ইলিশ উঠতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ২০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় ওই মাছ। কিছু ক্ষণের মধ্যেই বাজার থেকে ওই মাছ বিক্রি হয়ে যায়। বাসিন্দাদের অনেকেই বলেন, “তাজা ইলিশ আমরা কখনও পাই না। মানসাই নদীর ইলিশ তাজা। সেটা ভেবেই ভাল লাগছে।”

কোচবিহার জেলা মৎস্য আধিকারিক অলোক প্রহরাজ বলেন, “ওই ইলিশ মাছ আকারে একটু ছোট হয়। ছোট ইলিশ জাতীয়। মানসাইয়ে এর আগেও পাওয়া গিয়েছে। এবারে বেশি পরিমাণে পাওয়া গিয়েছে।” তিনি জানান, ওই মাছের স্বাদ ও গন্ধ পদ্ম একটু কম।

ইলিশ মাছ মানসাইয়ে নদীতে কী করে? তা নিয়ে অবশ্য হতবাক অনেকেই। মৎস্য আধিকারিকরা জানান, মাথাভাঙার মানসাই নদী সিতাইয়ে ধরলা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশ সীমান্তের খড়িবাড়িতে ওই নদী ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে পদ্মার যোগাযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে দূরত্ব চারশো থেকে পাঁচশো কিলোমিটারের মধ্যেই হবে।

ইলিশ সামুদ্রিক মাছ। ওই মাছ ডিম পাড়ে নদীর মিষ্টি জলে। সমুদ্র থেকে বারোশো কিলোমিটারের মধ্যে নদীতে চলে যায় তারা। বাংলাদেশে পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র ও গোদাবরী নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়। ডিম ফুটে মাছ একটু বড় হলেই তারা ফের সমুদ্রে ফিরে যায়। ব্রহ্মপুত্র থেকেই ওই মাছ মানসাইয়ে ঢুকেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। মানসাইয়ে পাওয়া মাছ দুশো থেকে চারশো গ্রাম পর্যন্ত। কোনওটা একটু বড়।

বাসিন্দারা জানান, নিয়মিত ভোর রাতে তাঁরা মাছ ধরেন। গত দু’দিন ধরে তাঁদের জালে ইলিশ উঠে আসে। এক বাসিন্দা বলেন, “এর আগেও একটি দুটি ইলিশ পাওয়া গেলেও তা কখনও বাজারে ওঠেনি। এবারে বেশি পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে।’’ ধারণা করা হচ্ছে, এবারে  নদীতে যাওয়া ইলিশের পরিমাণ বেশি ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই মানসাইয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যায়। দিল্লি থেকে বাড়ি ফেরার পথে মাথাভাঙার বাজার থেকে এক কেজি মানসাইয়ের ইলিশ কিনে নেন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়। তিনি বলেন, “ইলিশ আমার প্রিয় মাছ। জেলার কোনও নদীর ইলিশ আমি দেখিনি। মানসাইয়ে ইলিশ পাওয়ার কথা শুনে আর মন মানল না। তাই কিনে নিলাম।”