আইপিএলে তাঁর বর্ণময় কেরিয়ার কি শেষ করে ফেললেন ক্রিস গেল?

কেকেআর ভক্তদের জন্য তার চেয়ে বড় প্রশ্ন, গেলের বেঙ্গালুরুতেই কি শেষ বারের মতো কলকাতা নাইট রাইডার্সের বেগুনি জার্সিতে দেখা গেল গৌতম গম্ভীরকে? ক্যারিবিয়ান প্রিন্স ক্রিস গেলের বয়স ৩৭। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে, আইপিএলে অসাধারণ তাঁর রেকর্ড। কিন্তু যা ইঙ্গিত, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর তাঁকে আর রাখতে ইচ্ছুক নয়।

রাহুল দ্রাবিড়ের শহরে ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়া গম্ভীর তেমনই সামনের বছরে হবেন ৩৬। তিনি ভারতীয় দলে খেলছেন না চার বছরের বেশি হয়ে গিয়েছে। মাঝে খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য টেস্ট দলে প্রত্যাবর্তন ঘটালেও বেশি দিন বিরাট কোহালিদের সঙ্গে থাকার সৌভাগ্য হয়নি। গম্ভীরের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু আইপিএল শুরুর সময়েই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ‘‘এটাই শেষ আইপিএল হতে যাচ্ছে গোতির জন্য।’’

গেলের আইপিএল রেকর্ডের মতোই কেকেআরের অধিনায়ক হিসেবে দারুণ সব স্মরণীয় মুহূর্ত রয়েছে গম্ভীরের। তাঁর নেতৃত্বেই দু’বার ট্রফি জিতেছে শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবু মনে হয় না সেই দারুণ রেকর্ডও সামনের বারের গ্যারান্টি কার্ড দিতে পারবে বলে। কেকেআর কর্তারা চেষ্টা করবেন, নতুন রক্তে তাজা টিম তৈরি করার। গম্ভীরের মতোই ভারতীয় দলের আশেপাশে নেই রবিন উথাপ্পা, ইউসুফ পাঠান, সূর্য যাদব-রা। এতদিনকার সেরা ম্যাচউইনার সুনীল নারাইনের অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আবার।  দশ বছর শেষে নতুন করে সাজার কথা রয়েছে আইপিএলেরও। এই মুহূর্তে ক’জন পুরনো ক্রিকেটারকে ধরে রাখা যেতে পারে, তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে। কোনও কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি চাইছে, পাঁচ জন ক্রিকেটারকে ধরে রাখার পুরনো নিয়মই চালু থাকুক। কিন্তু আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল চাইছে, তিন জন ক্রিকেটারকে ধরে রাখার নিয়ম আনতে। সেক্ষেত্রে দু’জন ভারতীয় এবং এক জন বিদেশি ক্রিকেটারকে পুরনো দল থেকে রাখা যাবে।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পছন্দের দুই ভারতীয় ক্রিকেটার কারা হবেন, তা জানার জন্য গোয়েন্দা হওয়ার দরকার নেই। অবশ্যই বিরাট কোহালি এবং কে এল রাহুল। বিদেশির নামও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে— এ বি ডিভিলিয়ার্স। ক্যারিবিয়ান প্রিন্স ক্রিস গেল যতই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে এক সময় শাসন করে থাকুন, ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় তিনি খুব একটা নেই। কিন্তু জনপ্রিয় মত হচ্ছে, একাদশতম বছরে সবচেয়ে বেশি নতুন রূপ পাবে শাহরুখ খানের দল। তাঁদের মোটামুটি সবাই যে ‘বুড়ো ঘোড়াদের’ দলে!