বেজিং গত কাল পিয়ংইয়ংকে বুঝিয়ে দিয়েছিল ‘সঙ্গে নেই’। আর শনিবার চিন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে নিতে বলল আমেরিকাকে। মোদ্দা কথায়, কোরীয় উপদ্বীপে আপাতত বিবদমান দুই প্রধান প্রতিপক্ষকেই ‘ধীরে চলা’র বার্তা দিল চিন।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রপরীক্ষা নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, চিনের প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নিতে বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। শনিবার টেলিফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে ওই অনুরোধ জানান চিনা প্রেসিডেন্ট। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সংযম কেন প্রয়োজন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাও বুঝিয়ে বলেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। আগ বাড়িয়ে আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে নামলে তার দেবে না বলে বেজিং শুক্রবার পিয়ংইয়ংকে জানিয়ে দিয়েছিল।

শুক্রবারই প্রকাশ্যে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হানার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল আমেরিকার তরফে।

আরও পড়ুন- ডোকলাম নিয়ে চিন ‘কিশোর’, ভারত ‘প্রাপ্তবয়স্ক’, বলল আমেরিকা

আরও পড়ুন- বার্তা উত্তর কোরিয়াকে, যুদ্ধের দায় নেবে না চিন

আর তার পরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে যায় চিনা প্রেসিডেন্টের টেলিফোন। চিনের সরকারি টেলিভিশন সূত্রের খবর, শি টেলিফোনে ট্রাম্পকে বোঝান, কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু হামলার হাত থেকে বাঁচানোটা কেন চিন ও আমেরিকা, দু’টি দেশের কাছেই খুব জরুরি। ট্রাম্পকে শি বলেন, দু’দেশেরই (চিন ও আমেরিকা) অর্থনৈতিক স্বার্থে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজন। মন্তব্য, পাল্টা মন্তব্য, চাপ বা পাল্টা চাপ তৈরির কৌশল, বা যুদ্ধের প্রস্তুতি কোনওটাই যে সে ক্ষেত্রে কাম্য নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তা বুঝিয়ে বলেন চিনের প্রেসিডেন্ট। এও বলেন, পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে রাজনৈতিক ভাবে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে। দু’পক্ষকেই ‘রণং দেহি’ মনোভাব ছাড়তে হবে। এ ব্যাপারে বেজিং-এর সহায়তা পাওয়া যাবে বলেও শি আশ্বাস দিয়েছেন ট্রাম্পকে।

আরও পড়ুন- ট্যাঙ্ক ব্রেক ডাউন! প্রতিযোগিতা থেকে ‘আউট’ ভারতীয় সেনা

টেলিভিশনে দেখা গিয়েছে, শি’র সব কথা শুনে সদর্থক ভাবে মাথা নাড়ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট! চিনা প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব, পরামর্শকে বাহবাও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, প্রকাশ্যেই।