রুপোলি পর্দায় দেখা গেলে নাকি খাওয়ায় অনেক বিধি নিষেধ! পিনাট সস সহযোগে সুশি খেতে খেতে দেব বললেন “আমি খেয়েই ফিট থাকার চেষ্টা করি। ডিপ ফ্রাই অ্যাভয়েড করি, কিন্তু মাছ, চিকেন, মাশরুম, নানান সব্জি সবই খাই। ওজন বাড়ার ভয়ে না খেয়ে থাকার পক্ষপাতী নই। তবে পছন্দের খাবার বিরিয়ানি খেতে গেলে দশবার চিন্তা করি। ফিট থাকতে নিয়মিত এক্সারসাইজ আর জিম তো করতেই হয়। যে ক্যালোরি নিচ্ছি তা বার্ন করে ফেললে আর ঝামেলা থাকে না,’’ খাদ্য রসিক বলেই কি রেস্তরাঁর পরিকল্পনা? আবার একমুখ খাবার পুরে বললেন, মুম্বই ছেড়ে কলকাতায় স্থায়ী বসবাস শুরু করার পর বাবা গুরুপদ অধিকারী নিজের কর্মজগত ছেড়ে এসে হাঁপিয়ে উঠছিলেন। ওঁর পেশা ও নেশা ছিল নিত্যনতুন রান্না করা আর মানুষজনকে খাওয়ানো। পছন্দের কাজ করতে না পেরে বাবা ক্রমশ মনমরা হয়ে যাচ্ছিলেন। তখনই রেস্তরাঁ খোলার ভাবনা মাথায় এল। বাবাকে সে কথা জানাতেই চোখে মুখে হাজার ওয়াটের আলো জ্বলে উঠেছিল। আর নায়ক নিজেও খেতে এবং খাওয়াতে খুব ভালবাসেন। তাই আর দেরি করেননি। কয়েক মাসের মধ্যেই টলি টেলসের যাত্রা শুরু। দেখতে দেখতে  তিন বছর পেরিয়ে গেল টলি টেলসের।

টলি টেলসের স্পেশ্যাল মকটেল

রুপোলি পর্দার এই তারকার পছন্দের খাবার অবশ্য বিরিয়ানি আর মায়ের হাতের ডাল, আলুপোস্ত। তবে ডিপ ফ্রাই ছাড়া কোনও খাবারেই বিশেষ অরুচি নেই। দেবের কথায় “বাবা হলেন রান্নার যাদুকর”। তাঁরই উদ্ভাবিত কিছু মেনু দিয়ে জমে উঠবে বর্ষ বরণের খাওয়াদাওয়া। কথা প্রসঙ্গে আরও একটা কথা জানাতে ভোলেননি দেব, রেস্তরাঁ করেছেন কিছুটা বাবাকে ব্যস্ত রাখার তাগিদে, লাভের উদ্দেশ্যে নয়। আর এই কারণেই খাবারের কোয়ালিটির সঙ্গে কোনও রকম কম্প্রোমাইজ করেন না কখনও। সব্জিই হোক বা মাংস, দু’দিনের বেশি ব্যবহার করেন না। অপচয় কমাতে মাপজোখ করে বাজারহাট করা হয় ঠিকই,  কিন্তু সব সময় তো হিসেব করে বাজার করা যায় না। তাই কিছু অব্যবহৃত জিনিস বাতিল করা ছাড়া উপায় থাকে না। খাদ্যরসিকদের জন্য একটা নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই সিদ্ধান্ত।

ইংরেজি নববর্ষে নায়কের পছন্দের কয়েকটি ডিশের রেসিপি জানালেন টলি টেলসের কর্ণধার গুরুপদ অধিকারী ও শেফ সন্দীপ।

 

ক্রিমি মাশরুম টার্ট

নিরামিষ মানেই পনির অথবা সুইট কর্ন এই কনসেপ্ট বদলে দিয়েছে ক্রিমি মাশরুম টার্ট। খাঁটি মাখনের তৈরি মুচমুচে টার্টের বেড়া ডিঙিয়ে তুলতুলে বাটন মাশরুমের দুরন্ত স্বাদে অন্য মাত্রা এনেছে স্কারমুজা চিজ আর গোলমরিচের স্নিগ্ধ ঝাল। আমিষভোজীরাও এর স্বাদে মুগ্ধ হবেন এ কথা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায়। একটু চেষ্টা করলে বানানো যায় বাড়িতেও।

উপকরণ

ময়দা: ২০০ গ্রাম

মাখন: ১০০ গ্রাম

বাটন মাশরুম: ১০০ গ্রাম

পেঁয়াজ,রসুন ও লিক: মিহি করে কুচি করা – ২ টেবিল চামচ

স্কারমুজা চিজ: ২ চামচ

নুন ও গোলমরিচ ক্রাশ করা: স্বাদ অনুযায়ী

গার্নিশের জন্যে: ক্রিম, পার্সলে, কল বেরনো সর্ষে, বিট, গাজর, শসা

প্রণালী: ময়দা ও মাখন সামান্য জল দিয়ে টাইট করে মেখে টার্ট ছাঁচে দিয়ে বেক করে নিন। বাটন মাশরুমের টুকরো পেঁয়াজ রসুন কুচির সঙ্গে প্যানে মাখন দিয়ে স্যতে করে নিন। নামানোর সময় গোলমরিচ ও স্কারমুজা চিজ দিন। এ বারে টার্টের মধ্যে এই ফিলিং ভরে উপরে ক্রিম আর হোয়াইট সস দিয়ে গার্নিশ করে পরিবেশন করুন।

আরও পড়ুন: পার্টিতে মধ্যমণি, রইল ওয়ার্ডরোব টিপস

ফিশ ইন  স্পিনাচ সুশি

অ্যাপেল সিডার ভিনিগারে ভেজানো বাসার সঙ্গে টাটকা পালং আর শেডার চিজের মিলমিশে সুশি অসাধারণ স্বাদু। অন্য সুশির সঙ্গে তফাতটা না খেলে বোঝা মুশকিল। পিনাট সস সহযোগে এই পালং আর বাসা মাছের সুশি না খেলে পস্তাতে হবে।

উপকরণ

ভিয়েতনামের বাসা মাছের টুকরো : ৪টি (ছোট্ট করে কেটে রাখুন)

পালং শাক, পেঁয়াজ ও রসুন মিহি করে কুচনো: ৪ চামচ

শেডার চিজ: ৪ চামচ

অ্যাপেল সিডার ভিনিগার: ২ চামচ

মাখন: ২ চামচ

সুশি: ক্রেপ

পিনাট সসের জন্যে –

চিনে বাদাম ক্রাশ করা

পেঁয়াজ ও রসুন কুচি: অল্প

ভিনিগার: ১ চামচ

নারকেল দুধ : আধ কাপ

কর্ন ফ্লাওয়ার: সামান্য

প্রণালী: প্যানে মাখন ও সামান্য রসুন কুচি দিয়ে মাছের টুকরো ভেজে নিন। এর মধ্যে ভিনিগার, চিজ, স্বাদ অনুযায়ী নুন ও মরিচ মেশান। নামানোর আগে পালং শাকের কুচি দিন। এ বারে সুশি ক্রেপে রোল করে মুড়ে টুকরো করে কেটে উপরে পিনাট সস দিয়ে পরিবেশন করুন।

পিনাট সস বানাতে মাখনে ক্রাশ করা চিনে বাদাম, পেঁয়াজ রসুন কুচি স্যতে করে নিয়ে পেস্ট করে নিন। এ বারে এর সঙ্গে ভিনিগার নারকেল দুধ দিয়ে ফুটিয়ে ঘন করে নিন। নামানোর সময় সামান্য কর্ন ফ্লাওয়ার দিয়ে সুশি রোলে উপর থেকে ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

আরও পড়ুন: ছক ভাঙা খাবারে বড়দিনের সেলিব্রেশন

ভেজিটেবল রুলাদ

টোম্যাটো প্যাপারিকা সস সহযোগে এই ফরাসি ডিশে ভারতীয় ছোঁয়া অসাধারণ স্বাদ এনেছে। হেলদি অ্যান্ড টেস্টি এই ডিশের প্রেমে মজবেন ঘোর আমিষাশীও। লাল, হলুদ বেল পেপারের সঙ্গে বেবি কর্ন, পোলেন্ত্রা আর জুকিনির মিশেলে সার্ভ করা হয় নরম চিজ আর আলুর বেডে। কমপ্লিট এই নিরামিষ খাবার খেলে পেট ও মন খুশ। জেন ওয়াইও এর প্রেমে মজতে বাধ্য। চিকেন খাওয়া জিভ অসাধারণ অন্য রকম ফরাসি রান্নাকে আপন করে নেবে। না চেখে দেখলে বোঝা মুশকিল।  

‘এই ধরনের খবর আপনার ইনবক্সে সরাসরি পেতে এখানে ক্লিক করুন’

প্যান ফ্রাই চিকেন বাস্কেট

সাদা তিল ছড়ানো সুদৃশ বাস্কেট ভরা লালচে বাদামি বোনলেস চিকেন ব্রেস্ট। দেখলেই জিভে জল আসে। যারা চিকেনকে মাংস বলতে নারাজ, দেখলেই নাক কুঁচকোন তারাও এর স্বাদে মজতে বাধ্য। ডিম, ময়দার পরত ভেদ করলেই জিভ নেচে উঠবে অয়েস্টার সসে ভেজানো তুলতুলে চিকেনের স্বাদে। চিকেনের সঙ্গে সঙ্গৎ দিচ্ছে ক্যাপসিকাম আর স্প্রিং অনিয়ন। না খেলে পস্তাতে হবে কিন্তু।

খাবারের সঙ্গে পানীয়ের আসরও জমাটি। বার টেন্ডারের হাতে বানানো ককটেলও অসামান্য। যারা এ রসে বঞ্চিত, তাঁদের জন্যে আছে বারমেন স্পেস্যাল মকটেল। হোয়াইট রাম আর ডাবের জলের সঙ্গে লাইম জুস ও সুগার সিরাপের মিলমিশে তৈরি ফিশারম্যান ডিলাইট রূপে গুনে অনন্য।

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে তৈরি সক্কলে। হ্যাপি নিউ ইয়ার, সবাই ভাল থাকুন, শঙ্করের শুভেচ্ছা সকলের জন্যে।