তিনশোতম এক দিনের ম্যাচের বিরল মাইলস্টোন ছুঁলেন তিনি। সেই উপলক্ষে যুবরাজ সিংহকে বিশেষ সংবর্ধনা দিল ভারতীয় দল এবং ভারতীয় বোর্ড। আর সেই সংবর্ধনা দেওয়া হল যুবরাজের প্রথম ক্যাপ্টেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফের কমেন্ট্রি বক্সে ফিরেছেন সৌরভ। গত কাল কার্ডিফে পাকিস্তানের জয় দেখে এ দিন হাজির বার্মিংহামে। যুবরাজের সংবর্ধনার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানান ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি। ভারতীয় দলের ক্রিকেটারেরা প্রত্যেকে গোল হয়ে হাডল করার ভঙ্গিতে দাঁড়ান ম্যাচ শুরুর আগে। বিশেষ স্মারক তুলে দেওয়া হয় যুবরাজের হাতে। সেখানে যুবিকে নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি ম্যাচের জন্যও শুভেচ্ছা জানান কোহালির দলকে সৌরভ।

কোহালির সমর্থনেই ভারতের এক দিনের দলে এমন অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন ঘটাতে পেরেছেন যুবরাজ। না হলে তরুণ প্রজন্মকে ছেড়ে তাঁকে কেন ফেরানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কেউ কেউ বলেছিলেন, যুবরাজকে ফেরানো মানে পিছনের দিকে হাঁটা। ২০১৯ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ৩৫ বছরের যুবরাজকে ছেড়ে ভারতের উচিত তরুণ প্রজন্মকে সুযোগ দেওয়া। সেই তর্ককে পঞ্জাবের বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান আপাতত উড়িয়ে দিতে পেরেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তিনি খেলতে এসেছেন অনেক ওজন ঝরিয়ে। অনেক রোগা, অনেক বেশি ফিট দেখাচ্ছে তাঁকে। সেমিফাইনালে ব্যাট করতে নামতে না হলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তাঁর ইনিংস পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল।

নাইরোবিতে সৌরভের অধিনায়কত্বে এই টুর্নামেন্টেই আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল যুবরাজের। প্রথমে যা চালু হয়েছিল মিনি বিশ্বকাপ নামে। নাইরোবির সময় নামকরণ করা হয় আইসিসি নক-আউট ট্রফি। সৌরভের নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দলের হয়ে দুরন্ত আবির্ভাব ঘটেছিল যুবরাজ ও জাহির খানের। পরে যুবির সংবর্ধনা সেরে ফেরার পথে সৌরভ বলছিলেন, ‘‘অসাধারণ প্রাপ্তি। ভারতের মাত্র পাঁচ জন ক্রিকেটার তিনশো ওয়ান ডে খেলেছে। যুবি তার মধ্যে এক জন। নিঃসন্দেহে দারুণ কীর্তি।’’

আরও পড়ুন: ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বিশ্রামে রোহিত, বিভ্রান্তি সেই কুম্বলেকে নিয়ে

অন্য যে চার জন তিনশো এক দিনের ম্যাচের মাইলস্টোন পেরিয়েছেন, তার মধ্যে সৌরভ নিজে রয়েছেন। বাকিরা সচিন তেন্ডুলকর, মহম্মদ আজহারউদ্দিন এবং রাহুল দ্রাবিড়। তবে যুবরাজের মতো কেউ দীর্ঘ চার বছর বাইরে থাকার পর বিশ্ব মানের টুর্নামেন্টে সুযোগ পাননি। ২০১৩-তে ইংল্যান্ডেই যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল ধোনির ভারত, তাতে ছিলেন না যুবি। এত দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর দলে ফিরে বিশ্ব মানের টুর্নামেন্টে খেলাটা সেরা রূপকথা।

যদিও যুবরাজ মানে শুধু ক্রিকেটের বাইশ গজে নয়, মাঠের বাইরেও রূপকথা। সৌরভ থেকে শুরু করে জাহির খান, হরভজন সিংহ, ভি ভি এস লক্ষ্মণ— প্রত্যেকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে একটাই কথা বলছেন। ‘উইনার’। কী মাঠের মধ্যে, কী জীবনের লড়াইয়ে! যুবি নিজে খুব আবেগপ্রবণ ভাবে গত কাল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘‘মেরা জিন্দেগি বচ গয়ি। তার চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারি!’’ বলেছিলেন, তিনি চাইবেন লোকে তাঁকে মনে রাখুক ‘ফাইটার’ হিসেবে। এ দিন যুবরাজের নববধূ হেজল্ কিচ খুব মিষ্টি একটি টুইট করেন যে, ‘হে সুন্দর মানুষ, তোমার জন্য আমরা গর্বিত। তুমি পুরুষদের মধ্যে উজ্জ্বল হয়ে থাকা এক নায়ক’। 

সৌরভ অধিনায়ক থাকার সময় বরাবর যুবরাজকে সমর্থন করে গিয়েছেন। এমনও হয়েছে যে, যুবরাজেরই নিজস্ব অঞ্চল উত্তরাঞ্চলের নির্বাচক তাঁকে দলে নিতে চাননি। নির্বাচক কমিটি বৈঠকে সৌরভ গোঁ ধরে বসে থেকেছেন, যুবিকে ছাড়া টিম হবে না। সেই কথা তোলাতে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বলে দিলেন, ‘‘যুবরাজের দক্ষতা নিয়ে আমার কখনও সন্দেহ ছিল না। যুবি ফাইটার, ম্যাচউইনার। আমি খুব খুশি যে, ও সতেরো বছর ধরে খেলে যেতে পেরেছে। গ্রেট ক্রিকেটার।’’

সৌরভ খেলার সময় তাঁদের বলা হতো মহারাজ-যুবরাজ জুটি। সেই যুগলবন্দি যেন এখনও অটুট। ভারত-পাক জমজমাট ফাইনালের কথাও এসে পড়ছে সৌরভের মুখে। শিখর ধবন এবং রোহিত শর্মা দারুণ শুরু করেছেন দেখেই এক জনকে বলছিলেন, এ বার টিকিটের চাহিদা মেটাতে গিয়ে না পাগল হয়ে যাই। কার্ডিফের ম্যাচ কি সেরা অঘটনগুলোর একটা? সৌরভ মানতে চাইলেন না। ‘‘পাকিস্তান খারাপ টিম নয়। ওরা জিতলে মোটেও অঘটন বলা যায় না। অঘটন হতো যদি বাংলাদেশ হারাত ভারতকে।’’