কাল আছড়ে পড়তে পারে মোরা, বাংলাদেশের উপকূল এলাকায় ভারী দুর্যোগের সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড় মোরা পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তার আশপাশের এলাকাগুলো থেকে কিছুটা উত্তর দিকে এগিয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। মঙ্গলবার সকালে এটি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০১৭ ১২:২০
Share:

পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপটি গতকাল, রবিবার, মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। নাম দেয়া হয়েছে ‘মোরা’। ক্রমশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে এই ঘূর্ণিঝড়। মোরার প্রভাবে বাংলাদেশের তীরবর্তী সাগর হয়ে উঠেছে উত্তাল।

Advertisement

বাংলাদেশের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মোরা পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তার আশপাশের এলাকাগুলো থেকে কিছুটা উত্তর দিকে এগিয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। মঙ্গলবার সকালে এটি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

যে পথে এগোতে পারে মোরা।

Advertisement

মোরার কারণে আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে আবহাওয়ার এ-সংক্রান্ত সর্বশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত অবস্থায় উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আগামিকাল, মঙ্গলবার, সকালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আরও পড়ুন: আবার বসল ‘জাস্টিসিয়া’, তবে আড়ালে

আজ, সোমবার, সকাল ৯টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থান করছিল।
ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। এটি দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর ও এদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এ ছাড়া উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরার অদূরবর্তী চর ও দ্বীপগুলো ৫ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
মোরার প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর জেলায় চর ও নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার-পাঁচ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
এ দিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আগামিকাল মোরা অতিক্রম করা সময় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর এসব উপকূলীয় জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ এবং ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন