বছরে কত টাকার ব্যবসা হলে তা পণ্য-পরিষেবা করের আওতায় আসবে, তা নিয়ে ঐকমত্য হল না জিএসটি পরিষদের প্রথম দিনের বৈঠকে। বৃহস্পতিবার থেকে দিল্লিতে এই পরিষদের দু’দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে।
মোদী সরকার এ ধরনের ব্যবসার ন্যূনতম সীমা ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করতে আগ্রহী। অর্থাৎ যে-সব ছোট ব্যবসায়ীর বছরে বাণিজ্যের পরিমাণ ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত, তাদের জিএসটি থেকে ছাড় দেওয়ার পক্ষে কেন্দ্র। অধিকাংশ রাজ্য এতে রাজি হলেও যে-সব রাজ্যের রাজস্ব আয় কম, তারা এই সীমা ১০ লক্ষ টাকায় বাঁধতে চাইছে। না-হলে তাদের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হবে বলে দাবি। এখন এক একটি রাজ্যে আলাদা আলাদা সীমা। পশ্চিমবঙ্গে তা ১০ লক্ষ টাকা। এ বিষয়ে শুক্রবার ফের আলোচনা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।
জিএসটি চালুর জন্য সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের পরে সব রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে জিএসটি পরিষদ গঠন হয়। যার চেয়ারম্যান জেটলি। এ দিনের বৈঠকের পরে জেটলি বলেন, ‘‘ছাড়ের জন্য ব্যবসার ন্যূনতম সীমা নিয়ে দ্বিমত থাকলেও ১ এপ্রিল থেকে জিএসটি চালুর জন্য করের হার ঠিক করা ও সংসদীয় প্রক্রিয়া সেরে ফেলার জন্য দিন-ক্ষণের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। শীতকালীন অধিবেশনেই কেন্দ্রীয় জিএসটি আইন, আন্তঃ-রাজ্য জিএসটি আইন সংসদে পাশ করানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বিধানসভায় রাজ্য জিএসটি আইন পাশও এই লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে। হাতে দু’মাস আছে। তাই খসড়া সময়সূচি মেনে কাজ হবে। সবাই তাতে রাজি।’’
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা অবশ্য এখনও সংবিধান সংশোধনী বিলে সায় দেয়নি। অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেন, ‘‘বহু বিধানসভাতেই তা হয়নি। এখন অধিবেশনও চলছে না।’’ অমিতবাবু রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের এমপাওয়ার্ড কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তাই তিনিই ভাইস-চেয়ারম্যান পদের দাবিদার। কিন্তু রাজ্য সংবিধান সংশোধনীতে সায় না দেওয়ায় সে ক্ষেত্রে বাধা আসতে পারে।