ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
প্রথমে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ! তার পর ভোর ৪টেয় মেল করে সেই ৮,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই। মোট কর্মী সংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাই করল মার্ক জ়ুকেরবার্গের সংস্থা মেটা। আমেরিকা এবং ব্রিটেন-সহ বিভিন্ন দেশের ওই আট হাজার কর্মীকে কয়েক দিন আগেই বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর পর তাঁদের কাছে মেল করে চাকরি যাওয়ার বিষয়ে জানানো হয় বুধবার। ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটার সিঙ্গাপুরের ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা স্থানীয় সময় ভোর ৪টেয় (ভারতীয় সময় রাত দেড়টায়) ইমেল পেয়েছিলেন। এর পর ‘টাইম জ়োন’ অনুযায়ী ধাপে ধাপে মেল পাঠানো হচ্ছে বলে খবর।
আট হাজার কর্মীকে যে ছাঁটাই করা হবে তা আগেই জানিয়েছিল ফেসবুকের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মদক্ষতা বাড়াতে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জন্য বিপুল ব্যয়ের প্রভাব কমাতে ১০ শতাংশ কর্মী, অর্থাৎ প্রায় ৮,০০০ জনকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছিল তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটি। একটি বিজ্ঞপ্তিতে সে কথা আগেই জানিয়েছিল মেটা। সেখানে বলা হয়েছিল, কর্মী ছাঁটাইয়ের এই প্রক্রিয়া ২০ মে থেকে কার্যকর হবে। হলও তাই। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, সংস্থায় যে ৬,০০০ শূন্য পদে নিয়োগের পরিকল্পনা করেছিল মেটা, তা-ও বর্তমানে স্থগিত রাখছে তারা।
নতুন করে আট হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপের আগে মেটার প্রায় ৭৮,০০০ কর্মী ছিল। এখন হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই হয়েছেন। আরও বহু কর্মীকে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে বলে খবর। একটি নির্দেশিকায় সংস্থার ‘চিফ পিপল অফিসার’ জ্যানেল গেল জানিয়েছেন, ৭,০০০ কর্মীকে নতুন এআই-ভিত্তিক দলে স্থানান্তরিত করা হবে। প্রায় ৬,০০০ শূন্য পদ বন্ধও করে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় গেল লিখেছেন, ‘‘আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে আছি যেখানে অনেক সংস্থাই ছোট ছোট দল বা গোষ্ঠীর সমন্বয়ে একটি সরল কাঠামোয় কাজ করতে পারে। কাজও আরও দ্রুত করা যেতে পারে।’’
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেটার ছাঁটাইয়ের কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রোডাক্ট টিমগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই বছরের শেষের দিকে ফেসবুকের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরও কর্মী ছাঁটাই করতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি খবর, আপাতত এআই-কে সংস্থার প্রধান অগ্রাধিকার হিসাবে গণ্য করছেন জ়ুকেরবার্গ। মেটা জানিয়েছে, সংস্থাটি চলতি বছর মূলত এআই খাতে ১২-১৪ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে।
সূত্রের খবর, মেটা ছাঁটাই-খড়্গ হাতে নামার পর সংস্থার কর্মীদের মনোবল ব্যাপক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। জানা গিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই কিছু কর্মী বিনামূল্যে খাবার এবং অতিরিক্ত ল্যাপটপ চার্জার সংগ্রহ করতে শুরু করেছিলেন। অনেক কর্মীর মতে, বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ নিশ্চিত করেছিল যে ছাঁটাই নীরবে সম্পন্ন হবে।
তবে কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি শুধু মেটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রযুক্তি খাত জুড়ে এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। গত সপ্তাহে ৪,০০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে প্রযুক্তি সংস্থা সিসকো সিস্টেমস। মাইক্রোসফট, অ্যামাজ়ন, ডিজনি এবং এএসএমএল সকলেই কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে নেমেছে। অনেকে কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এপ্রিলে প্রযুক্তি সংস্থা ওরাকল বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০,০০০-৩০,০০০ কর্মী ছাঁটাই করেছিল।