ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘট। ছবি: পিটিআই।
দেশ জুড়ে ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা ধর্মঘটে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন শিল্পে কর্মকাণ্ড ব্যাহত হল। রাজ্যে তা আংশিক ভাবে ধাক্কা খেয়েছে বলে খবর। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এখানে ধর্মঘটের প্রভাব বেশি পড়েছে ব্যাঙ্ক, চট শিল্প এবং চা বাগানে। ধর্মঘটীদের দাবি, বিভিন্ন শিল্পে গড়ে ৬৫% কর্মী কাজে যোগ দেননি। ব্যাঙ্কে তা ৮০%। ধর্মঘটে শামিল হয়েছিল ব্যাঙ্ক শিল্পের সিংহভাগ শ্রমিক সংগঠন। একাংশ নৈতিক সমর্থন জানায়। ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংগঠন এআইবিইএ-র সভাপতি রাজেন নাগর এবং বেফির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস বসু চৌধুরীর দাবি, রাজ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের মোট শাখার ৮০ শতাংশই বন্ধ ছিল। বহু এটিএমের ঝাঁপও খোলেনি।
শ্রমিক নেতা জিয়াউল আলম, মহম্মদ কামারুজ্জামান, অশোক দাস, বাসুদেব বসু-সহ সকলে শ্রম-বিধি বাতিল, মূল্যবৃদ্ধি ও বেসরকারিকরণ রোধ, সরকারি শূন্য পদে স্থায়ী নিয়োগ, আগের মতোই একশো দিনের প্রকল্প চালুর মতো ধর্মঘটের নানা দাবির সমর্থনে ফের সরব হয়েছেন। জানিয়েছেন, চা, কয়লা, চটকল, ইস্পাত, সিমেন্ট, স্পঞ্জ আয়রন, ব্যাঙ্কিং, বিড়ি, নির্মাণ, বিমা-সহ নানা শিল্পে এবং রাজ্যের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কলকাতাতেও বড়বাজার-সহ নানা জায়গায় দোকানপাট অনেকাংশে বন্ধ ছিল। হকারেরাও বিপুল সংখ্যায় সাড়া দেন। গ্রামগুলিতে অন্তত ৩০০ জায়গায় পথে নেমেছিল কৃষক সংগঠন। ছিল ছাত্র-যুব সংগঠনগুলিও।
তৃণমূল কংগ্রেস ট্রেড ইউনিয়ন জানায়, তারা ধর্মঘটে নেই। তবে এর সিংহভাগ কারণের সঙ্গে সহমত। তাদের রাজ্য সভাপতি এবং সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, রাজ্যে ধর্মঘটের প্রভাব পড়েনি। তবে সিটুর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জিয়াউলের মতে, ‘‘ধর্মঘট সফল। ব্যাঙ্ক, চট শিল্প, চা বাগানে কাজ প্রায় পুরো বন্ধ ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ৩৫% কাজে যোগ দেননি। গিগ কর্মীরা ধর্মঘটকে সমর্থন করেছেন।’’ ধর্মঘটে ব্যাপাক সাড়া মিলেছে, দাবি এআইইউটিইউসির সহ-সভাপতি দিলীপ ভট্টাচার্যেরও। তবে ফালাকাটা-সহ নানা প্রান্তে রাজ্যের পুলিশ তাঁদের বাধা দিয়েছে এবং গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ ধর্মঘটীদের। সিটু, এআইইউটিইউসি, আইএনটিইউসি, এইচএমএস, এআইসিসিটিইউ, ইউটিইউসি-সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাজ্যে প্রায় ৬০০০ ‘পিকেটিং’ করেছেন। সিটু নেতা অনাদি সাহুর বক্তব্য, “মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য পরিবহণকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। ফলে ধর্মঘট নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে এর পরেও ব্যাপক ভাবে সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকেরা ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন। পরিবহণকর্মীরা সন্ধ্যায় ধর্মঘটের সমর্থনে ১০ মিনিট স্লোগান দিয়েছেন।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে