Traditional Train

সম্পাদক সমীপেষু: পুরনো-নতুন

নীরবে, ধীরে, এক গভীর ঐতিহ্য বহন করে চলেছে ছোট লাইন বা ন্যারো গেজ ট্রেন। এক সময় এই ট্রেনই ছিল পাহাড়, জঙ্গল ও প্রত্যন্ত জনপদের সঙ্গে আধুনিকতার প্রথম সেতু।

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৪
Share:

ভারতের রেল-ইতিহাস মানেই কেবল দীর্ঘ প্ল্যাটফর্ম, দ্রুতগামী এক্সপ্রেস কিংবা আধুনিক বন্দে ভারত নয়। এর পাশাপাশি নীরবে, ধীরে, এক গভীর ঐতিহ্য বহন করে চলেছে ছোট লাইন বা ন্যারো গেজ ট্রেন। এক সময় এই ট্রেনই ছিল পাহাড়, জঙ্গল ও প্রত্যন্ত জনপদের সঙ্গে আধুনিকতার প্রথম সেতু। আজ উন্নয়নের দৌড়ে তারা অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে, তবু ইতিহাসের পাতায় তাদের অবদান অমলিন।

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতে রেলপথ সম্প্রসারণ শুরু হয়। তখন বড় লাইন বা ব্রড গেজ বসানো ছিল ব্যয়বহুল, এবং পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চলে প্রায় অসম্ভব। এই বাস্তবতা থেকেই জন্ম নেয় ন্যারো গেজ রেলপথ— যার রেললাইনের প্রস্থ তুলনামূলক ভাবে কম। কম খরচে, কম সময়ে এবং কঠিন ভূপ্রকৃতিতে রেল যোগাযোগ স্থাপন করাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

১৮৭৯-১৮৮১ সালের মধ্যে চালু হওয়া দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ভারতের অন্যতম খ্যাতনামা ছোট লাইনের ট্রেন। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং— ৮০ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত এই রেলপথ আজও এক বিস্ময়। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে ধোঁয়া ছড়িয়ে চলা এই ট্রেন শুধু যোগাযোগ নয়, দার্জিলিঙের অর্থনীতি, চা শিল্প ও পর্যটনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আজ এটি ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত— ভারতের গর্ব।

শুধু দার্জিলিং নয়, ভারতের নানা প্রান্তেই ছোট লাইনের ট্রেন চলাচল করে। কালকা-শিমলা, মাথেরান, নীলগিরি— এই সব ন্যারো গেজ রেলপথ পাহাড়ি অঞ্চলে মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান-কাটোয়া, কাটোয়া-আমোদপুর, বাঁকুড়া-দামোদর এবং শান্তিপুর-নবদ্বীপ ঘাট ছোট লাইনের ট্রেনও এক ঐতিহ্য বহন করেছিল। কিন্তু বর্তমানে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তা আজ বড় লাইনে পরিণত হলেও কৃষিপণ্য পরিবহণ, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত— সব ক্ষেত্রেই ছোট লাইনের ট্রেন ছিল একদা অপরিহার্য।

পশ্চিমবঙ্গেও ন্যারো গেজ ট্রেনের অবদান অনস্বীকার্য। দার্জিলিং ছাড়াও এক সময় রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ছোট লাইনের রেল চলাচল ছিল। গ্রামবাংলার হাট-বাজার, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে এই ট্রেন ছিল সস্তা ও ভরসাযোগ্য বাহন। ধীরগতির হলেও এর সামাজিক ভূমিকা ছিল দ্রুত ও গভীর।

কিন্তু স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। সড়ক যোগাযোগের উন্নতি, ভারী পণ্য পরিবহণের চাহিদা এবং আধুনিকীকরণের চাপে অনেক ন্যারো গেজ রেলপথ বন্ধ হয়ে যায় বা ব্রড গেজে রূপান্তরিত হয়। উন্নয়নের যুক্তি অস্বীকার করা যায় না, তবে প্রশ্ন থেকে যায়— আমরা কি আমাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে যথেষ্ট সচেতন?

আজ ছোট লাইনের ট্রেন কেবল একটি পরিবহণ ব্যবস্থা নয়, এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আবেগের প্রতীক। রেলপথ অনেক ছোট হয়ে গেলেও দার্জিলিঙের টয় ট্রেনের হুইসল এখনও পর্যটককে টানে। এই ট্রেন আমাদের শেখায়— উন্নয়ন মানেই সব পুরনোকে মুছে ফেলা নয়, বরং পুরনোর সঙ্গে নতুনের সহাবস্থানই প্রকৃত অগ্রগতি।

ইন্দ্রজিৎ পাল, গোশুম্বা, পূর্ব বর্ধমান

মেট্রো সম্প্রসারণ

হাওড়া ময়দান থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলে চেপে দক্ষিণেশ্বর যাওয়া যায়। কিন্তু এই মেট্রোপথের সমস্যা— হাওড়া থেকে সরাসরি দক্ষিণেশ্বর যাওয়া যায় না। গ্রিন লাইনে গঙ্গার নীচ দিয়ে প্রথমে এসপ্ল্যানেড, তার পর মাটির অনেকটা গভীর থেকে উপরে উঠে এসে ধরতে হয় দক্ষিণেশ্বর যাওয়ার ব্লু লাইন মেট্রো। উল্লেখ্য, হাওড়া ময়দান থেকে গ্রিন লাইনে যাওয়ার শেষ স্টেশন সল্টলেক সেক্টর ফাইভ— সম্প্রসারণের পর যা বেড়ে হবে তেঘরিয়া। সবুজ ও নীল রঙের লাইন ছাড়াও আছে অরেঞ্জ, পার্পল, ইয়েলো-র মতো ছোট ছোট লাইনে মেট্রো পরিষেবা। কলকাতা শহরের যানজট এড়াতে এবং যাত্রী পরিবহণের মান উন্নয়নে মেট্রোপথের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু, এখনও যাত্রাপথের কিছু অংশে রয়েছে ‘ব্রেক-জার্নি’র সমস্যা, যা থেকে রেহাই পেতে দরকার মেট্রো রেলের আরও সম্প্রসারণ।

গঙ্গার পশ্চিম পারের অধিবাসীবৃন্দ, পুণ্যার্থী, ভ্রমণপিপাসু ও নিত্যযাত্রীদের ইচ্ছা— দক্ষিণেশ্বর থেকে বালি স্টেশন হয়ে হাওড়া পর্যন্ত সরাসরি মেট্রো পরিষেবা চালু হোক। তাতে সময় ও অর্থ বাঁচবে, কমবে দূরত্বও। উল্লেখ্য, বালি স্টেশন-বালি হল্ট, বালিঘাট ও কর্ড লাইনের সংযোগস্থল হওয়া সত্ত্বেও বালি স্টেশন ‘জংশন’ তকমা পায়নি। অথচ, প্রতি দিন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী বালি হল্ট থেকে ট্রেনে শিয়ালদহ-কলকাতায় যাতায়াত করেন। দক্ষিণেশ্বর-বালি-হাওড়া মেট্রো পরিষেবা চালু হলে হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন পূরণ হবে। তাই, এই স্বপ্ন রূপায়ণে কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ ও ভারতীয় রেল মন্ত্রকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

অমরেশ পাল, ব্যান্ডেল, হুগলি

বিনামূল্যে

বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় সব রেল স্টেশনে শৌচাগার আছে। সব বড় বড় স্টেশনের শৌচাগারগুলিকেই ‘পে অ্যান্ড ইউজ়’-এর আওতায় আনা হয়েছে। গোলমালের সূত্রপাত এখানেই। নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করে শৌচালয় ব্যবহার বাস্তবসম্মত, নিঃসন্দেহে। কিন্তু সমস্যা হল, প্রায় সব স্টেশনের বাইরে লেখা শৌচাগার ব‍্যবহারের মূল্য-তালিকার সঙ্গে আদায়কারীর দাবি মেলে না। যেমন, শিয়ালদহের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের শৌচাগারে বাইরে প্রদর্শিত মূল‍্য-তালিকায় যে মূল‍্য ধার্য করা আছে এক টাকা বলে, সেখানে আদায়কারী দাবি করেন দু’টাকা। রানাঘাট স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের বাইরেও শৌচাগার ব্যবহারে প্রদর্শিত মূল‍্য এক টাকা, কিন্তু আদায়কারী তিন টাকা নেন। যদি রেলের নির্ধারিত মূল্য এক টাকা হয়, তবে রেল পরিধিতে থাকা শৌচাগারের স্থানবিশেষে এমন তারতম্য কেন?

এমনিতেই লোকাল ট্রেনগুলিতে কোনও শৌচালয়ের ব্যবস্থা থাকে না বলে অনেক সময়েই যাত্রী, বিশেষত আমাদের মতো প্রবীণদের বিশেষ অসুবিধা হয়। তার উপর পরিষেবার ক্ষেত্রে এমন অরাজকতা কেন? অবিলম্বে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করলে নিত্যযাত্রীদের উপকার হয়।

তপন কুমার দাস, কলকাতা-১২২

অস্বাস্থ্যকর

সম্প্রতি শেষ হল আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তকমেলা। বইমেলা প্রাঙ্গণে পাউচের প্যাকেটে পানীয় জলের ব্যবস্থা ছিল। জলের প্যাকেটগুলো ড্রামে বা মাটিতে বস্তায় গড়াগড়ি খেতে দেখা যায়। সমস্যা হল, এই জলের প্যাকেটগুলো দাঁত দিয়ে কেটে খেতে হয়, তার ফলে শরীরে জীবাণু ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার প্যাকেট ছিঁড়তে গিয়ে অনেক সময় জল ছিটিয়ে পড়ে জামাকাপড়ে, এই শীতে বড়ই অস্বস্তি লাগে। এমন জলের প্যাকেটের ব্যবহার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত? গিল্ডের কাছে আবেদন, পরের বছর পাউচের প্যাকেটে পানীয় জলের পরিবর্তে বিকল্প পানীয় জলের ব্যবস্থা করলে স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল হয়।

দীপংকর মান্না, আমতা, হাওড়া

প্রিয় দল

বেশ ধুমধাম করে এ বছর থেকে শুরু হয়েছে উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগ। এ বারের প্রতিযোগিতায় পাঁচটি দল তাদের বিক্রম দেখিয়ে চলেছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স-এর এক জন একনিষ্ঠ ভক্ত বলে, কলকাতার একটা নিজস্ব মহিলা ব্রিগেড আশা করেছিলাম। কেকেআর-এর মালিকদের কাছে আবেদন, আগামী বছরে এই লিগে যেন কেকেআর-এর মহিলা প্রতিনিধি দল থাকে।

সঞ্জয় কুমার সাউ, ডানকুনি, হুগলি

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন