—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
কঠোরতাই কাম্য। সিবিএসই-র পরীক্ষা সংক্রান্ত কঠোর নিয়ম আপাতত একমাত্র উপায়/পথ বলেই মনে হয়। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে সিবিএসই দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা। নিয়মবিধি সেই পরীক্ষাগুলিকে কেন্দ্র করেই। পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল-সহ যে কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই নিয়ম ভাঙলে এই বছরেই শুধু নয়, পরের বছরের পরীক্ষাও বাতিল হবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর। পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে উত্তরপত্র নিয়ে গেলে, পরীক্ষা সংক্রান্ত গুজব ছড়ালে, পরীক্ষা কেন্দ্রে অভব্য আচরণ করলেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। পরীক্ষা চলাকালীন অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলা, দেখে লেখা প্রভৃতি ক্ষেত্রেও পরীক্ষা বাতিলের কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রে পৌঁছনোর সময় কী কী সঙ্গে রাখতে হবে— তার তালিকা প্রতি বছরই প্রকাশ করা হয়। তার বাইরে কোনও ধরনের কাগজপত্র সঙ্গে রাখলেও কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। তবে এই নিয়মবিধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল— সমাজমাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্ন বা তার উত্তর ছড়ালে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর সেই বছর তো বটেই, পরবর্তী তিন বছরের জন্যও পরীক্ষা বাতিল হতে পারে।
মোট চার বছর পরীক্ষা বাতিল— নিঃসন্দেহে কেরিয়ারে স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন তৈরির পক্ষে যথেষ্ট। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্রে এমন নির্দেশই কাম্য। এর ফলে অসদুপায় অবলম্বনে প্রস্তুত শিক্ষার্থীদের সতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। দশম দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা শিক্ষার্থীর কেরিয়ারে মাইলফলক বিশেষ। সুতরাং, সৎ ভাবে উপযুক্ত প্রস্তুতির সঙ্গে সেই পরীক্ষায় বসতে হবে। প্রস্তুতি যথাযথ না হলে ফলাফলও তদনুযায়ী হবে, তাকে মেনে নিয়েই ভবিষ্যৎ রূপরেখাটি প্রস্তুত করতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই— বোর্ড-নির্বিশেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর তা মগজস্থ করা প্রয়োজন। কিছু অসৎ পরীক্ষার্থীর কারণে অন্যরা ভুক্তভোগী হলে সমগ্র পরীক্ষাব্যবস্থাটিই প্রহসনে পরিণত হয়। যে কোনও উপায়ে সেই সম্ভাবনাকে বাতিল করতে হবে। সমান কঠোরতা প্রয়োজন রাজ্যের ক্ষেত্রেও। রাজ্যের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডও প্রতি বার সুস্পষ্ট নির্দেশ জারি করে। এ বারও সদ্যসমাপ্ত মাধ্যমিকে ৫১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা বাতিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। আশা করা যায়, একই কঠোরতা সেখানেও বজায় থাকবে। এসআইআর নিয়ে স্থায়ী শিক্ষকদের একাংশ দীর্ঘ দিন ব্যস্ত থাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারিতে টান পড়েছে এবং শেষ মুহূর্তে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হয়েছে— মাধ্যমিককে ঘিরে এমন অভিযোগ উঠেছিল। উচ্চ মাধ্যমিকে তার সমাধান হল কি না, নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।
তবে বর্তমানে অল্পবয়সিদের মধ্যে সমাজমাধ্যমের প্রসার ও প্রভাবের সাপেক্ষে রাজ্য বোর্ডের পরীক্ষার নির্দেশগুলিকে সিবিএসই-র অনুকরণে আরও যুগোপযোগী করা যায় কি না, ভাবতে হবে। বিভিন্ন প্রলোভনে পা দেওয়া শিক্ষার্থীদের একাংশ নকল করার নিত্যনতুন পন্থা নিচ্ছে। গার্ডের সঙ্গে অভব্য ব্যবহার, পাশ করানোর অন্যায় দাবিতে স্কুলের সম্পত্তি ভাঙচুরের মতো ঘটনা অহরহ। যথোপযুক্ত ব্যবস্থা চাই। বিদ্যালয় জীবন শিক্ষার্থীকে পূর্ণ ভাবে গড়ে তোলে। তাই বাঞ্ছিত না হলেও প্রয়োজনে প্রযুক্তির দ্বারা লাগাতার নিয়মভঙ্গের প্রবণতা কমাতে কঠোর শাসন জরুরি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে