Alumni Entrance Exam Demand

প্রবেশিকা নিয়ে ভর্তির পক্ষে মত প্রাক্তনীদের, প্রতিষ্ঠাতৃ দিবসে উঠল প্রেসিডেন্সির ঐতিহ্য রক্ষার দাবি

প্রায় ২০৯ বছর আগে হিন্দু কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল কলকাতায়। তার পর প্রেসিডেন্সি কলেজে হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তরণ। বরাবরই পড়ুয়াদের মেধা যাচাই করে নেওয়ার জন্য বিশেষ পরীক্ষা নিয়ে থাকেন কর্তৃপক্ষ। ২০১০-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেলেও সে ধারা অব্যাহত ছিল। প্রতিটি বিভাগের তরফে আয়োজন করা হত প্রবেশিকার।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৯
Share:

নিজস্ব চিত্র।

দ্বাদশের পর প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হতে গেলে প্রবেশিকায় উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক ছিল দীর্ঘ দিন। সে ধারা অব্যাহত থাক, চাইছেন প্রাক্তনীরা। মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাতৃ দিবসে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে চিঠি দিলেন প্রাক্তনী সংসদের সদস্যেরা।

Advertisement

প্রায় ২০৯ বছর আগে হিন্দু কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল কলকাতায়। তার পর প্রেসিডেন্সি কলেজে হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তরণ। বরাবরই পড়ুয়াদের মেধা যাচাই করে নেওয়ার জন্য বিশেষ পরীক্ষা নিয়ে থাকেন কর্তৃপক্ষ। ২০১০-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেলেও সে ধারা অব্যাহত ছিল। প্রতিটি বিভাগের তরফে আয়োজন করা হত প্রবেশিকার। যদিও ২০১৫ থেকে এই পরীক্ষার দায়িত্ব চলে যায় রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের হাতে।

চলতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর— দু’বিভাগের প্রবেশিকার দায়িত্বই তাঁদের হাতে থাকবে। এ বিষয়ে প্রতিটি বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছিল। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠাতৃ দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রাক্তনী সংসদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানেই উপাচার্য নির্মাল্যনারায়ণ চৌধুরীকে সামনে রেখে প্রাক্তনী সংসদের সভাপতি সুতীর্থ ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা উপাচার্যকে অনুরোধ করেছি, প্রবেশিকা পরীক্ষার দায়িত্ব যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতেই থাকে। আগেও তাই ছিল। সমস্ত বিভাগকে নিয়ে উপযুক্ত ভাবে সংঘটিত করতে হবে।” কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছেন, অ্যাডমিশন কমিটি সব বিভাগের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাবে।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস প্রফেসর প্রশান্ত রায় বলেন, “প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশিকা পরীক্ষা থাকা বাধ্যতামূলক। বিভাগগুলিকেই এর দায়িত্ব নিতে হবে। তারাই প্রশ্ন করবেন, তারাই খাতা দেখবেন। কোনও রাজনৈতিক চাপ যাতে তৈরি না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।” প্রশান্ত রায়ের পরামর্শ উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষা থেকে ৫০ শতাংশ নম্বর ও প্রবেশিকার ৫০ শতাংশ নম্বর নিয়ে যেন মেধাতালিকা তৈরি করা হয়।

তবে এই প্রথম নয়। আশির দশকেও এক বার প্রবেশিকা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানান প্রাক্তনীরা। কিন্তু সে বারও পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের সম্মিলিত আপত্তিতে সে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায়নি। প্রাক্তনী পরমা রায়চৌধুরী বলেন, “আমি চাই আগের মতোই বিভাগে বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়া হোক। ১০০ শতাংশ পরীক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হোক। ৮০ দশকের শেষের প্রবেশিকা তুলে দেওয়ার কথা উঠেছিল। তখনও আমরা আন্দোলন করেছিলাম।”

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নির্মাল্যনারায়ণ চক্রবর্তী বলেন, “সমস্ত বিভাগের সঙ্গে কথা বলছে অ্যাডমিশন কমিটি। দ্রুত রিপোর্ট জমা পড়বে। তার পরই সিদ্ধান্ত হবে।” চলতি বছর থেকে বিভাগীয় প্রবেশিকা চালু হওয়ার কথা। কিন্তু ন’টি বিভাগ পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার কথা জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রাক্তনী সংসদের সহ-সভাপতি বিভাস চক্রবর্তী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য বজায় থাক। আমরা প্রাক্তনীরা তাদের সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিচ্ছি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement