প্রতীকী চিত্র।
সহকারী শিক্ষক হিসেবে স্কুলে যোগ দিয়েছিলেন যে শিক্ষক, তাঁকে অবসরও নিতে হবে ওই একই পদে। গোটা কর্মজীবনে পদোন্নতি বা পদমর্যাদার উপর নির্ভর করে বেতন বৃদ্ধির কোনও পথ ছিল না। বহু দিন ধরেই এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছিল শিক্ষক সংগঠনগুলি। কমিটির সুপারিশও জমা পড়ে শিক্ষা দফতরে। কিন্তু তার পর আর কোনও কাজই এগোয়নি। আজও সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় লক্ষাধিক শিক্ষক।
বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের দাবি মেনে স্কুল স্তরের শিক্ষকদের পদোন্নতি ও সেই অনুযায়ী কোনও গ্রেড পে দেয় যায় কি না, তা খতিয়ে দেখে আলোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের এক কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০২৩-এ। ওই পাঁচ সদস্যের মধ্যে ছিলেন স্কুল শিক্ষা দফতর, স্কুল শিক্ষা কমিশনারেট, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের উচ্চ পদস্থ আধিকারিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। সূত্রের খবর, শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে বছর ভিত্তিক মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছিল।
কী ছিল সেই সুপারিশ পত্রে?
বলা হয়েছিল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্কুল স্তরেও শিক্ষকদের তিন ধরনের পদের বিন্যাস রাখতে হবে— সহকারী শিক্ষক, সহযোগী শিক্ষক এবং সিনিয়র শিক্ষক।
পদোন্নতির জন্য সর্বমোট ১০০ নম্বর নির্ধারণ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে ১০-১২ টি বিভাগ। এক একটি বিভাগে প্রায় ১০ নম্বর করে ধার্য হয়েছিল। সেখানে মূল্যায়ন করা হবে শিক্ষক কী ভাবে পড়াচ্ছেন। পড়ুয়ারা সেই শিক্ষাদানের দ্বারা কেমন ভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
যে কোনও রকম সরকারি প্রকল্পে শিক্ষকের যোগদান এবং তাঁর পারফর্ম্যান্স খতিয়ে দেখা হবে।
দেখা হবে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখার বিষয়ে তাঁরা কতটা পারদর্শী।
পড়ুয়াদের অনুপ্রাণিত করতে তাঁরা কতটা সমর্থ তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বিষয়ভিত্তিক পারদর্শিতা কতখানি তা-ও মূল্যায়ন করা হবে।
২০২৪-এর ডিসেম্বরে স্কুল শিক্ষা দফতরে এই সুপারিশপত্র পেশ হয়। কিন্তু তার পর থেকে আর এ বিষয়ে আর কোনও চর্চা হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।
ঠিক কোন পরিস্থিতিতে রয়েছে এই সুপারিশ? পাঁচ সদস্যের কমিটির এক সদস্যকে সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অত্যন্ত গোপনীয় এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলা যাবে না।
মুখ খুলতে নারাজ বিকাশ ভবনের কর্তারাও। যদিও বিকাশ ভবনের এক কর্তা স্বীকার করেছেন ওই সুপারিশ তাঁরা পেয়েছেন। তবে, এই মুহূর্তে এ বিষয় নিয়ে ভাবনাচিন্তার সময় নেই। বর্তমানে এসআইআর, নানা পরীক্ষা এবং শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নিয়োগ নিয়ে সকলে ব্যস্ত।
এ দিকে ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষকদের। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “গত লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের শিক্ষকদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হবে বলে শিক্ষা দফতর একটি কমিটি তৈরি করেছিল। রাজ্যের প্রায় চার লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা আশায় রয়েছেন। ফের একটা নির্বাচন আসছে, কিন্তু ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনও কাজই হল না।”
নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, “সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে বেতনকাঠামো পরিবর্তন হয়। অথচ সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তার কোনও সুযোগ নেই। আমরা বহুদিন ধরে ‘কেরিয়ার এডভান্সমেন্ট স্কিম’ (ক্যাস) চালু করার দাবি জানাচ্ছি।” তিনি জানান, সাম্মানিক-সহ স্নাতক এমনকি স্নাতকোত্তর যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকদেরও প্রথম বেতন বৃদ্ধি হয় ১০ বছর পর। তার পর ফের বেতন ২০ বছর পর। সাধারণ বিভাগে স্নাতক যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকদের বেতনবৃদ্ধি হয় ১৮ বছর পর। এ ছাড়া, আর কোনও উপায় নেই।