— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
সমগ্র শিক্ষা মিশনের বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে ‘পিএম’ (প্রধানমন্ত্রী) যুক্ত হওয়ায় বিরোধিতা করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ না মেনে নেওয়ায় বহু প্রকল্পে যুক্ত হয়নি রাজ্য। মেলেনি বরাদ্দ অর্থও। বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, তাই প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। ক্ষমতার পালাবদলের পর সমগ্র শিক্ষা মিশনের বকেয়া অর্থ উদ্ধার এবং নতুন বরাদ্দ আনার বিষয়ে উদ্যোগী রাজ্য সরকার।
সূত্রের খবর, আগামী ১২ জুন দিল্লিতে সমগ্র শিক্ষা মিশন নিয়ে সব রাজ্যের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে কেন্দ্র। সেখানে এ বার যোগ দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গও। আগামী এক বছরের পরিকল্পনা সেখানে জমা দেওয়া হবে বলে জানান এক কর্তা। এই পরিকল্পনার জন্য রাজ্যে গঠন করা হয়েছে একটি ‘এগ্জ়িকিউটিভ কমিটি’। রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে ওই কমিটিতে থাকছেন স্কুলশিক্ষা দফতরের কর্তারা।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি নবান্নে আলোচনা হয়েছে কিছু পরিকল্পনা এবং দাবি নিয়ে। কমিটির চেয়ারম্যান ইতিমধ্যে খসড়া প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন। তাই আগামী ১২ জুন ওই প্রস্তাবই পেশ করা হবে দিল্লিতে।
কী রয়েছে ওই প্রস্তাবে?
দফতর সূত্রের খবর, স্কুলের সার্বিক উন্নয়ন থেকে শুরু করে কম্পোজ়িট গ্র্যান্ট, মিড ডে মিলের পাশাপাশি স্কুলের সার্বিক পরিকাঠামো সম্বলিত ওই প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কোনও খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা যায় কিনা আলোচনা হয়েছে সে সব নিয়েও। পাশাপাশি বকেয়া টাকার বিষয়েও ইতিমধ্যে দিল্লিতে কথা হয়েছে বলে জানান এক কর্তা। মৌখিক আশ্বাস মিলেছে বলেও দাবি তাঁর। ফলে বকেয়া অর্থ আর আগামী দিনের বরাদ্দ পেতেও কোনও অসুবিধা হবে না বলে জানান তিনি। সাধারণত যে প্রস্তাবগুলি করা হয়েছে সেখানেও কেন্দ্রীয় সরকার আপত্তি জানাবে না বলেই আশা তাঁদের। তবে কোন প্রকল্পগুলি কেন্দ্রীয় সরকার মেনে নিলে সেটা চূড়ান্ত জানা যাবে ওই বৈঠকের পরেই।
বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা অবশ্য দাবি তুলেছেন যে কম্পোজ়িট গ্র্যান্ট যেমন জরুরি তেমনই স্কুলের পরিকাঠামোর উপরে জোর দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকার পোষিত স্কুলে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিও উঠছে। আপাতত ভাবে ঠিক হয়েছে প্রতিটি ব্লকে দু’টি করে উন্নতমানের পিএমশ্রী স্কুল হবে। সেগুলির পরিকাঠামো থেকে সব কিছুই অন্য স্কুলের থেকে পৃথকই হবে। কিন্তু বাকি স্কুলগুলির পরিকাঠামো যেন উন্নত করা হয় দাবি রয়েছে তারও।
সমগ্র শিক্ষা মিশনের আওতায় প্রকল্পগুলিতে কেন্দ্রের তরফে ৬০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হয়। ফলে বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে ৪০ শতাংশ আর্থিক বোঝা চাপবে রাজ্য সরকারের উপরেও। সেই দিকে লক্ষ্য রেখে ওই প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। যে কারণে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বেহিসাবি খরচের ফরে রাশ টানতে ইতিমধ্যে নির্দেশও দিয়েছে বিকাশ ভবন।