CBSE Revaluation 2026

খাতা দেখতে চেয়ে ‘পাকিস্তানি’ তকমা! সিবিএসই-র ফল ও হয়রানি কী প্রভাব ফেলছে পড়ুয়াদের মধ্যে?

বেদান্তের অভিযোগ ছিল, সিবিএসই বোর্ডের তরফে পাঠানো খাতা নাকি আসলে তাঁরই নয়। ভুল খাতার প্রতিলিপি পেয়েছেন ওই তিনি। প্রাথমিক ভাবে তাঁর অভিযোগের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। বলা হচ্ছিল, তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টটিও ভুয়ো হতে পারে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১৯:১৫
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

‘আমার খাতাই নয়’, সমাজমাধ্যমে সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেছিলেন এমনই। আর তার পরই ধেয়ে আসে কটাক্ষ। সদ্য ১৮ পেরোনো যুবককে সমাজমাধ্যমে দাগিয়ে দেওয়া হয় ‘পাকিস্তানি’ বলে।

Advertisement

বেদান্ত শ্রীবাস্তব চলতি বছর সিবিএসই বোর্ড থেকে দ্বাদশ পরীক্ষা দিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে একাধিক পড়ুয়া যেমন সিবিএসই-র খাতার প্রতিলিপি দেখা নিয়ে তাঁদের সমস্যা কথা তুলে ধরছিলেন তেমনই নিজের একটি সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন বেদান্ত। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর পোস্ট ঘিরে নানা কটূক্তির ঝড় (ট্রোল) বয়ে গিয়েছে।

বেদান্তের অভিযোগ ছিল, সিবিএসই বোর্ডের তরফে পাঠানো খাতা নাকি আসলে তাঁরই নয়। ভুল খাতার প্রতিলিপি পেয়েছেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে তাঁর অভিযোগের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। বলা হচ্ছিল, তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টটিও ভুয়ো হতে পারে।

Advertisement

অথচ, ওই পোস্ট করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিবিএসই-র তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জানানো হয় সঠিক প্রতিলিপি পড়ুয়ার ই-মেল আইডিতে পাঠানো হয়েছে। পরে ওই পড়ুয়াও সমাজমাধ্যমে লেখেন, সিবিএসই সঠিক খাতার প্রতিলিপি পাঠিয়েছে।

এক দিকে বেদান্তের মতো হাজার হাজার পড়ুয়ার শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অন্য দিকে তাঁদেরই সামাজিক ভাবে হতে হচ্ছে হেনস্থার শিকার। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষিকা জানিয়েছেন, বোর্ডের বা ওই পড়ুয়ার কোনও দোষ নেই। মানুষের মধ্যে থেকে ধৈর্য, সচেতনতা হারিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার বিকাশ হওয়া খুব প্রয়োজন, না হলে এমন ধরনের কটাক্ষ চলতেই থাকবে।

সিবিএসই-র খাতার প্রতিলিপি দেখতে চাওয়া নিয়ে এই একটাই অভিযোগ নয়, আরও একাধিক অভিযোগ উঠছে সমাজমাধ্যম জুড়ে। বোর্ডের তরফে বার বার আশ্বস্ত করা হচ্ছে সমস্ত অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবুও কটাক্ষের ঝড় থামতে চায় না।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি-র অধিকর্তা ও খড়গপুর আইআইটি-র অতিথি অধ্যাপক অম্লান চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সমাজমাধ্যম এখন শক্তি প্রদর্শনের জায়গা হয়ে গিয়েছে। যে যা খুশি বলে চলেছেন। যাচাই করার কোনও জায়গা নেই। তবে শুনেছি কেন্দ্র সরকার এই বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয়েছে।’’

সিবিএসই-র তরফে ইতিবাচক উত্তর পাওয়ার পর ২৬মে বেদান্তের দাদা সিদ্ধান্ত শ্রীবাস্তব সমাজমাধ্যমে (এক্স হ্যান্ডেলে) আরও একটি পোস্ট করেন। যে খানে দুই ভাই একসঙ্গে ছবি পোস্ট করেছেন। দেখা যাচ্ছে তাঁরা খাওয়াদাওয়া সারছেন, সঙ্গে সিদ্ধান্ত লিখেছেন ‘‘এত পরিশ্রমের পর রাজমা-চাওয়াল। বেদান্ত এবং সিদ্ধান্তের পক্ষ থেকে তাঁদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ যাঁরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন— আর হ্যাঁ, আমরা পাকিস্তানি নই।’’

অর্থাৎ অভিযোগের পর যে বেদান্ত এবং তাঁর পরিবারকে মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তা পরিষ্কার সিদ্ধান্তের এমন পোস্ট থেকে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অভিনব বসু বলেন, ‘‘ট্রোলার বাহিনী বার বার এমন কাজ করছে। প্রতিষ্ঠান বিরোধী কোনও কথা বললেই ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’র অভিযোগ উঠছে— বয়স, জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকলকেই। খুবই হতাশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি। ন্যায্য দাবি আদায় করাও যেন অন্যায়। এতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement