সামনের সারিতে বাঁদিক থেকে— সিদ্দারামাইয়া, কেসি বেণুগোপাল এবং ডিকে শিবকুমার। ছবি: পিটিআই।
কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে আপাতত বহাল থাকছেন সিদ্দারামাইয়া। উপমুখ্যমন্ত্রী তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমারের অনুগতেরা দাবি তুললেও আপাতত কংগ্রেস হাইকমান্ড সরকারের নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনায় জল ঢেলে দিলেন। এমনকি, দলের শীর্ষনেতাদের বৈঠকেও কর্নাটকে নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলে কংগ্রেসের দাবি।
মঙ্গলবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বাংলোয় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্দারামাইয়া এবং শিবকুমারের পাশাপাশি, এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল এবং কর্নাটকের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা ছ’ঘণ্টার ওই রুদ্ধদ্বার হাজির ছিলেন। বৈঠক শেষ হওয়ার পরে সিদ্দারামাইয়া এবং শিবকুমার দু’জনেরই উপস্থিতিতে বেণুগোপাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী পদে বদলের সম্ভাবনা নিয়ে কোনও কথা হয়নি। আলোচনা শুধুমাত্র ১৮ জুনের রাজ্যসভা নির্বাচন এবং বিধান পরিষদের ভোট নিয়েই হয়েছে।’’
রাহুল-ঘনিষ্ঠ বেণুগোপালের এই ঘোষণার ফলে খড়্গের রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বদল নিয়ে জল্পনায় আপাতত ইতি ঘটল বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত সাত মাস ধরেই কর্নাটক কংগ্রেসের অন্দরে মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে। উপমুখ্যমন্ত্রী শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি উঠেছে দলের অন্দরেই। দিল্লিতে কর্নাটকের কংগ্রেস বিধায়কদের একাংশ কয়েক মাস আগে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করার পর সেই জল্পনা আরও বেড়ে যায়। ওই বিধায়কদের দাবি, ২০২৩ সালের বিধানসভা ভোটে জয়ের পরে সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করার সময় কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব আশ্বাস দিয়েছিলেন, আড়াই বছর পর মুখ্যমন্ত্রী করা হবে শিবকুমারকে। অর্থাৎ, পাঁচ বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্ব সমান ভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে দুই নেতার মধ্যে। সেই ‘প্রতিশ্রুতির সম্মান’ রাখার দাবি তুলেছেন শিবকুমার-ঘনিষ্ঠেরা। গত অক্টোবরে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আড়াই বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছেন সিদ্দারামাইয়া।