Abhishek Banerjee in Birbhum

লাভপুরে জয়ের ব্যবধান বেঁধে দিলেন অভিষেক, পাঁচ শপথ নিয়ে বিজেপিকে খোঁচা, বললেন, ‘করলে মমতাই করবেন’

গত নির্বাচনে লাভপুরে তৃণমূল জয়ী হলেও কয়েকটি অঞ্চলের ফল আশানুরূপ হয়নি বলে জানিয়েছেন অভিষেক। ইন্দাস, শ্রীনিধিপুর এবং সাংড়া—এই তিনটি অঞ্চলে ভাল ফল করার ক্ষেত্রে জোর দেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ২০:৩৭
Share:

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।

১৭ হাজার থেকে ৪৮ হাজার হয়েছে। এ বার জয়ের ব্যবধান ৬০ হাজার করতে হবে। বীরভূমের লাভপুর বিধানসভায় তৃণমূলের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার লাভপুরের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিংহের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে বীরভূমবাসীর জন্য পাঁচ শপথ নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানান, এ বারের বিধানসভা নির্বাচন বিজেপিকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার নির্বাচন। পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদে রামনবমী উৎসব পালনের সময় হিংসার ঘটনায় বিজেপিকে দায়ী করেছেন তিনি।

Advertisement

প্রত্যেক বিধানসভার জন্য জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিচ্ছেন অভিষেক। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, গত বারে তৃণমূল যত ভোট পেয়েছিল, এ বার তার থেকে প্রতি বুথে একটি হলেও বেশি ভোট পেতে হবে। তবে লাভপুর নিয়ে অভিষেক আরও আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসীও। তাই জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে ৬০ হাজার করলেন। শনিবার মা ফুল্লরা মেলা প্রাঙ্গণের জনসভা থেকে তিনি বলেন, ‘‘২০২১ সালের নির্বাচনে আমরা এখান থেকে ১৭ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছিলাম। ২০২৪ সালে আপনারা আমাদের ৪৮ হাজারের বিশাল ব্যবধানে জিতিয়েছিলেন। সেই রেকর্ড ভেঙে এ বার তৃণমূল কংগ্রেসকে ৬০ হাজারের বেশি মার্জিনে জেতাতে হবে।’’ অভিষেকের সংযোজন, ‘‘বিজেপি জল, রাস্তা, শিক্ষা এবং ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রেখেছে। ওদের শিক্ষা দিতেই হবে।’’ গত এক দশকে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘চতুর্থ বারের মতো আমাদের সরকার গঠিত হলে আপনাদের সমস্ত দাবিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’’

অভিষেক জানিয়েছেন, বীরভূমের জন্য নানা উন্নয়নমূলক কাজ ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে। তিনি জনতাকে হিসাব দেওয়ার মতো করে বলেন, ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০০ মিটারের রাঙামাটি সেতু নির্মাণ হয়েছে। তাতে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তারাশঙ্কর সেতু নির্মিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আগে বোলপুর ফায়ার স্টেশন থেকে এখানকার দূরত্ব ছিল ৩০-৩২ কিলোমিটার, যা সাধারণ মানুষের জন্য সমস্যার ছিল। এখন ৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এখানেই একটি ফায়ার স্টেশন তৈরি হয়েছে। আহমেদপুরে নতুন বাজারের কাজ শুরু হয়েছে। লাভপুরেই রয়েছে অন্যতম সতীপীঠ ফুল্লরা মন্দির। আমার ‘জনসংযোগ যাত্রা’র সময় আমি ওই মন্দিরে গিয়েছিলাম। গত বার যখন এসেছিলাম, রাস্তার যে দাবিগুলো শুনেছিলাম, সেগুলো হয় পূরণ হয়েছে নয়তো কাজ চলছে। এই সতীপীঠের সংস্কারে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।’’

Advertisement

লাভপুরে তৃণমূল জয়ী হলেও কয়েকটি অঞ্চলের ফল আশানুরূপ হয়নি বলে জানিয়েছেন অভিষেক। ইন্দাস, শ্রীনিধিপুর এবং সাংড়া— এই তিনটি অঞ্চলে ভাল ফল করতে জোর দেন। ১৭টি অঞ্চলেই তৃণমূলকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘এই অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। যদি কেউ উন্নয়ন আনে, তবে সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারই আনবে।’’

সভা থেকে রাজ্যবাসীর জন্য পাঁচ ‘শপথ’ নিয়েছেন অভিষেক। তাঁর প্রথম প্রতিশ্রুতি, মা-মাটি-মানুষের সরকার ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত প্রত্যেক মহিলা আজীবন লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাবেন। দ্বিতীয়ত, আগামী পাঁচ বছরে চতুর্থ বারের মতো তৃণমূল সরকার গড়ার পর, কেন্দ্র টাকা দিক বা না দিক, প্রতিটি ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে। তৃতীয়ত, এ বার ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ প্রকল্প আনবে তৃণমূল। প্রতিটি ব্লক ও শহরে বার্ষিক স্বাস্থ্য শিবির করা হবে। অভিষেকের কথায়, ‘‘মানুষকে আর হাসপাতাল বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘুরে বেড়াতে হবে না।’’ তাঁর চতুর্থ ‘শপথ’, যে সমস্ত প্রবীণ ব্যক্তি বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন করেছেন, সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে তাঁরা ভাতা পাবেন, তাতে কেন্দ্র সাহায্য করুক বা না করুক। এবং শেষ শপথ, আবাস প্রকল্প। আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি ‘যোগ্য নাগরিক’কে পাকা বাড়ি দেবে মমতা সরকার।

শনিবার দুই জেলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের জনসভার কথা ছিল। তবে লাভপুরের পর মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা সফর বাতিল হয়ে গিয়েছে আবহাওয়ার কারণে। তবে বীরভূম থেকে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথপুরে রামনবমীতে অশান্তির প্রেক্ষিতে বিজেপিকে নিশানা করেন তিনি। তিনি জানান, রামনবমীর সময় দোকানবাড়ি ভাঙচুর হয়। কিন্তু দুর্গাপুজা থেকে ইদ কিংবা বড়দিন পালনের সময় রাজ্যে কোথাও হিংসার ঘটনা ঘটে না। অভিষেক বলেন, ‘‘ওরা অস্ত্র আর মদ নিয়ে রামনবমী পালন করে। যে অযোধ্যায় ওরা রাম মন্দির বানিয়েছে, সেই অযোধ্যার মানুষই ওদের প্রত্যাখ্যান করেছে। ওরা করে ধর্মের রাজনীতি। আমরা বিশ্বাস করি কর্মের রাজনীতিতে। আমাদের রাজনীতি অন্ন, বস্ত্র আর উন্নয়নের।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement