গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
১০ বছর পর আবার ‘চেনা ময়দানে’ দিলীপ ঘোষ। ২০১৬-র পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আবার তাঁকে খড়্গপুর সদরে প্রার্থী করেছে বিজেপি। শনিবার দলের সাত প্রার্থীর সঙ্গে খড়গপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয় মনোনয়ন জমা দেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। রোড শোয়ে দিলীপদের সঙ্গী হন শুভেন্দু অধিকারীও। নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীর দাবি, অবিভক্ত মেদিনীপুরের ৩৫টি আসনের ৩৩টিতে বিজেপি জিতেই গিয়েছে! বাকি দুটোও জেতার চেষ্টা করছেন। অন্য দিকে, হলফনামায় দেখা যাচ্ছে গত ১৬ বছরে লাখপতি থেকে কোটিপতি হয়েছেন দিলীপ। পাশাপাশি, এখন তিনি দেনামুক্ত।
দিলীপের বিষয়-আশয়
ভোলানাথ ঘোষের পুত্র দিলীপ যখন ২০১৬ সালে প্রথম বার ভোটে লড়েছিলেন, তখন তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩০ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ৬১ বছরের দিলীপ জানালেন, বর্তমানে তাঁর হাতে রয়েছে নগদ সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারের কাছে আছে ৫০ লক্ষ টাকা। বিভিন্ন ব্যাঙ্কে বিনিয়োগ রয়েছে ঘোষ-দম্পতির। পোস্ট অফিসে স্থায়ী আমানত আছে দিলীপের। বিনিয়োগ করেছেন ৩ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা। পোস্ট অফিসে সাড়ে চার লক্ষ টাকার এমআইএস-ও আছে। জীবনবিমাও রয়েছে দিলীপের। তবে স্ত্রীর কোনও বিমা নেই। সব মিলিয়ে দিলীপের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৮ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮০৫ টাকা। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২২ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা।
দিলীপের কৃষিজমি
মেদিনীপুরের আদি বাসিন্দা দিলীপের নামে ১.৮৮ একর কৃষিজমি রয়েছে। জমিটির বর্তমান বাজারদর ৪০ লক্ষ টাকা। রিঙ্কুর নামে কোনও চাষের জমি নেই। তবে রাজারহাটে তাঁর একটি ১৩০৭ স্কোয়্যারফুটের অফিসবাড়ি আছে। সেটি ২০১৩ সালে কিনেছেন।
দিলীপের বাড়ি
দিলীপের দেশের বাড়িটি ৮০০ স্কোয়্যারফুটের। পৈতৃক সম্পত্তি। ২০২২ সালে কলকাতার লেদার কমপ্লেক্স এলাকায় ৩৪৮৩ স্কোয়্যারফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনেন। তার বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা। দিলীপের ফ্ল্যাট এবং বাড়ির মিলিত বাজারমূল্য ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা।
রাজারহাটে শাপুরজি-পালোনজি গোষ্ঠীর তৈরি একটি ফ্ল্যাটের মালিক দিলীপের স্ত্রী রিঙ্কু। আয়তন ১৪০০ স্কোয়্যারফুট। বর্তমানে ফ্ল্যাটটির বাজারমূল্য ৭০ লক্ষ টাকা।
দিলীপের সম্পত্তি বৃদ্ধি
২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে যখন মেদিনীপুর থেকে লড়েছিলেন তখন দিলীপ ৪৫ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকার মালিক ছিলেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্র থেকে লড়াই করেছিলেন দিলীপ। হলফনামায় জানিয়েছিলেন, পেশায় তিনি রাজনীতিক। বিজেপির হোলটাইমার। সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৮২ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। তখন দেনা ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। তবে ’২৬ সালে দিলীপ জানিয়েছেন, তাঁর কোনও ব্যক্তিগত ঋণ নেই।
এখন স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে দিলীপ এখন ২ কোটি ১০ হাজার টাকার মালিক। স্ত্রী রিঙ্কু প্রায় ৯৩ লক্ষ টাকার মালিক।
দিলীপের শিক্ষা
১৯৮০ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন দিলীপ। ১৯৮২ সালে ঝাড়গ্রাম থেকে ভোকেশনাল কোর্স করেন।
দিলীপের বিরুদ্ধে মামলা
দিলীপের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন থানায় ২৮টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। বিধাননগর এমপি-এমএলএ আদালতে মোট আটটি মামলা হয়েছে দিলীপের নামে। এ ছাড়া ইচ্ছাকৃত ভাবে আঘাতের ষড়যন্ত্র, খুনের চেষ্টা, খুনের হুমকি, দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
মেদিনীপুর আসনে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে প্রায় ৮৯ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন দিলীপ। ২০২৪ সালে সেই তিনিই বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে হেরেছেন প্রায় ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ভোটে। হারের কারণ বলতে গিয়ে বিজেপি নেতা বলেছিলেন, “রাজনীতিতে সবই সম্ভব। তবে কী কারণে হয়েছে, কে, কী করেছে, সবই পর্যালোচনা করে বোঝা যাবে। রাজ্য নেতৃত্ব কেন্দ্র নেতৃত্বের সঙ্গে বসে আলোচনা করবে, এখন আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’’