রাজ্যের মন্ত্রী তথা দমদম উত্তরের তৃণমূলপ্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে এ বারও দমদম উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। গত ৪ এপ্রিল তিনি নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ৭১ বছর বয়সি এই তৃণমূলপ্রার্থী হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই। বসতবাড়িটি লিজ়ে নেওয়া। তবে গত পাঁচ বছরে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ বেশ খানিকটা বেড়েছে। কোটিপতি হয়েছেন চন্দ্রিমা।
২০১১ সালেই দমদম উত্তরের বিধায়ক হয়েছিলেন চন্দ্রিমা। ২০১৬ সালে ওই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্যের কাছে পরাজিত হন। ২০১৭ সালের উপনির্বাচনে কাঁথি দক্ষিণ থেকে জিতেছিলেন তিনি। পরে ২০২১ সালের ভোটে আবার দমদম উত্তরে লড়েন এবং জেতেন। এ বার তাঁর বিরুদ্ধে সিপিএম প্রার্থী করেছে তরুণ নেত্রী দীপ্সিতা ধরকে। বিজেপির হয়ে লড়বেন সৌরভ সিকদার।
হলফনামা অনুযায়ী, চন্দ্রিমার নামে কোনও স্থাবর সম্পত্তি আগেও ছিল না, এখনও নেই। বালিগঞ্জের গরচা রোডের একটি বাড়িতে থাকেন তিনি। ১ কাঠা ১২ ছটাক জমির উপর সেই বাড়িটি লিজ়ে নেওয়া। চন্দ্রিমার হাতে আপাতত ১ লক্ষ ২০ হাজার ২৪০ টাকা নগদ আছে। তাঁর স্বামী সমীর বসু পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর হাতে রয়েছে ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৩২০ টাকা। এ ছাড়া, চন্দ্রিমার একটি ১১ লক্ষ টাকার গাড়ি এবং দুই লক্ষাধিক টাকার গয়না আছে। গয়নাগাটির মধ্যে সোনার চেন, বালা, আংটি এবং হিরের কানের দুল আছে। মোট বাজারমূল্য ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২৪ লক্ষ ১৯ হাজার ৯৯ টাকা। তাঁর স্বামীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ লক্ষ ২৯ হাজার ১৪০ টাকা। চন্দ্রিমা রাসবিহারী কেন্দ্রের ভোটার।
২০২১ সালে ভোটে লড়ার সময় চন্দ্রিমার হাতে নগদ ছিল ১ লক্ষ ১৮০ টাকা। তাঁর স্বামীর হাতে ছিল ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮৭৬ টাকা। সেই সময় তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৫৮ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৩১ টাকা। তাঁর স্বামীর অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ১৩৭ টাকা। গাড়ি বা গয়নার সংখ্যা না-বাড়লেও চন্দ্রিমার সম্পত্তি বেড়ে এখন কোটির গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। পাঁচ বছর আগেও তাঁর কোনও ঋণ ছিল না, এখনও নেই।
চন্দ্রিমা নিজে সমাজকর্মী। তাঁর নামে কোথাও কোনও মামলা নেই। পাঁচ বছর আগেও ছিল না। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, মন্ত্রী হিসাবে প্রাপ্ত ভাতা এবং বেতনই তাঁর আয়ের একমাত্র উৎস। এ ছাড়া, স্বামীর ব্যবসা থেকে আয় হয়।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চন্দ্রিমা বি.কম পাশ করেন ১৯৭২ সালে। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এর পর ১৯৭৬ সালে তিনি আইন পাশ করেন। আইনে স্নাতকের ডিগ্রি (এলএলবি) রয়েছে তাঁর। পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসাবে তাঁর নাম নথিভুক্ত হয় ১৯৭৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর।