রাসমেলা ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সন্দীপ পাল
এক দিকে বাংলা ভাগে উস্কানির অভিযোগ তুলে বিজেপিকে তুলোধোনা। অন্য দিকে, জোটের অঙ্ককে তাচ্ছিল্য। সোমবার কোচবিহারে পরপর সভায় এটাই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতার মূল নির্যাস।
পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক সভায় তৃণমূল নেত্রী রবিবারেই অভিযোগ তুলেছিলেন, উত্তরবঙ্গে বিজেপি ভোট লুট করেছে। সেই ধারা বজায় রেখে সোমবার কোচবিহারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘‘ওরা বলে কোচবিহারটা ভেঙে দাও। কেউ বলে দার্জিলিংটাকে ভেঙে দেব বিজেপিকে ভোট দিলে। কেউ আবার অসম থেকে কোচবিহারে লোক নিয়ে আসে। কোচবিহারটায় আগুন জ্বালিয়ে দাও।’’ এর পরেই তাঁর বক্তব্য, ‘‘কোচবিহারে আগুন জ্বালাতে দেব না।’’
তাঁর আক্রমণের একটি দিক যদি হয় এই ‘বিচ্ছিন্নতাবাদ’ নিয়ে, অন্য দিকে ছিল জোটের সাফল্য নিয়ে ব্যাখ্যা। তৃণমূলের নির্বাচন ব্যর্থতাকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘‘জোট আমরাও করেছিলাম। কিন্তু ’৯৮ সালে (লোকসভা ভোটে) জিতিনি।’’ এই প্রসঙ্গে ২০০৪-এর লোকসভা ভোট, ২০০৬-এর বিধানসভা ভোটের কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, ‘‘২০১১ সালে মানুষ চেয়েছিল, তাই জিতেছিলাম।’’ আর এই উদাহরণ দেখিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘ওরা (সিপিএম, কংগ্রেস, ফরওয়ার্ড ব্লক) যত এক হবে, তত আমাদের মঙ্গল। জোট করলে ওটা ঘোট হয়। সব সময় কাজ হয় না।’’
কোচবিহারে বিজেপি গত লোকসভা ভোটে গড়ে ১৬-১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। সীমান্তবর্তী এই জেলায় যদি বিজেপি ওই ভোট ধরে রাখতে পারে, তবে বিরোধীদের ভোট ভাগাভাগি হবে এবং তাতে তৃণমূলের জয়ের আশা বাড়বে— তৃণমূলের অন্দরে এমন একটা আলোচনা চলছে গত কয়েক দিন ধরে। প্রশ্ন হচ্ছে, তা হলে কি মমতাও সে কারণেই বিজেপিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?
তবে জোটের শরিকরা এই যুক্তিকে পাত্তা দিতে নারাজ। স্থানীয় অনেক নেতারই দাবি, কোচবিহারে দাঁড়াতে পারবে না তৃণমূল। এখানকার মানুষ কি ভুলে গিয়েছে, ছিটমহল হস্তান্তরের সময় কী ভাবে বাধা দিয়েছিলেন মমতা? যদিও তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, আসলে তো মমতার উদ্যোগেই ছিটমহল হস্তান্তর সম্ভব হয়েছে। ওই সব এলাকায় তাঁদের প্রভাব আছে বলেও দাবি করছেন তাঁরা।
আর এলাকার মানুষ? তাঁরা বলছেন, আর তো মোটে ক’টা দিন। ৫ তারিখে ভোট। তার পরে ১৯শেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, কে ঠিক, কে ভুল।