(বাঁ দিকে) হুমায়ুন কবীর। (ডান দিকে) শিল্পা তিওয়ারি। —নিজস্ব ছবি।
তৃণমূলের বাধা এলেও আসতে পারে। তাই বলে বিজেপি? বাড়িভাড়া না-পেয়ে এ ভাবেই বিস্ময় প্রকাশ করলেন হুমায়ুন কবীরের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী শিল্পা তিওয়ারি। অভিযোগ, বিজেপির আপত্তিতে নির্বাচনীয় কার্যালয়ের জন্য ঘর ভাড়া নিতে পারেননি। তার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হুমায়ুনের দলের প্রার্থী।
শিল্পা আদতে মালদহের বাসিন্দা। বয়স প্রায় ৩৫ বছর। এই বিধানসভা ভোটে রাজ্যের নয়া রাজনৈতিক দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে পূর্ব বর্ধমানের কাটায়ো থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। প্রচারের সুবিধার জন্য কাটোয়ায় ভাড়াবাড়ি খুঁজছিলেন শিল্পা। একটি বাড়ি পেয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষমেশ চুক্তি বাতিল করতে হয়েছে বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভে। বাড়িমালিক ভাড়ার চুক্তি বাতিল করে টাকা ফেরত দেওয়ার পর রাগে গজরাতে থাকেন শিল্পা। তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম কাটোয়ায় এলে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেই বাধা আসবে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বা তাঁর দলের পক্ষ থেকে কোনও রকম সমস্যা হয়নি। বরং বিজেপির পক্ষ থেকেই আমাদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে খবর, কাটোয়ার মণ্ডলহাট এলাকায় জনৈক প্রণয় মণ্ডলের দোতলা বাড়ির উপরতলার একটি ঘর দু’মাসের জন্য ভাড়া নিয়েছিল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। ওই ঘরটি তাদের প্রার্থী শিল্পার নির্বাচনী কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করা হবে বলে ভেবেছিল। কিন্তু শনিবার ওই এলাকায় যেতেই বিজেপির বাধার মুখে পড়েছেন হুমায়ুনের ‘সৈনিক’। অভিযোগ, প্রথমে প্রণয়ের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তাতেই ভয় পেয়ে যান মালিক। তিনি বলেন, ‘‘আমি জানতাম না যে, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের জন্য ঘর ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের আপত্তির কথা শুনে চুক্তি বাতিল করেছি। অগ্রিম হিসাবে যে টাকা নিয়েছিলাম, সেটা ফেরত দিয়ে দিয়েছি।” অন্য দিকে, শিল্পা জানান, তিনি তো বিক্ষোভের মুখে পড়েনই, বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্রটি বিজেপির কয়েক জন ছিনিয়ে নিয়ে কুটি কুটি করে ছিঁড়ে ফেলেছেন। তবে এ পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অন্য দিকে, বিজেপির কাটোয়া-১ মণ্ডল কমিটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক অনন্ত গায়েন বলেন, “কাটোয়া শহরে আরও অনেক জায়গা রয়েছে, যেখানে ওঁরা কার্যালয় করতে পারেন। কিন্তু হুমায়ুন কবীর অতীতে হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তাঁর দলের কার্যালয় হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় হলে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ারই আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই আমরা বাড়িমালিককে অনুরোধ করে চুক্তি বাতিল করিয়েছি।”