সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
প্রধান বিচারপতি: কমিশন আজ রাতেই পুরো তালিকা প্রকাশ করতে পারবে।
শুধুমাত্র ডিজিটাল সিগনেচার আপলোড করার জন্য পোর্টাল ৭ এপ্রিল পর্যন্ত খোলা থাকবে।
কমিশনকে নন্দলাল বসুর নাতি-নাতনির করা আপিলে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেনের নাম। পাশাপাশি, তাঁর স্ত্রী দীপা সেনের নামও নেই ভোটার তালিকায়। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতে তাঁদের সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর পর্ব শুরু হওয়ার পর শুনানিতে ওই দম্পতিকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেই সময় শুনানিতে হাজিরা দিয়ে যাবতীয় নথি জমা করে এসেছিলেন সুপ্রবুদ্ধরা। যদিও পরে যখন এসআইআরের তালিকা প্রকাশ হয়, তখন দেখা যায় ওই দম্পতির নাম রয়েছে বিবেচনাধীন ভোটারদের তালিকায়। বিচারকেরা সেই তালিকার থাকা ভোটারদের তথ্য নিষ্পত্তি করছেন। ধাপে ধাপে বার হচ্ছে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা। দেখা যায়, সুপ্রবুদ্ধ এবং তাঁর স্ত্রীর নাম জায়গা পায়নি ভোটার তালিকায়।
প্রধান বিচারপতি: অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দিতে হবে।
প্রধান বিচারপতি: বিচারকদের দেওয়া কারণ-সহ সব কিছু খতিয়ে দেখে নিজেদের প্রক্রিয়া তৈরি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ট্রাইবুনাল।
প্রধান বিচারপতি: ১৯টি আপিল ট্রাইবুনালের একই রকম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।
প্রধান বিচারপতি: হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে তিন জন প্রাক্তন সিনিয়র প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি: এই কমিটি একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ঠিক করবে, যা ১৯টি ট্রাইবুনালকেই বাধ্যতামূলক ভাবে অনুসরণ করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি: আদালত আশা করছে এই কমিটি আগামিকালের মধ্যেই প্রক্রিয়াটি নির্ধারণ করবে। যাতে আপিলগুলির নিষ্পত্তি দ্রুত করা যায়।
প্রধান বিচারপতি: ওই কমিটি আরও সিদ্ধান্ত নেবে, সব আপিল কি শুধুমাত্র কলকাতাতেই দাখিল করতে হবে, না কি অন্য জায়গাতেও তা করা যাবে।
প্রধান বিচারপতি: যদি রাজ্যের প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে কী করতে হবে তা বিবেচনা করব।
কমিশন: কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য আদালতে জমা দেওয়া হয়।
কমিশন: গতকাল একটি বক্তৃতায় বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ থেকে সিআরপিএফ জওয়ানরা এসে আপনাদের মারবে, তাই প্রস্তুত থাকুন।
কমিশন: এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিবেশকে আরও খারাপ করে দেবে।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা: গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগ নিয়ে আমাদের কিছু বলার রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন: বিচারকেরা বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছেন। যাঁরা অসন্তুষ্ট তাঁরা আপিল করতে পারেন। তবে এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। এর প্রভাব নির্বাচনে পড়া উচিত নয়।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী: আমরা আপনার উদ্বেগ সম্পর্কে সচেতন। আমরা আগেই বলেছি যে, আপিল ট্রাইবুনালগুলি এই বিষয়টি দেখবে, যাতে সাংবিধানিক অধিকার বজায় থাকে।
আইনজীবী শ্যাম: ৬০ লক্ষ মামলার মধ্যে ৪৪ লক্ষ মামলার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ ক্ষেত্রে নাম উঠেছে, আর প্রায় ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিচারকদের দ্বারা নাম বাদের হার খুবই বেশি।
শ্যাম: মোট ২০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৭ লক্ষ আপিল করা হয়েছে এবং আরও অনেক আপিল প্রক্রিয়ার অন্তর্গত রয়েছে। আদালত ১০ মার্চ আপিল ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু সেগুলি এখনও পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
শ্যাম: ট্রাইবুনালগুলির বাইরে দীর্ঘ লাইন পড়ছে এবং ভোটারেরা আপিল দাখিল করতে গিয়ে প্রচণ্ড সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
শ্যাম: আমাদের প্রস্তাব, ১৫ এপ্রিলকে কাট-অফ তারিখ হিসাবে নির্ধারণ করা হোক। যাতে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যায়। তার পাঁচ দিন পরে, ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট।
আইনজীবী কপিল সিব্বল: যে সব ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে ভুল করে নাম বাদ মনে হচ্ছে, সেখানে কি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কোনও ব্যবস্থা করা যেতে পারে?
প্রধান বিচারপতি: আমরা বিষয়টি আপিল ট্রাইবুনালগুলির উপরই ছেড়ে দিচ্ছি।
আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান: আপিল দাখিল করার জন্য অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি: ট্রাইবুনাল নতুন নথি দেখতে পারেন। কেউ যদি মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট জমা দেন এবং তা দেখা না হয়, তা হলে আপিল ট্রাইবুনাল সেটি যাচাই করে দেখতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: আপিল ট্রাইবুনালে অফলাইন ডকুমেন্ট জমা দিলে রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। এমন অভিযোগ রয়েছে।
প্রধান বিচারপতি: আমি জীবনে প্রথম বার কোর্ট কক্ষের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে এসেছি। এখানে প্রাক্তন বিচারপতি শিবজ্ঞানমের একটি চিঠি আছে। ওই চিঠিতে আপিল প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত শুনানি কী ভাবে হবে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
কমিশনকে বিচারপতি বাগচী: যাঁরা আপিল করছেন, তাঁদের অভিযোগ, তাঁরা জানেন না কেন তাঁদের আবেদন খারিজ করা হয়েছে। আপনারা ট্রাইবুনালকে বলতে পারেন, যাতে তারা নথিপত্র প্রকাশ করে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, মুর্শিদাবাদ, মালদহে প্রায় ৮ লক্ষ আপত্তি জমা পড়েছিল। বিচারকদের ঘেরাও-সহ নানা সমস্যার মধ্যেও কোনও কাজ বাকি রাখা হয়নি।
সোমবার দুপুর ১২:০৪ মিনিট পর্যন্ত ৫৯ লক্ষ ১৫ হাজার নিষ্পত্তি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
এসআইআর শুনানি শুরু হল সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচার সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর মামলার শুনানি হয়।
সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বিশেষ নিবিড় সংশোধন মামলার শুনানি রয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে শুনানি রয়েছে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত ৫৮ লক্ষ ৬ হাজার ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের নিষ্পত্তি হয়েছে। সোমবার বিবেচনাধীন নিষ্পত্তির কাজ শেষ হওয়ার কথা। আবার সোমবারই প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন।