মুর্শিদাবাদে বিধানসভা ভোটের প্রচারে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
মমতা বলেন, ‘‘ইভিএম খারাপ করে দিলে অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু তাতে আর ভোট করতে দেবেন না। সারানোর নাম করে চিপ ঢুকিয়ে দেবে। ওরা পারে না এমন কোনও কাজ নেই। ভোটের পর ভোটবাক্সকে মায়ের মতো পাহারা দেবেন।’’
মমতা বলেন, ‘‘বিজেপি কৌরবের দল। আমরা পাণ্ডবের দল। আমরা মা-মাটি-মানুষের দল। আপনারা কৌরব চান না পাণ্ডব চান? সব সরকারি প্রকল্প বজায় রাখতে হলে আমাদের ভোট দেবেন।’’
মমতা বলেন, ‘‘অনেকের নাম বাদ দিয়েছে। অনেক মানুষ মারা গিয়েছেন। এ বার বদলা নেওয়ার পালা। তাই এই খেলার নাম দুরন্ত খেলা। সব জায়গায় ওদের লোক আছে। কিন্তু মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। ভোটের বাক্সে বদলা হবে।’’
মমতা বলেন, ‘‘আমার নাম করেও কেউ অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইলে দেবেন না। এগুলো বিজেপি ছদ্মবেশে করছে। যেটুকু সম্পদ আছে, তা-ও কেড়ে নেবে। বাঘ-সিংহকে বিশ্বাস করতে পারেন। বিজেপিকে বিশ্বাস করবেন না। ওরা ভয়ঙ্কর অত্যাচারী।’’
মমতা বলেন, ‘‘আমি গণতন্ত্রের যোদ্ধা। সকলকে নিয়ে একসঙ্গে বাঁচতে চাই। মা-বোনেরাই আমার সহযোদ্ধা। ভাইয়েরা তাঁদের পাশে থাকবেন।’’
২৯৪টি কেন্দ্রে তিনিই প্রার্থী। মুর্শিদবাদের জিয়াগঞ্জের সভা থেকে ফের সে কথা ঘোষণা করলেন মমতা। বলেন, ‘‘তৃণমূলের যে প্রার্থীকেই ভোট দেবেন, ভোটটা আমি পাব।’’
ভবানীপুরে অমিত শাহের উপস্থিতি শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার রোড শো-তে অশান্তি নিয়ে মুখ খুললেন মমতা। দাবি, বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘ভবানীপুরে আমার বাড়ির সামনে হামলা হল। আমার পোস্টারে থুতু দিচ্ছিল। অভিষেকের বাড়ির দিকে জুতো দেখাচ্ছিল। স্থানীয় লোকজনই এর প্রতিবাদ করেছে। এটা রাজনীতি নয়। মনোনয়ন দিতেও ওরা বাইরের লোক নিয়ে এসেছিল।’’
মমতা বলেন, ‘‘কাল ভবানীপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনী অসভ্যতা করেছে। এক মহিলাকে আপত্তিকর ভাবে চেক করেছে। সাবধানে থাকবেন।’’
পশ্চিমবঙ্গে চাকরি নেই বলে বহু মানুষ বাইরে কাজ করতে যান, অভিযোগ বিরোধীদের। মমতার দাবি, বাইরের রাজ্য থেকেও অনেকে এ রাজ্যে কাজ করতে আসেন। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেশিশাসিত রাজ্য থেকে এসে দে়ড় কোটি পরিযায়ী শ্রমিক পশ্চিমবঙ্গে কাজ করেন। আমরা কাউকে কিছু বলি না। কিন্তু এখান থেকে বাইরে কাজ করতে গিয়ে বাংলা বললে অপমান করে। এই বিজেপি সরকার চিরকাল থাকবে না। বাংলার মানুষের কাছে ভোট চান কোন মুখে?’’
মমতা বলেন, ‘‘এক বার বেলুড় মঠে গিয়ে দেখলাম একটা দরগা। স্বামী বিবেকানন্দের বাসনা ছিল তাই এখনও সেটা অক্ষত আছে। বিবেকানন্দ এক বার সংখ্যালঘুর বাড়িতে গিয়ে তামাক খেয়েছিলেন। তাই বলি, ধর্ম নিয়ে দেশ ভাগ করবেন না, বাংলা ভাগ করবেন না। আমার বাড়িতেও কালীপুজো হয়। আমি তো অন্য ধর্মকে অসম্মান করি না।’’
এসআইআর-এর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন মমতা। জানান, যে ভোটারদের অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে এবং নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের ভোটেই লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতেছে। তাই একই যুক্তিতে মোদী ও শাহের পদত্যাগ করা উচিত।
বিরোধী দলগুলিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘দিল্লির বাবুরা বসন্তের কোকিলের মতো আসেন। তার পর পালিয়ে যান। ভাড়াটে সৈন্য বাইরে থেকে নিয়ে আসেন। বহিরাগতদের নিয়ে মিছিল মিটিং করে। ভাবছেন, এ ভাবেই চলবে।’’
মমতা বলেন, ‘‘শুধু মুর্শিদাবাদের মানুষের ভোটাধিকারই কাটছে না। আমার নিজের কেন্দ্রেও, যেখানে আমি নিজে প্রার্থী, সেখানেও ৪০ হাজার মানুষের নাম বাদ দিয়েছে।’’ ৫০ শতাংশ মুসলমানের সঙ্গে ৫০ শতাংশ হিন্দুর নামও বাদ গিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মুর্শিদাবাদে রবিবার দু’টি জনসভা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শমসেরগঞ্জের পর তিনি পৌঁছে গিয়েছেন জিয়াগঞ্জে। সেখানে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শাওনী সিংহ রায়ের সমর্থনে প্রচার করছেন। এর পর অধীর চৌধুরীর গড় বহরমপুরে যাবেন মমতা। তবে সেখানে জনসভা করবেন না। রোড শো-এর আয়োজন করা হয়েছে।