WB Elections 2026

মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভবানীপুরের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব মন্ত্রী জাভেদকে দিল তৃণমূল, লক্ষ্য যথাসম্ভব ব্যবধান ঘোচানো

সুব্রত বক্সী দায়িত্ব পেয়েছেন ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ এবং ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের। অপরদিকে কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম পেয়েছেন ৭৪,৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব। কিন্তু সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়েছে, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটের যাবতীয় কাজ করবেন কসবার তৃণমূল বিধায়ক।

Advertisement

অমিত রায়

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১১
Share:

ভবানীপুরে ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটের যাবতীয় দায়িত্ব সামলাবেন জাভেদ খান। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের লড়াইয়ে মন্ত্রী জাভেদ খানকে একটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব দিলেন শাসকদলের শীর্ষনেতৃত্ব। প্রাথমিক ভাবে ভবানীপুর বিধানসভার আটটি ওয়ার্ডে দু’জন শীর্ষনেতা দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী দায়িত্ব পেয়েছিলেন ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ এবং ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের। অপরদিকে কলকাতার মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম দায়িত্ব পেয়েছিলেন ৭৪, ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের। কিন্তু সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়েছে, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটের যাবতীয় কাজ করবেন কসবার তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ। আসন্ন ভোটে তিনি কসবা কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Advertisement

গত কয়েকটি নির্বাচনের ইতিহাস বলছে, ভবানীপুর বিধানসভার পাঁচ থেকে ছ’টি ওয়ার্ডে বিজেপির ভাল ভোট রয়েছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ সুব্রত বক্সীকে ১৭৬ ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন বিজেপি-র প্রার্থী তথাগত রায়। ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফলাফলের নিরিখে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে না থাকলেও পাঁচ থেকে ছ’টি ওয়ার্ডে এগিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভার যে ক’টি ওয়ার্ডে বিজেপি ‘সন্তোষজনক’ ব্যবধানে এগিয়েছিল, তার মধ্যেই আছে ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড। ২০১০ সাল থেকে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৃণমূলের সুস্মিতা ভট্টাচার্য। কিন্তু তা সত্ত্বেও লোকসভা ভোটে ওই ওয়ার্ডে বার বার পিছিয়ে পড়েছে শাসকদল।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডে ১,৪৬৮ ভোটে এগিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে যাতে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে এখন থেকেই সজাগ তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্ব। তাই ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটের যাবতীয় দায়িত্ব জাভেদকে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

তবে তাঁকে ‘দায়িত্ব’ দেওয়া হয়েছে বলে মানতে নারাজ জাভেদ। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘‘আমায় দল ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছে। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী অনেক কাজ করেছেন। সেই কাজগুলি ওই ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি মানুষের জানা উচিত। আমি ওই ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি বাড়িতে গিয়ে বিধায়ক এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতাদি ভবানীপুরে কী কী কাজ করেছেন, সে কথা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেব।’’

দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, দায়িত্বের কথা জাভেদ স্বীকার না করলেও বিধানসভা নির্বাচনে ওই ওয়ার্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে যথাসম্ভব বেশি ভোটে এগিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। রাজ্য সভাপতি তথা দলের বর্ষীয়ান নেতা সুব্রতকে ওই ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাই জাভেদ সরাসরি ‘দায়িত্ব’ পাওয়ার কথা প্রকাশ্যে মানতে চাইছেন না। প্রসঙ্গত, মেয়র ফিরহাদ কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হলেও ভবানীপুরে দলের দেওয়া দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নিজের কেন্দ্রের বদলে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে দরজায় দরজায় প্রচার করছেন। পাশাপাশি, তাঁর দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ডগুলিতেও ভোটের ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন। দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল সূত্র জানাচ্ছে, ফিরহাদের মতো জাভেদকেও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে সেই একই কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement