Girish Park incident

গিরিশ পার্ক-কাণ্ড: মন্ত্রী শশীর বাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ন’জনের আগামী সোমবার পর্যন্ত জেল হেফাজত

ধৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে জমায়েত, খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, অস্ত্র দিয়ে আঘাত, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ডব্লিউবিএমপিও (জনসুরক্ষা) আইনের ধারাও যোগ করা হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৮:১৩
Share:

গিরিশ পার্কে অশান্তির ঘটনা। —ফাইল চিত্র।

গিরিশ পার্কে অশান্তির ঘটনার ধৃত ন’জনকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার পুলিশের তরফ থেকে আবার অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল বিচারকের কাছে। অন্য দিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শেষপর্যন্ত বিচারক ধৃতদের জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Advertisement

অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবীর বক্তব‍্য, এই ঘটনা সাজানো। এই মামলায় বাজেয়াপ্ত করা সামগ্রীও সঠিক নিয়ম মেনে বাজেয়াপ্ত করা হয়নি । সিসিটিভি বাজেয়াপ্ত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে জামিনের আবেদন করা হয় অভিযুক্ত পক্ষের তরফে। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন বুধবার গিরিশ পার্ক-কাণ্ডে পুলিশ রিপোর্ট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নতুন করে রিপোর্ট তলব করেছে। গত শনিবার (১৪ মার্চ) বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশের দিনে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে ওই অশান্তির ঘটনা এক ঘণ্টা ধরে চললেও কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি, সে কৈফিয়তও তলব করেছে কমিশন।

গত ১৪ মার্চ বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশমুখী একাধিক বাসের উপরে হামলার ঘটনা ঘটে গিরিশ পার্ক এলাকায়। এলাকার বাসিন্দা তথা রাজ্যের মন্ত্রী শশীর অনুগামীরা সেই হামলা চালাচ্ছিলেন বলে বিজেপির অভিযোগ। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীরা বিনা প্ররোচনায় অশান্তি তৈরি করেছিলেন। মন্ত্রী শশীর বাড়িও আক্রান্ত হয়। দু’পক্ষেরই বেশ কয়েক জন আহত হন। জখম হন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্করও। ওই ঘটনা নিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। তাতে দাবি করা হয়েছে, অশান্তি হতে পারে বলে কলকাতা পুলিশের কাছে আগে থেকেই খবর ছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত করা হয়নি।

Advertisement

গিরিশ পার্ক-কাণ্ডের পরেই স্বতঃপ্রবৃত্ত মামলা করেছিল পুলিশ। তার পরে শনিবার গভীর রাতে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি দু’পক্ষই। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। ঘটনায় মোট আট জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম প্রসাদ জয়সওয়াল, প্রসূন পাত্র, বিকি বেরা, গোবিন্দ কর্মকার, দীপজিৎ দাস, সানি দে, চরণজিৎ সিংহ, কৃশানু বসু, রাজেশ কুমার। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে জমায়েত, খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, অস্ত্র দিয়ে আঘাত, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ডব্লিউবিএমপিও (জনসুরক্ষা) আইনের ধারাও যোগ করা হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement