—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ভোট মরসুমে এ যেন অভিযোগ জানানোর টক্করে দু’পক্ষ! বিজেপি ফর্ম-৬ জমা করে ভিন্-রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গে ঢোকাতে চাইছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) সঙ্গে দেখা করে সোমবার ফের এই অভিযোগে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের মিছিল থেকে বুথ লেভল অফিসারদের (বিএলও) লক্ষ করে অশালীন ইঙ্গিত করার মতো নানা অভিযোগও তুলেছে তারা। উল্টো দিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কয়েকটি মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কমিশনে গিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি-ও।
বিজেপি ফর্ম-৬ জমা করে বিহার, উত্তরপ্রদেশের লোকজনের নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঢোকাতে চাইছে বলে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, শশী পাঁজা এবং তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়েরা সিইও-র কাছে এ দিন সেই অভিযোগই করেছেন। অরূপ বলেছেন, “এখানে (সিইও দফতরে) ১০ হাজার ফর্ম-৬ জমা পড়েছে। বিভিন্ন জেলাতেও ফর্ম-৬, ৭, ৮ জমা পড়েছে। বিহার, মহারাষ্ট্রে যা হয়েছে, সেই একই চক্রান্ত বিজেপির হয়ে এখানেও করতে চাইছে কমিশন।” জেলাভিত্তিক কত এমন ফর্ম জমা পড়েছে, তা-ও জানতে চেয়েছে তৃণমূল।
তৃণমূলের আরও অভিযোগ, শুভেন্দুর মনোনয়নের মিছিল থেকে বিএলও-দের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে জুতো ছোড়া, উস্কানির অভিযোগও তুলেছে তারা। এর সঙ্গেই বিজেপির অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি হলেও, তৃণমূল-সহ অন্য দলগুলির অভিযোগের বিষয়ে কমিশন কোনও পদক্ষেপ না-করে পক্ষপাতিত্ব করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন শশীরা।
উল্টো দিকে, মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সিইও-র সঙ্গে দেখা করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সাংসদ মহেশ শর্মা, সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী, দলের নেতা শিশির বাজোরিয়াও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী অপশব্দ ব্যবহার করেছেন, এই অভিযোগে বিরোধী নেতা শুভেন্দু-সহ বিজেপির তাবড় নেতৃত্ব সরব। সেই বিষয়ে এবং ২০০টি গাড়ি করে সিআরপি-দের অযোধ্যা দিয়ে বাংলায় পাঠানো হচ্ছে বলে মমতা যা বলেছিলেন, তা ‘অবমাননাকর’ বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। রাজারহাট-গোপালপুরের তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুনশির বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তিকে প্রচারে, তৃণমূলের প্রচার ভিডিয়োয় শিশুদের ব্যবহারের মতো অভিযোগও তুলেছে বিজেপি। পাশাপাশি, মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূলের যুব সভাপতি ইমরান হাসান মোল্লার বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও অভিযোগ জানানো হয়েছে। বিজেপি নেতা মহেশ বলেছেন, “এখানে সংবিধান, আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীই তা অগ্রাহ্য করছেন। পুলিশ কী ভাবে গুন্ডাদের সুরক্ষা দিচ্ছে, তা-ও তুলে ধরা হয়েছে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে