Swarup Biswas Debate Rpw

বেশি পারিশ্রমিক দাবি, শাকিবকে ডাক সুরুচি সঙ্ঘে! স্বরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগ বাংলাদেশি প্রযোজকের

নতুন সরকারের কাছে প্রযোজক শিরিন সুলতানার আর্জি, “এমন পরিবেশ তৈরি করে দিন, যাতে আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মজবুত হয়।”

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ১৮:২৬
Share:

শাকিব খান এবং স্বরূপ বিশ্বাস। ছবি: ফেসবুক।

কথা দিয়েছিলেন, টেকনিশিয়ানদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের চেয়ে মাত্র দেড় গুণ বেশি পারিশ্রমিক দিলেই হবে। শাকিব খানের সঙ্গে সুরুচি সঙ্ঘে বিশেষ বৈঠকের বার্তাও দিয়েছিলেন। শুটিংয়ের মাঝপথেই নাকি সুর বদলে যায় তৎকালীন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের। কলকাতায় ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপ অন এ টাইম ইন ঢাকা’র শুটিংয়ে টেকনিশিয়ানদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের তিন গুণ বেশি দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ প্রযোজক শিরিন সুলতানার।

Advertisement

রাজ্য-রাজনীতিতে পালাবদলের পর বদল টলিউডেও। আর ফেডারেশন সভাপতির পদে নেই স্বরূপ। তিনি একাধিক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, গত বছর তাঁর মেয়াদ শেষ। স্বরূপের মেয়াদ ফুরোতেই আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে মুখ খুললেন প্রযোজক শিরিন। তাঁর অভিযোগ, “ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, কলকাতায় কাজ করলে টেকনিশিয়ানদের আড়াই গুণ বেশি পারিশ্রমিক দিতে হয়। কিন্তু স্বরূপবাবু শুরুতেই বলেন, ‘চিন্তা করবেন না। দেড় গুণ পারিশ্রমিক দিলেই আপনারা এখানে কাজ করতে পারবেন। আমরা চাই দুই দেশের মধ্যে আরও কাজ হোক।’ আমরা ভারত সরকারের থেকে উত্তরপ্রদেশের লখনউ-সহ নানা জায়গায় শুটিংয়ের অনুমতি পেয়েছিলাম। স্বরূপবাবু আশ্বাস দিয়ে জানান, কোথাও যেতে হবে না। কলকাতায় আমরা স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারি।”

স্বরূপের ব্যবহারে সে দিন আপ্লুত প্রযোজক শিরিন। তিনি আরও বলেন, “স্বরূপবাবু শাকিব খানকে সুরুচি সঙ্ঘে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমাদের বলেছিলেন, ‘বিশেষ বৈঠক করব। এতে দুই দেশের কাজের সম্ভাবনা বাড়বে।’ শুনে শাকিব ভাইও রাজি।” নির্দিষ্ট দিনে শাকিব খানকে নিয়ে সুরুচি সঙ্ঘে উপস্থিত হন প্রযোজক। স্বরূপ নাকি লোক মারফত জানান, তিনি জরুরি বৈঠকে ব্যস্ত। ফিরিয়ে দেন শাকিব খানকে! এখানেই শেষ নয়। শিরিনের আরও অভিযোগ, “এর পরেই স্বরূপবাবু হঠাৎ একদিন ফোন করে জানান, তিন গুণ বেশি পারিশ্রমিক দিতে হবে টেকনিশিয়ানদের। নইলে কাজ বন্ধ।” তত দিনে ১০ দিনের শুটিং হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

শুনে মাথায় হাত প্রযোজক শিরিনের। তিনি ছবির কলকাতার একজ়িকিউটিভ প্রোডিউসার অরিন্দম দাসকে নিয়ে তড়িঘড়ি স্বরূপের অফিসে যান। এ দেশে আড়াই গুণ বেশি পারিশ্রমিকের নিয়মের কথা উল্লেখ করেন অরিন্দম। একজ়িকিউটিভ প্রোডিউসারের অভিযোগ, “আমায় স্বরূপদা হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তুমি তো কলকাতাতেও অন্য ছবির কাজ করবে। চুপচাপ থাকো। নইলে ‘ব্যান’ হয়ে যাবে।’ শেষে তিন গুণ বেশি পারিশ্রমিক দিয়েই শুটিং শেষ করেন প্রযোজক। তাঁর কথায়, “খরচ বেড়ে যাচ্ছে জানিয়ে স্বরূপবাবুর কাছে অনেক অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তিনি কানেই তোলেননি!”

বিষয়টি নিয়ে তাই নতুন সরকারের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন ‘প্রিন্স’ ছবির প্রযোজক। ইতিমধ্যেই বিষয়টি জানানো হয়েছে টলিউডের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম রুদ্রনীল ঘোষকে। নতুন সরকারের কাছে প্রযোজক শিরিন সুলতানার আর্জি, “এমন পরিবেশ তৈরি করে দিন, যাতে আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মজবুত হয়। স্বরূপবাবুর মতো মানুষেরা আদতে দুই বাংলার শত্রু। আমরা আরও বেশি করে ভারতে এসে কাজ করতে চাই।”

বিষয়টি সবিস্তার জানতে স্বরূপ এবং রুদ্রনীল— উভয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল।

রুদ্রনীলের কথায়, “একটা সময় ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় প্রচুর ছবি হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক ভাল হোক, আমরা সবাই চাই। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে, কিছু দিন আগে বাংলাদেশ যখন অস্থির, তখন ও পার বাংলার বেশ কিছু ব্যক্তিত্ব ভারত সম্পর্কে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁদের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন পদ্মাপারের শিল্পীরাও।” রুদ্রনীলের মতে, সেই সময়েও ভারত যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছে। কারণ, ও পার বাংলার জন্য আলাদা আবেগ কাজ করে এ পার বাংলার মনে। তার পরেও বিষয়টি আন্তর্জাতিক। ভারতে কাজ করা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে দুই দেশের শীর্ষনেতৃত্ব, মনে করিয়ে দেন বিজেপি অভিনেতা-বিধায়ক। পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতায় কাজের প্রসঙ্গে তাঁর মত, “এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরাসরি কথা বললে মনে হয় বেশি ভাল হবে। তিনি প্রযোজক শিরিন সুলতানাকে সঠিক দিশা দেখাতে পারবেন।”

ফেডারেশন সভাপতির কুর্সি সরতেই যিনি অভিযোগের কাঠগড়ায়, সেই স্বরূপ এই বিষয়ে কী বললেন?

স্বরূপের স্পষ্ট জবাব, “ওঁরা তিন গুণ নয়, আড়াই গুণ বেশি পারিশ্রমিক দিয়েছেন, যা কলকাতার টেকনিশিয়ানদের জন্য ধার্য। কিচ্ছু বেশি পারিশ্রমিক দেননি। আমিও কোনও দিন শুটিং আটকাইনি।” একজ়িকিউটিভ প্রোডিউসার অরিন্দম প্রসঙ্গে বলেন, “ওঁকে চিনি। অরিন্দম ভীষণ কথা বদলে দেন। ওঁর কথার উত্তর না দেওয়াই ভাল।” তবে শাকিব খানের সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, সুরুচি সঙ্ঘে নয়, ফেডারেশনের অফিসে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। আগামী দিনে বাংলাদেশের ছবির শুটিং যাতে আরও বেশি করে কলকাতায় হয়, তার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জন্যই তিনি বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। স্বরূপের কথায়, “শাকিব খান আসবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু বৈঠকের আগেই তিনি পেটের সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই সময়ে তিন দিন শুটিংও করতে পারেননি। আমাদের বৈঠক ভেস্তে যায়।”

ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতির পাল্টা অনুযোগ, “কুর্সিতে নেই। এখন অনেকেই বিস্তর অভিযোগ জানাবেন আমার বিরুদ্ধে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement