Hiraan Chatterjee Interview

‘ব্রহ্মচারীর জীবনও কাটিয়েছি’, বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পরে আর কী বললেন হিরণ?

নির্বাচনের আগে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিপুল বিতর্ক হয়েছে। তার পরে তো অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাবেন না হিরণ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ১৭:৫৫
Share:

হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে এ বার কি বড়পর্দায় দেখা যাবে? ছবি: সংগৃহীত।

বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে জিতেছেন বিজেপির হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়। নির্বাচনের আগে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিপুল বিতর্ক হয়েছে। তার পরে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে, বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাবেন না হিরণ। এত আলোচনা, সমালোচনা কাটিয়ে এ বার জয় প্রসঙ্গে কী বললেন হিরণ?

Advertisement

জয় নিয়ে একেবারেই উত্তেজিত নন অভিনেতা। হিরণ বললেন, “এখানে শিল্প চাই। নতুন প্রজন্মের অধিকাংশই বেঙ্গালুরু চলে যাচ্ছেন কর্মসূত্রে। কেন যাচ্ছেন? সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে আশা, স্বপ্ন নিয়ে ভোট দিয়েছেন, সেগুলো পূরণ করতে হবে। রাজ্য তো ৫০ বছর পিছিয়ে গিয়েছে।”

নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকে হিরণ। ছবি: ফেসবুক।

তিনি জানান, সরকার সবার। নির্বাচনে জয়ের পরে তাঁর একমাত্র কাজ হবে, মানুষের সব আশা পূরণ করা। ২০০৭ সালে ‘নবাব নন্দিনী’ ছবির মাধ্যমে অভিনেতা হিরণের পথচলা শুরু। যদিও রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরে সে ভাবে আর বড়পর্দায় দেখা যায়নি অভিনেতাকে। পালাবদলের পরে অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, তৎকালীন শাসকদল ঘনিষ্ঠ না হলে অভিনয়ে সুযোগ পাওয়া কঠিন হত। তা হলে এ বার কি হিরণকেও আবার দেখা যাবে বড়পর্দায়? শ্যামপুরের বিধায়ক বলেন, “রাজনীতি তো পার্ট-টাইম কাজ নয়। এটা সর্ব ক্ষণের কাজ। পাঁচ বছর ধরে খড়্গপুরে পড়েছিলাম। তবেই আমি দেখাতে পেরেছি যে, কাজ করেছি। টালিগঞ্জে যে তৃণমূলীকরণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ভাই— তার ফলে তো অনেকে পার্ট-টাইম কাজ হিসাবে দেখেছে রাজনীতিকে। আমি সে ভাবে দেখি না আমার কাজকে।”

Advertisement

নাম না করে ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেবকে বিঁধে হিরণের দাবি, “ঘাটালে যখন মানুষ জলে ডুবে যাচ্ছে, তখন আমি চেষ্টা করছি কী ভাবে তাঁদের রক্ষা করা যায়। এ দিকে সেই সময়ে সেখানকার সাংসদ বিদেশ থেকে নিজস্বী তুলে পোস্ট করছেন।”

শ্যামপুরের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ হিরণ। ছবি: ফেসবুক।

কম বয়সে মা-বাবাকে হারিয়েছেন হিরণ। কলকাতায় স্নাতক পড়ার সময়ে মঠে থাকতেন। হিরণ বললেন, “ব্রহ্মচারীর জীবন কাটিয়েছিলাম। তখন তো মেসবাড়িতে থাকার টাকা ছিল না।” সেখানে থেকেই ধাপে ধাপে জীবনকে অন্য ভাবে গড়ে তুলেছেন হিরণ। নামী সংস্থায় চাকরিও করেছিলেন বহু বছর। এত কিছু পেরিয়েও জীবনে এসেছে বিতর্ক। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্কের জন্য এই বার ভোটের টিকিটই হয়তো পাবেন না হিরণ। এই প্রশ্নে তাঁর স্পষ্ট উত্তর, “দল দু’ভাগে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এটা একেবারেই দলের অন্দরের সিদ্ধান্ত। এখানে এত কিছু ভেবে নিয়ে আলোচনা করার জায়গাই নেই।” শ্যামপুরের সঙ্গে তাঁর শৈশবের যোগ। ওখানেই তাঁর মামার বাড়ি। সেখানকার মানুষ যে তাঁর উপরে ভরসা রেখেছেন, তাতেই কৃতজ্ঞ হিরণ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement