আইনি বিপাকে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।
এ বার আইনি গেরোয় অভিনেত্রী, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, আরজি কর আন্দোলনের সময়ে তিনি নাকি সমাজমাধ্যমে একাধিক বার মৃতা তরুণী চিকিৎসকের নাম প্রকাশ্যে এনেছিলেন। খবর, সেই ঘটনা সামনে রেখে মঙ্গলবার তাঁর বিরুদ্ধে চারু মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জনৈক আইনজীবী। আনন্দবাজার ডট কম-কে খবরের সত্যতায় সিলমোহর দিয়েছে চারু মার্কেট থানার পুলিশ।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগকারী সরাসরি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন থানার বড়বাবু সুশান্ত কুণ্ডুর কাছে।
এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলেছেন রচনাও। ‘দিদি নম্বর ১’-এর সেট থেকে তিনি বলেন, “সেই সময়ে ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে মনখারাপ ছিল সকলের। আমিও নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। ফলে, ভুলবশতঃ নাম নিয়ে ফেলেছি। যা আমার করা উচিত হয়নি।” তিনি এ-ও জানান, যে ভিডিয়ো এখন আলোচনার কেন্দ্রে, সেখানে কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। এক তরুণী চিকিৎসক এ ভাবে ফুরিয়ে যাবেন, মানতে পারেননি তিনিও।
দু’বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে হঠাৎ কেন অভিযোগকারী সরাসরি থানায় চলে গেলেন? খবর, তারকা সাংসদের বিরুদ্ধে সে সময়ে অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে আইনজীবী জানিয়েছেন, সেই সময়ে রচনার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রচনাও। পাশাপাশি এ-ও জানিয়েছেন, অভিযোগকারী যখন আইনি পথে হেঁটেছেন, তখন তিনিও একই পন্থা অবলম্বন করবেন। বলেন, “আগামী দিনে আমি নয়, এ বিষয়ে আমার আইনজীবী কথা বলবেন।”
প্রসঙ্গত, অভিযোগনামায় অভিযোগকারী জানিয়েছেন, আরজি কর হাসপাতালের ধর্ষণ এবং খুন হওয়া তরুণী চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করে একটি ভিডিয়োবার্তা ভাগ করে নিয়েছিলেন অভিযুক্ত তারকা সাংসদ। সেখানে তিনি নাকি একাধিক বার নির্যাতিতার নাম উল্লেখ করেছিলেন। যা আইনত নিষিদ্ধ। সেই সময়ে অভিযোগকারী লিখিত ভাবে অভিযোগ জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট থানায়। রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদল ঘটতেই তিনি ফের দ্বারস্থ প্রশাসনের। আরও একবার ঘটনার উল্লেখ করে চারু মার্কেট থানাতেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই আইনজীবী। প্রশাসনের কাছে তাঁর আর্জি, তারা যেন অবিলম্বে রচনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে।