কোন বয়সে কী ডোজ়ে আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া জরুরি? ফাইল চিত্র।
অতিরিক্ত আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে ফেলে অসুস্থ মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলার ১৯ জন স্কুলপড়ুয়া। সূত্রের খবর, চন্দ্রপুর জেলার একটি সরকারি স্কুলে প্রতি সোমবার করে ছাত্রছাত্রীদের আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। জানা গিয়েছে, যে ট্যাবলেটগুলি বাড়তি ছিল সেগুলি পড়ুয়ারা তার পরের দিনও খেয়ে ফেলে। তার পরেই বমি, পেটের সমস্যা দেখা দেয়। অসুস্থ অবস্থায় ১৯ জনকে ভর্তি করা হয় জেলা হাসপাতালে।
রক্তাল্পতা রোধে স্কুলপড়ুয়াদের আয়রন-ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়ানো হয় অনেক জায়গাতেই। রক্তল্পতা রোধেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। অনেক শিশুই পুষ্টিকর খাবার খায় না, তাদের রক্তে হিমোগ্লাবিনেরও ঘাটতি থাকে। সে জন্যই এই প্রকল্প শুরু হয়েছে অনেক জায়গাতে। পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সিদের সপ্তাহে একদিন এই ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। তবে নির্দিষ্ট ডোজ়ে। জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, আয়রনের অভাবে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ কম হয়, দুর্বলতা বাড়ে। মনোযোগেরও ঘাটতি হয়। সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত আয়রন ট্যাবলেটে কী ক্ষতি হতে পারে?
আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম আছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, খালি পেটে কখনওই আয়রন ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। ওই পড়ুয়ারা নিশ্চয়ই খালি পেটে ওষুধগুলি খেয়েছিল। তাই বমি, পেটের সমস্যা শুরু হয়।
যাদের শরীরে আগে থেকেই আয়রনের মাত্রা ঠিক আছে, তারা অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। মাথা ঘুরবে, ক্লান্তি বাড়বে, পেটে যন্ত্রণা শুরু হবে। রক্তচাপ আচমকা কমে যেতে পারে।
অতিরিক্ত আয়রন ওষুধে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হবে, ঘন ঘন ডায়েরিয়া হতে থাকবে। অতিরিক্ত আয়রন লিভার ও হার্টে জমা হয়। ফলে লিভার সিরোসিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
অনেক সময় ওষুধের মান বা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার ফলেও এমনটা ঘটতে পারে। যদি তেমন হয়, কেউ মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ খেয়ে ফেলে, তা হলে শরীরে বিষক্রিয়াও হতে পারে।
সঠিক ডোজ় কী?
বয়স অনুযায়ী আয়রন সাপ্লিমেন্টের নির্দিষ্ট ডোজ় আছে। ৪ থেকে ৮ বছরের শিশু হলে, দিনে ১০ মিলিগ্রামের বেশি সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যাবে না। ৯ থেকে ১৩ বছরে সেই ডোজ়ই হবে ৮ মিলিগ্রামের আশপাশে। ১৪ থেকে ১৮ বছরের ছেলের ক্ষেত্রে ১১ মিলিগ্রাম ও মেয়েদের ক্ষেত্রে ডোজ় হল ১৫ মিলিগ্রাম। তবে যদি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুব কম হয়, সে ক্ষেত্রে ডোজ় আলাদা হবে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াও জরুরি। কার শরীরে আয়রনের মাত্রা কতটা তা দেখেই ওষুধ দিতে হবে।