টিবির সঙ্গে লড়াই করার জন্য কী ভাবে প্রস্তুতি নেবেন। ছবি: সংগৃহীত।
বাতাসের মাধ্যমে এক জনের শরীর থেকে অন্যের শরীরে ছড়ায়। এমনই ভয়ঙ্কর রোগ এই যক্ষ্মা বা টিউবারকিউলোসিস (টিবি)। কিন্তু সেই রোগ নিয়ে যথেষ্ট সচেতনতা নেই। এটি এমনই এক সংক্রামক রোগ, যা মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের ফলে হয়। যা মূলত ফুসফুসকে আক্রমণ করে। তবে শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন কিডনি, মেরুদণ্ড বা মস্তিষ্ককেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই যক্ষ্মার থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখা একান্ত প্রয়োজন।
যক্ষ্মার থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখা একান্ত প্রয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে এই রোগ আরও সহজে শরীরকে আক্রমণ করতে পারে। তাই শরীরে যথেষ্ট পুষ্টির জোগান দিতে পারলে এই রোগ থেকে দূরে থাকা যায় বা দ্রুত সেরে ওঠা যায়। কোন কোন অভ্যাস রপ্ত করা দরকার?
১. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার, টাটকা ফলমূল, শাকসব্জি খেয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত করা প্রয়োজন। গোটা দানাশস্য, মিলেট, ডাল, বাদাম, বীজ ইত্যাদি রাখতে হবে রোজের পাতে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। নুন ও চিনিযুক্ত খাবার, বেশি ভাজাভুজি ইত্যাদি খেলে অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়াগুলি পুষ্ট হয়। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তাই সুষম আহারের দিকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে।
২. সূ্র্যালোকের সংস্পর্শে থাকতে হবে। রোজ ১৫-২০ মিনিট রোদে থাকলে শরীরে ভিটামিন ডি উৎপাদন হবে। টিবির সঙ্গে লড়াই করার জন্য সক্ষম কোষগুলি এর ফলে সক্রিয় হবে। তাতে রোগের ঝুঁকি কমবে, বা রোগ দ্রুত নিরাময় হবে।
৩. শরীর যেন জলশূন্যতায় না ভোগে। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেয়ে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করতে হবে। শরীর দ্রুত সেরে ওঠার সুযোগ পাবে এর ফলে।
৪. সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমোলে শরীর দুর্বল থাকে। স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্যরক্ষা করাও কঠিন হয়ে যায়। ঘুমের সময়ে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করে এবং নতুন শক্তি সঞ্চয় করে। গভীর ঘুমের সময়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিশেষ কিছু প্রোটিন (সাইটোকাইন) তৈরি করে, যা টিবি ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
৫. ঘরে হাওয়া চলাচলের সুব্যবস্থা রাখতে হবে। রোজ অন্তত দু’বার ৩০ মিনিটের জন্য সামনাসামনি থাকা জানালা ও দরজাগুলি খুলে দিন। এতে ঘরে ‘ক্রস-ভেন্টিলেশন’ বা বাতাস চলাচলের পথ তৈরি হবে। টিবির জীবাণু বদ্ধ বাতাসে বেশি ক্ষণ টিকে থাকে। নিয়মিত বিশুদ্ধ বাতাস চলাচল করলে ঘরের বাতাসে জীবাণুর ঘনত্ব প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।