ডায়াবিটিসের রোগীরা কোন নিয়ম মেনে আম খাবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
আমের মরসুমে ফলাহার না হলে হয়! হিমসাগর, ল্যাংড়া, আলফানসো— রসালো আমের লোভ সামলানো কঠিন এই সময়ে। কিন্তু ডায়াবিটিস থাকলে অনেকেই আম খেতে ভয় পান। মিষ্টি ফলে কামড় দিলে যদি রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যায়! ফলে অনেকেই পুরোপুরি আম খাওয়া বন্ধ করে দেন। আম থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন, না কি কী খেতে পারেন, তা নিয়ে জেনে নেওয়া উচিত প্রত্যেক ডায়াবিটিস রোগীকে।
মধুমেহ রোগের চিকিৎসক আশিস মিত্র জানাচ্ছেন, আমের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স খুব বেশি নয়, আবার কমও নয়। কিন্তু বেশি পরিমাণে খেলে সত্যিই রক্তে সুগার বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসক ডায়াবিটিস রোগীদের আম খাওয়ার কয়েকটি নিয়ম বলে দিলেন।
আম খাওয়ার নিয়ম জেনে নিন। ছবি: সংগৃহীত
সুগারের রোগীদের জন্য আম খাওয়ার নির্দেশাবলি—
১. আম খেতে ইচ্ছে করলে ডায়াবিটিসের রোগীদের পরিমাণের কথা মাথায় রাখতে হবে। একটি গোটা আমের তিন ভাগের এক ভাগ খেলে অসুবিধা হবে না। ৫০-৬০ গ্রামের বেশি খাওয়া উচিত নয় দিনে। তবে রোজ না খেয়ে মাঝে মধ্যে খেলেই ভাল।
২. অনেকগুলি ফলের সঙ্গে মিলিয়ে আম খেতে হবে। চিকিৎসক বলছেন, ‘‘আমের সঙ্গে জাম, জামরুল, শসা, আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি ইত্যাদি মরসুমি ফল খেতে পারেন। আমের সঙ্গে অন্য এমন ফল যদি খাওয়া যায়, যেগুলির গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স কম, তা হলে রক্তে শর্করা চট করে বাড়তে পারবে না।
৩. লোভ সংবরণ করতে না পেরে অনেকে রাতে ভাত-রুটি খাওয়ার পর আম খেয়ে ফেলেন। এই অভ্যাস সুগারের রোগীদের জন্য বিপজ্জনক। চিকিৎসকের কথায়, ‘‘সন্ধ্যার পর থেকে জিএলপি-১ এবং ইনসুলিন হরমোনের কর্মক্ষমতা কমে যায়। তাই সুগার বেড়ে যেতে পারে রাতে। তাই চেষ্টা করবেন, প্রাতরাশ এবং মধ্যাহ্নভোজের মাঝে আম খেতে। অথবা মধ্যাহ্নভোজের খানিক পরেও খেতে পারেন।’’
৪. ৫০-৬০ গ্রামের বেশি আম খেয়ে ফেললে খাওয়ার পরমুহূর্তেই ১৫-২০ মিনিট হাঁটতে হবে। নয়তো হঠাৎ রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
৫. ফল দিয়ে বানানো স্যালাড খাওয়ার সময়ে টক দই মিশিয়ে দিতে পারেন। এর ফলেও সুগার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।