লেবুর জল ছাড়া আর কী কী ভাবে ভিটামিন সি গ্রহণ বাড়ানো যায়? ছবি: সংগৃহীত।
ওজন কমানোর সবচেয়ে সাধারণ টোটকা কী? সিংহভাগ স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মুখে প্রথমেই উঠে আসবে— সকালে খালি পেটে লেবুর জল খাওয়া। ওজন হ্রাসের একমাত্র উপায় হিসেবে এটিকেই ধরে নেন অনেকে। কিন্তু সারা দিনের খাদ্যাভ্যাসেও লেবুকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেওয়া যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তাতেই উপকার বেশি হয়। লেবুকে শুধু সকালের রুটিনে বেঁধে না রেখে নানা ভাবে খাদ্যতালিকায় যোগ করাই বেশি কার্যকর।
লেবুতে ক্যালোরির পরিমাণ কম এবং তা ভিটামিন সি-তে ভরপুর। রক্তে শর্করা বা শরীরে চর্বি না বাড়িয়েই খাবারে স্বাদ বৃদ্ধি করতে পারে লেবু। তাই খাবারে নানা ভাবে লেবু খেলে ওজন হ্রাসের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও ভাল হয়। লেবু শরীরে জলশূন্যতা কমায়, হজমক্ষমতা বৃদ্ধি করে, মানসিক প্রশান্তি আনে, ত্বক ও চুলে ঔজ্জ্বল্য ফেরাতে পারে।
লেবুকে কী কী ভাবে ব্যবহার করবেন? ছবি: সংগৃহীত।
সকালে জলে মেশানোর বদলে আর কী কী ভাবে লেবু খাওয়া যেতে পারে?
১. স্যালাডে লেবুর রসের ব্যবহার
অতিরিক্ত ড্রেসিং বা তেল ব্যবহার না করে কাঁচা সব্জির স্যালাডে লেবুর রস দিলে স্বাদ বাড়ে, কিন্তু ক্যালোরি বাড়ে না। এতে খাবার হালকা থাকে এবং পেট ভরার অনুভূতিও আসে।
২. ভেষজ চায়ে লেবুর রসের ব্যবহার
গ্রিন টি, আদা চা, দারচিনি বা তুলসী দিয়ে বানানো চা বা অন্যান্য ভেষজ চায়ে লেবুর রস মেশানোর অভ্যাস রয়েছে অনেকের। চা কাপে ছাঁকার পর টাটকা লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। এই চা শরীরকে সতেজ রাখে। এতে দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত জল খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৩. খাবারে লেবুর খোসার গুঁড়ো ব্যবহার
লেবুর কোরানো খোসা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। এসেনশিয়াল তেল, ভিটামিন এবং লিমোনিন ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো যৌগে ভরপুর খোসার এই অংশ। তরকারি বা রোস্টেড চিকেনের রান্নায় লেবুর কোরোনো খোসা মেশালে সুন্দর টক স্বাদ পাওয়া যায়। এতে অতিরিক্ত নুন ও মশলার প্রয়োজন কমে যায়। ফলে খাবার তুলনামূলক ভাবে স্বাস্থ্যকর থাকে।
৪. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারে লেবুর রসের ব্যবহার
ডাল, মাছ বা হালকা রান্না করা খাবারের উপর লেবুর রস ছড়িয়ে খেলে স্বাদ বাড়ে। এই ধরনের খাবার দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে বার বার খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে। পাশাপাশি, আয়রন সমৃদ্ধ খাবারে ভিটামিন সি যুক্ত হলে সেই খাবার থেকে শরীরে আয়রনের শোষণ বৃদ্ধি পায়।
৫. ডিটক্স ওয়াটার
সকালে খালি পেটে লেবুর জল না মিশিয়ে সারা দিন ধরে ডিটক্স ওয়াটার খেতে পারেন। তাতে শসা, পুদিনা, আদার মতো স্বাস্থ্যকর উপাদানের পাশাপাশি লেবুও মেশানো থাকে। লেবুর রস না মিশিয়ে অনেকে জলের মধ্যে লেবুর টুকরো ফেলে রাখেন। তাতেও ভিটামিন সি পৌঁছোতে পারে শরীরে।