Child Diabetes Risk

বাবা অধিক ধূমপান করলে সন্তানের ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়ে? সিগারেট টেনে শিশুর কাছে যাওয়াও বিপজ্জনক

বাবা যদি ধূমপায়ী হন এবং বাড়িতেই অতিরিক্ত ধূমপান করেন, তার বড় প্রভাব পড়তে পারে শিশুর শরীরে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্যাসিভ স্মোকিং শিশুর পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি করে। ওলটপালট হয়ে যায় হরমোনের ক্ষরণ। ফলে ডটিল অসুখবিসুখের ঝুঁকি বাড়ে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ১২:০১
Share:

বাবা ধূমপান করলে কেন শিশুর সুগার হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য শরীরের কতটা ক্ষতি করে, তা আর নতুন করে বলার কথা নয়। বিষয়টা শুধু এমন নয় যে, যিনি ধূমপান করছেন, ক্ষতিটা কেবল তাঁর। সিগারেটের ধোঁয়া আশপাশের মানুষজনের জন্যও সমান ক্ষতিকর। সে কারণেই প্যাসিভ স্মোকিং-কে এতটা বিপজ্জনক বলা হয়। এই ক্ষতিটা কিন্তু সবচেয়ে বেশি হয় শিশুদের ক্ষেত্রে। সাম্প্রতিক এক গবেষণাতেও তা বলা হয়েছে। বাবা যদি অতিরিক্ত ধূমপান করেন ও সন্তানের সামনেই সিগারেট খান, তা হলে শিশুর শুধু ফুসফুসের রোগ নয়, ডায়াবিটিসের ঝুঁকিও বাড়বে।

Advertisement

সন্তানকে কোলে নিয়ে বা ঘরে বসে সন্তানের সামনেই সিগারেট টানলে সেই ধোঁয়া শিশুর শরীরে ঢুকে তার পরিপাকতন্ত্রের উপর বড় প্রভাব ফেলবে। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা নিকোটিন শিশুর হরমোনের ক্ষরণেও বদল আনতে পারে। যে কারণে শৈশব থেকেই ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে শিশুর। এমনটাই বলা হয়েছে ‘জার্নাল অফ এন্ডোক্রিন সোসাইটি’-র একটি প্রতিবেদনে। গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, ছোটদের সামনে ধূমপান না করার সচেতনতা এখনও সমাজের সব স্তরে গড়ে ওঠেনি। শুধু বাড়িতে নয়, পথেঘাটে অনেকেই ধূমপান করার সময়ে খেয়ালই করেন না, কাছাকাছির মধ্যে কোনও শিশু আছে কি না।

বিষয়টা শুধু প্যাসিভ স্মোকিং বা সিগারেটের ধোঁয়ায় থেমে নেই। আরও বড় জটিলতাও আছে। মা যদি ধূমপায়ী হন ও অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অতিরিক্ত ধূমপান করেন, তা হলে তাঁর রক্তে মিশে থাকা নিকোটিন সন্তানের শরীরেও ঢুকবে। ফলে শিশু রক্তে অধিক শর্করা নিয়েই জন্মাতে পারে। অথবা জন্মের এক বছরের মাথায় হরমোনের গোলমালের কারণে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে শিশুর শরীরে, যা পরবর্তীতে টাইপ ১ ডায়াবিটিসের কারণ হয়ে উঠতে পারে। একই ভাবে বাবাও যদি ধূমপায়ী হন, তা হলে তাঁর শুক্রাণুর গঠনেও বদল আসতে পারে। কারণ, সিগারেটে অন্তত সাত হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে। যেগুলির মধ্যে আবার শতাধিক কার্সিনোজেনিক (ক্যানসার সৃষ্টিকারী)। বাবা ও মায়ের শরীর থেকে এই রাসায়নিক সন্তানের শরীরে চলে আসা অসম্ভব নয় বলেই দাবি করেছেন গবেষকেরা।

Advertisement

সিগারেট টেনে সন্তানের কাছে আসাও বিপজ্জনক। গবেষণা বলছে, বাইরে থেকে ধূমপান করে এসেই শিশুকে কোলে নেন অনেকে। মনে রাখবেন, এর ফলেও শিশুর শরীরে সিগারেটের বিষ প্রবেশ করে। ধূমপানের পর জামাকাপড়ে ও ধূমপায়ীর শরীরে বিষাক্ত রাসায়ানিক থেকে যায় অন্তত ঘণ্টা চারেক। এই রাসায়নিক শিশুর শরীরেও প্রবেশ করতে পারে।

সিগারেটের ধোঁয়া হোক বা ধূমপায়ী বাবা-মায়ের থেকে আসা রাসায়নিক, শিশুর বৃদ্ধিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আর ক্ষতি হতে পারে তাদের অপরিণত শ্বাসনালির। খেয়াল করে দেখবেন, শিশুরা খুব দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়। ফলে, জ্বলন্ত সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়া খুব দ্রুত টেনে নিতে পারে তারা। এই ধোঁয়া শিশুর শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখানেই জমে থাকে। ধীরে ধীরে অকেজো করে দিতে থাকে ফুসফুসকে। ফলে, ছোট থেকেই সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া বা হাঁপানির টানও উঠতে পারে শিশুর। তাই সাবধান থাকতেই হবে অভিভাবকদের। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, শিশু যেখানে রয়েছে, তার আশপাশে, বাড়ির ভিতরে, এমনকি বারান্দায় ধূমপান করাও শিশুর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement