Saba Azad Disease

খাবারে বিষক্রিয়া? সাইক্লোস্পোরিয়াসিসে ভুগে শয্যাশায়ী হৃতিকের প্রেমিকা সাবা আজাদ, কী হয়েছে তাঁর?

১৪ দিন ধরে শয্যাশায়ী সাবা আজাদ। খেতে পারছেন না। সারা ক্ষণ বমি ভাব, তীব্র ডায়েরিয়া। বাইরের খাবার ও জল না খেয়েও কী ভাবে রোগাক্রান্ত হলেন তিনি?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ১৩:২৬
Share:

ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ নয়, কী রোগে ভুগছেন হৃতিকের প্রেমিকা? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাইরের খাবার ও জল ছুঁয়েও দেখেন না। তার পরেও খাবার থেকেই বিষক্রিয়া? এমনই ভাবছেন চিকিৎসকেরা। সাইক্লোস্পোরিয়াসিস রোগে ভুগে টানা ১৪ দিন ধরে শয্যাশায়ী গায়িকা, বাচিকশিল্পী ও অভিনেত্রী সাবা আজাদ। শরীর দুর্বল, ওজনও কমে গিয়েছ চার কেজির মতো। হাঁটাচলা করতে পারছেন না ঠিক করে। কী ধরনের সংক্রমণ হল হৃতিক রোশনের প্রেমিকার?

Advertisement

সাইক্লোস্পোরা কায়েটানেনসিস নামে এক বিরল প্রকৃতির পরজীবীর সংক্রমণের শিকার সাবা। এই রোগটি ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাসঘটিত নয়। ছোঁয়াচেও নয়। এক জনের থেকে অন্য জনের শরীরে ছড়ায় না। তবে খাবার, জল ও দূষিত পরিবেশ থেকে রোগটি ছড়াতে পারে শরীরে। সাধারণত পেটের যে কোনও রোগে ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাসের ঘাড়েই যত দোষ চাপানো হয়। কিন্তু সাইক্লোস্পোরা কায়েটানেনসিস রোগটির জন্য দায়ী এক এককোষী পরজীবী। এই পরজীবীটি যখন মানুষের অন্ত্রে প্রবেশ করে, তখন সাইক্লোস্পোরিয়াসিস রোগ হয়।

সংক্রমণের উৎস কী?

Advertisement

এই পরজীবী দূষিত, পচা-বাসি খাবার, মলমূত্রে জন্মায়। সাবা জানিয়েছেন, তিনি বাইরের খাবার বা জল খান না। যেখানেই যান, সঙ্গে করে খাবার ও জল নিয়ে যান। তা হলে পরজীবীর সংক্রমণ হল কী ভাবে? পাবমেড থেকে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, শুধু রান্না খাবার নয়, কাঁচা শাকসব্জি, ফলমূল ও তরল খাবার থেকেও ছড়াতে পারে এই পরজীবী। বিশেষ করে স্যালাডে যে সব কাঁচা সব্জি ব্যবহার করা হয়, যেমন শসা, টম্যাটো, লেটুসপাতা, ধনেপাতা বা বেসিলপাতা, তার থেকে ছড়াতে পারে এটি। আবার ধনেপাতা, বেরি জাতীয় ফল থেকেও ছড়ায় সাইক্লোস্পোরা। পরজীবীটি সরাসরি এক জনের শরীর থেকে অন্য জনের শরীরে ছড়ায় না, তবে মল ও মূত্রের মাধ্যমে বাহিত হতে পারে।

পরজীবী জন্মানো খাবার বা জল পান করলে ২ থেকে ১১ দিনের মধ্যে সংক্রমণ হতে পারে। তীব্র ডায়েরিয়া হবে, শরীর জলশূন্য হয়ে পড়বে, পেটে অসহ্য যন্ত্রণা হবে। কিছু ক্ষেত্রে রোগটি হলে খিঁচুনি হতে পারে। ওজন কমে যাবে, সারা ক্ষণ বমি ভাব থাকবে, খিদে কমে যাবে। শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়বে।

রোগ থেকে বাঁচতে

এই পরজীবীর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে টাটকা ফলসব্জি খেতেই বলছেন চিকিৎসকেরা। কাঁচা আনাজ ও ফল ভাল করে ধুয়ে তবেই খেতে বলা হচ্ছে। বাজার থেকে কিনে আনা শাকপাতা বা সব্জি অথবা ফলে যে কীটনাশক লেগে থাকে তার মধ্যেও জন্মাতে পারে পরজীবী, কাজেই সেগুলি শুধু জল দিয়ে ধুলে হবে না। বরং জলে সামান্য বেকিং সোডা বা ভিনিগার মিশিয়ে ধুতে হবে।

শাকপাতা কিনে আনার পরে তা নুন-জলে বেশ কিছু ক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে হবে, তার পরে পরিষ্কার জলে ধুয়ে তবেই রান্না করতে হবে। শাকপাতা বা সব্জি ফ্রিজে তোলার আগেও ভাল করে নুন-জলে ধুয়ে নিন।

উচ্চতাপে রান্না করলে পরজীবীর সংক্রমণ হয় না। শাকসব্জি বা মাছ-মাংস ভাল করে সেদ্ধ করে তবেই রান্না করুন।

সাইক্লোস্পোরা রোগ হলে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ কাজ করবে না। পরজীবীর প্রভাব কমাতে পারবে এমন কিছু ওষুধ বাজারে রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই তা খেতে হবে। পাশাপাশি শরীর যেন জলশূন্য না হয়, সে খেয়াল রাখতে হবে। তার জন্য পর্যাপ্ত জল ও ইলেকট্রোলাইট পানীয় পান করতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement