গরমে চিনি মেশানো দুধ খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যকর? ছবি: সংগৃহীত।
দেশ জুড়ে ক্রমশই চড়ছে তাপমাত্রার পারদ। তপ্ত দিনে সামান্য ভুলত্রুটি মানেই অসুস্থতা, পেটের সমস্যা, শরীরে জলের ঘাটতি। তাপমাত্রা অতিরিক্ত চড়ে গেলে ঝুঁকি বাড়ে ‘হিট স্ট্রোক’-এরও। এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকার জন্য জনসাধারণের জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক। বেশি জল খাওয়া, শরীরে ইলকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা, চড়া রোদ এড়িয়ে চলা, হালকা সুতির পোশাক ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে বেশ কিছু পানীয় এবং খাবারের কথাও। সেই তালিকায় রয়েছে চিনি মেশানো দুধ।
সাধারণত চিকিৎসকদের পরামর্শ থাকে চিনি খাওয়া এড়িয়ে চলতে। সেখানে আয়ুষ মন্ত্রক হঠাৎ চিনি মেশানো দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে কেন? মুম্বইয়ের বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ফৌজ়িয়া আনসারি বলেন, ‘‘প্রচণ্ড গরমের কারণে মাথা ব্যথা, ডিহাইড্রেশন, পেশিতে টান, নিম্ন রক্তচাপ, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব ও বমি, ক্লান্তি, পেটের সমস্যা, মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই) এবং কিডনি সংক্রমণ ভীষণ ভাবে হচ্ছে। অনেককে প্রচণ্ড গরমে বাইরে বেরিয়ে কাজ করতে হয় এবং অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে স্বাভাবিক ভাবেই জলের ঘাটতি হয়। গরমের সময় ডিহাইড্রেশন হলে ভীষণ মুশকিল, যে কোনও ভাবেই হোক, ডিহাইড্রেশনের সমস্যা রুখতে হবে।’’
এ ক্ষেত্রে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক। এ ছাড়া ঘরে তৈরি পানীয় যেমন লেবুজল, ঘোল, লস্যি, সামান্য নুন মেশানো ফলের রসও খাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া রোজের ডায়েটে তরমুজ, খরমুজ, মুসাম্বি, আঙুর, আনারস এবং শসার মতো বেশি জল যুক্ত মরসুমি ফলও রাখা যেতে পারে। চিকিৎসকের মতে, চিনি মেশানো দুধও শরীরে জলের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে। চিকিৎসক বলেন, ‘‘এই পানীয় শরীর সতেজ ও চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। দুধে জল, প্রোটিন, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা বাইরের প্রচণ্ড গরমে শরীরকে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে কিছুটা চিনি মেশালে শরীরে আরও দ্রুত শক্তির সঞ্চার হয়। অতিরিক্ত ঘাম ও গরমের কারণে শরীর দুর্বল, ক্লান্ত বা জলশূন্য মনে হলে, এই পানীয় খেলে চটজলদি আরামবোধ হয়।’’
তবে, দুধ ও চিনি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। বিশেষ করে ডায়াবিটিস রোগী বা যাঁরা ওজন ঝরানোর ডায়েটে রয়েছেন তাঁদের ক্ষেত্রে বুঝেশুনে খেতে হবে। চিকিৎসক বলেন, ‘‘অতিরিক্ত দুধ খেলে গরমে পেট ফাঁপা, পেটে অস্বস্তি, অ্যাসিডিটি, ডায়েরিয়া বা হজমের সমস্যা শুরু হতে পারে। তাই, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তার পরই এই পানীয় খাওয়া উচিত। মাত্রাতিরিক্ত গ্রহণ করা একেবারেই উচিত নয়। মাঝেমধ্যে এই পানীয় খাওয়া যেতে পারে। তবে রোজ শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য এই পানীয় খেলে সমস্যা বাড়বে শরীরে।”